মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসনাতকে ‘সাহসী’ বলে অভিহিত করে যা বললেন সারজিস

রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থী ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি এ ধাওয়া চলে রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সেখানে উপস্থিত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে একপর্যায়ে তাকে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছেন ছাত্ররা। সেসময় শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি শান্ত করতে অনুরোধ করতে দেখা যায় তাকে। এদিকে, সংঘর্ষে জড়িত শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে ব‍্যর্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট‍্যাটাস দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সারজিস আলম। ফেসবুক তিনি স্ট‍্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আশেপাশে এমন বহুত শত্রু আছে, যারা সুযোগ পেলে খুন করে ফেলবে। এইটা জানার পরেও মবের মধ্যে ঢুকে মারামারি থামানোর কথা বলতে হেডম লাগে। অন্য কেউ এই সাহস করে নাই।

সাহস করেছে হাসনাত আব্দুল্লাহ। সাহসটা করার জন্যে হাসনাতকে মাথায় তুলে ফেলতে হবে, সেটা বলছি না। তবে ন্যূনতম অ্যাপ্রিশিয়েটটা অন্তত করতে শেখেন। হয়তো ফলাফল প্রত্যাশিত হয়নি, কিন্তু এর চেয়েও খারাপ কিছু হতে পারতো ৷ সবচেয়ে বড় কথা উদ্দেশ্য সৎ ছিল।” সারজিস আরও লিখেছেন, ‘এই ছেলেটার সমস্যা হলো— এর মাথা গরম আর সবসময় গ্রেটার পারসপেক্টিভ চিন্তা করে।

কিন্তু সত্যি এটাই যে, মাথা গরম বলেই সেই জুলাইয়ে ভিসি চত্বরে গায়েবানা জানাজা শেষে— যখন সবাই পুলিশের টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড আর ছররা বুলেটে দিকবিদিক ছুটে যাচ্ছিল, তখন এই ছেলেটা সর্বপ্রথম স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ওই পুলিশের দিকে দুই হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে যায়। আর বলে ‘we are open to killed!’ ঠিক যেমনিভাবে গতকাল গিয়েছিল। এই ছেলেটাই সেই জুলাইয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে রাজাকার রাজাকার মিছিলের সামনের সারিতে মাঝখানে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, যখন অনেকেই নিজেকে সেফ জোনে রেখেছিল। এই ছেলেটাই সর্বপ্রথম এবং একা সচিবালয়ে আনসার লীগের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে এবং পরবর্তীকালে ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় সচিবালয় অনেকটা সুরক্ষিত হয়ে ওঠে।

” এরপর তিনি লিখেছেন, ‘এই মাথা গরম ক্ষ্যাপা ছেলেটার দোষ হচ্ছে— যখনই কোথাও অস্থিতিশীল অবস্থা দেখা দেয়, ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যায়, তখনই এ কোনো কিছু চিন্তা না করে সমাধানের জন্য ছুটে যায়৷ হোক সেটা ক্যাম্পাস, রাজপথ কিংবা অন্য কোথাও।’ যারা হাসনাতের ভিডিও শেয়ার করে নেতিবাচক মন্তব‍্য করছেন, তাদের উদ্দেশে সারজিস লিখেছেন, ‘আপনারা যারা শুধু ঘরে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলতে পারেন, তাদের মতো সেফ গেম প্লে না করতে পারাটা হাসনাতের সবচেয়ে বড় সমস্য।

কিন্তু তিক্ত সত্য এটাই যে, এই মাথা গরম স্বভাবওয়ালা ক্ষ্যাপা তরুণ প্রজন্মের কারণেই এই নতুন বাংলাদেশ।’ এরপর সারজিস লিখেছেন, ‘কতজনের এখন কতরকম স্বার্থ আর ধান্ধা সেটা আমরা বুঝি, অপ্রত্যাশিত কিছু হলে এরা যে আবার গর্তে যাবে সেটাও জানি৷ কিন্তু দিনশেষে চোখের সামনে রক্ত আর হাজারো জীবনের বিনিময়ে অর্জিত নতুন স্বাধীনতা রক্ষা করতে হাসনাতরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ আপনাদের মতো গুটিকয়েক ভন্ড, সুবিধাবাজ, কালপ্রিট কি বললো আর কী বিহেভ করলো তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না ৷

হাসিনার পোষারা এর চেয়ে কম বলেনি বা করেনি৷ মিনিমাম কমনসেন্স থাকলে বোঝা উচিত কারা করসে, কেন করসে। রকেট সাইন্স না বোঝাটা।’ সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘We are Hasnat & proud to be a fellow-fighter of Hasnat.

