রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বৃদ্ধাকে খুন

মাদারীপুরের শিবচরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে টাকার জন্য ফজিলাতুন্নেসা নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনসহ অভিযুক্ত সোহাগ হাওলাদার (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ সুপার কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) শিবচরের পাচ্চর ইউনিয়নের হোগলার মাঠ গ্রাম আকন বাড়ির পশ্চিম পাশে পরিত্যক্ত ভিটায় মেহগনি বাগানে নিহতের অর্ধ গলিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নিহতের মেয়ে রেখা আক্তার অজ্ঞাত নামে মামলা দায়ের করলে পুলিশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটনসহ আসামিকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে ছেলেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য পাশের ছোট কুতুবপুর বাজারে যায় ফজিলাতুন্নেছা। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। ৮০ বছর বয়সী এই নারী নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের ১০ দিন পর ২২ জানুয়ারি (বুধবার) বিকেলে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের হোগলার মাঠে পাতা আনতে গেলে একটি বস্তার মুখ রশি বাঁধা অবস্থায় দেখলে সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সোহাগ হাওলাদার নামের যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সোহাগ বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইনে জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে জুয়ার টাকার জন্য ওই বৃদ্ধার গলায় থাকা স্বর্ণের চেন, কানের দুল, একটি মোবাইল চুরি করতে গিয়ে তাকে অজ্ঞান করার জন্য শ্বাসরোধ করেন। কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধা মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় সোহাগ।

গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ শিবচর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর গ্রামের মো. মফিজ হাওলাদারের ছেলে। নিহত ফজিলাতুন্নেছা একই এলাকার মৃত আবদুর রহমান আকনের স্ত্রী।

নিহতের মেয়ে রেখা আক্তার বলেন, “সামান্য গলার চেনের জন্য আমার মায়ের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমার মাকে যে খুন করেছে সেই দোষী সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সোহাগ আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।”

তিনি আরো বলেন, “সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ার টাকার জন্য বৃদ্ধাকে খুন স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে এইগুলো বিক্রি করে অনলাইনে জুয়া খেলে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি করেছিল। সেই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাত্র ৫শ টাকায় মোবাইলটি বিক্রি করে। আর স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকায়।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বৃদ্ধাকে খুন

প্রকাশিত সময় : ১২:০৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫

মাদারীপুরের শিবচরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে টাকার জন্য ফজিলাতুন্নেসা নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনসহ অভিযুক্ত সোহাগ হাওলাদার (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ সুপার কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) শিবচরের পাচ্চর ইউনিয়নের হোগলার মাঠ গ্রাম আকন বাড়ির পশ্চিম পাশে পরিত্যক্ত ভিটায় মেহগনি বাগানে নিহতের অর্ধ গলিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নিহতের মেয়ে রেখা আক্তার অজ্ঞাত নামে মামলা দায়ের করলে পুলিশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটনসহ আসামিকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে ছেলেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য পাশের ছোট কুতুবপুর বাজারে যায় ফজিলাতুন্নেছা। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। ৮০ বছর বয়সী এই নারী নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের ১০ দিন পর ২২ জানুয়ারি (বুধবার) বিকেলে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের হোগলার মাঠে পাতা আনতে গেলে একটি বস্তার মুখ রশি বাঁধা অবস্থায় দেখলে সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সোহাগ হাওলাদার নামের যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সোহাগ বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইনে জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে জুয়ার টাকার জন্য ওই বৃদ্ধার গলায় থাকা স্বর্ণের চেন, কানের দুল, একটি মোবাইল চুরি করতে গিয়ে তাকে অজ্ঞান করার জন্য শ্বাসরোধ করেন। কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধা মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় সোহাগ।

গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ শিবচর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর গ্রামের মো. মফিজ হাওলাদারের ছেলে। নিহত ফজিলাতুন্নেছা একই এলাকার মৃত আবদুর রহমান আকনের স্ত্রী।

নিহতের মেয়ে রেখা আক্তার বলেন, “সামান্য গলার চেনের জন্য আমার মায়ের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমার মাকে যে খুন করেছে সেই দোষী সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সোহাগ আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।”

তিনি আরো বলেন, “সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ার টাকার জন্য বৃদ্ধাকে খুন স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে এইগুলো বিক্রি করে অনলাইনে জুয়া খেলে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি করেছিল। সেই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাত্র ৫শ টাকায় মোবাইলটি বিক্রি করে। আর স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকায়।”