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসনাতকে ‘সাহসী’ বলে অভিহিত করে যা বললেন সারজিস

প্রকাশিত সময় : ০৮:৫১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থী ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি এ ধাওয়া চলে রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সেখানে উপস্থিত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে একপর্যায়ে তাকে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছেন ছাত্ররা। সেসময় শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি শান্ত করতে অনুরোধ করতে দেখা যায় তাকে। এদিকে, সংঘর্ষে জড়িত শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে ব‍্যর্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট‍্যাটাস দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সারজিস আলম। ফেসবুক তিনি স্ট‍্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আশেপাশে এমন বহুত শত্রু আছে, যারা সুযোগ পেলে খুন করে ফেলবে। এইটা জানার পরেও মবের মধ্যে ঢুকে মারামারি থামানোর কথা বলতে হেডম লাগে। অন্য কেউ এই সাহস করে নাই।

সাহস করেছে হাসনাত আব্দুল্লাহ। সাহসটা করার জন্যে হাসনাতকে মাথায় তুলে ফেলতে হবে, সেটা বলছি না। তবে ন্যূনতম অ্যাপ্রিশিয়েটটা অন্তত করতে শেখেন। হয়তো ফলাফল প্রত্যাশিত হয়নি, কিন্তু এর চেয়েও খারাপ কিছু হতে পারতো ৷ সবচেয়ে বড় কথা উদ্দেশ্য সৎ ছিল।” সারজিস আরও লিখেছেন, ‘এই ছেলেটার সমস্যা হলো— এর মাথা গরম আর সবসময় গ্রেটার পারসপেক্টিভ চিন্তা করে।

কিন্তু সত্যি এটাই যে, মাথা গরম বলেই সেই জুলাইয়ে ভিসি চত্বরে গায়েবানা জানাজা শেষে— যখন সবাই পুলিশের টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড আর ছররা বুলেটে দিকবিদিক ছুটে যাচ্ছিল, তখন এই ছেলেটা সর্বপ্রথম স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ওই পুলিশের দিকে দুই হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে যায়। আর বলে ‘we are open to killed!’ ঠিক যেমনিভাবে গতকাল গিয়েছিল। এই ছেলেটাই সেই জুলাইয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে রাজাকার রাজাকার মিছিলের সামনের সারিতে মাঝখানে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, যখন অনেকেই নিজেকে সেফ জোনে রেখেছিল। এই ছেলেটাই সর্বপ্রথম এবং একা সচিবালয়ে আনসার লীগের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে এবং পরবর্তীকালে ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় সচিবালয় অনেকটা সুরক্ষিত হয়ে ওঠে।

” এরপর তিনি লিখেছেন, ‘এই মাথা গরম ক্ষ্যাপা ছেলেটার দোষ হচ্ছে— যখনই কোথাও অস্থিতিশীল অবস্থা দেখা দেয়, ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যায়, তখনই এ কোনো কিছু চিন্তা না করে সমাধানের জন্য ছুটে যায়৷ হোক সেটা ক্যাম্পাস, রাজপথ কিংবা অন্য কোথাও।’ যারা হাসনাতের ভিডিও শেয়ার করে নেতিবাচক মন্তব‍্য করছেন, তাদের উদ্দেশে সারজিস লিখেছেন, ‘আপনারা যারা শুধু ঘরে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলতে পারেন, তাদের মতো সেফ গেম প্লে না করতে পারাটা হাসনাতের সবচেয়ে বড় সমস্য।

কিন্তু তিক্ত সত্য এটাই যে, এই মাথা গরম স্বভাবওয়ালা ক্ষ্যাপা তরুণ প্রজন্মের কারণেই এই নতুন বাংলাদেশ।’ এরপর সারজিস লিখেছেন, ‘কতজনের এখন কতরকম স্বার্থ আর ধান্ধা সেটা আমরা বুঝি, অপ্রত্যাশিত কিছু হলে এরা যে আবার গর্তে যাবে সেটাও জানি৷ কিন্তু দিনশেষে চোখের সামনে রক্ত আর হাজারো জীবনের বিনিময়ে অর্জিত নতুন স্বাধীনতা রক্ষা করতে হাসনাতরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ আপনাদের মতো গুটিকয়েক ভন্ড, সুবিধাবাজ, কালপ্রিট কি বললো আর কী বিহেভ করলো তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না ৷

হাসিনার পোষারা এর চেয়ে কম বলেনি বা করেনি৷ মিনিমাম কমনসেন্স থাকলে বোঝা উচিত কারা করসে, কেন করসে। রকেট সাইন্স না বোঝাটা।’ সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘We are Hasnat & proud to be a fellow-fighter of Hasnat.