মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য সোহেল তাজের

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ হাসিনার পৈতৃক বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রথমে সেখানে আগুন লাগানো হয়, পরে বুলডোজার দিয়ে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের হত্যা, গুম, নির্যাতন ও দমননীতির পরিণতি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে সোহেল তাজ এ বিষয়ে নিজের মতামত জানান।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “১৫ বছরের হত্যা, গুম, নির্যাতন, দুর্নীতি, ভোটাধিকার হরণসহ আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনেরই পরিণতি ধানমন্ডি ৩২-এর ভাঙচুর।”

পোস্টে তিনি ভাঙচুরের খবরের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে লেখেন, “কি নির্মম পরিণতি! ১৫ বছরের হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন, নিপীড়ন, গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোট অধিকার হরণ, দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার, এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পরও তারা আত্মউপলব্ধি কিংবা অনুশোচনা না করে বিদেশে বসে আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। এর পরিণতি কী হতে পারে?”

তিনি আরও লেখেন, “গণহত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন/নিপীড়নকারী, দুর্নীতিবাজ, গণতন্ত্র হত্যাকারীদের সমর্থনকারী ব্রেনওয়াশড ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলছি—আমি আপনাদের চিনি। আমার প্রশংসা আপনাদের প্রয়োজন নেই।”

তার ফেসবুক অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও গুম-খুনের রাজনীতি সমর্থন করেন, তারা দয়া করে আমার ফেসবুক পেজ আনফলো করুন।”

প্রসঙ্গত, সোহেল তাজ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে তিনি বেশিদিন সে পদে থাকেননি এবং পরে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য সোহেল তাজের

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ হাসিনার পৈতৃক বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রথমে সেখানে আগুন লাগানো হয়, পরে বুলডোজার দিয়ে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের হত্যা, গুম, নির্যাতন ও দমননীতির পরিণতি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে সোহেল তাজ এ বিষয়ে নিজের মতামত জানান।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “১৫ বছরের হত্যা, গুম, নির্যাতন, দুর্নীতি, ভোটাধিকার হরণসহ আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনেরই পরিণতি ধানমন্ডি ৩২-এর ভাঙচুর।”

পোস্টে তিনি ভাঙচুরের খবরের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে লেখেন, “কি নির্মম পরিণতি! ১৫ বছরের হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন, নিপীড়ন, গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোট অধিকার হরণ, দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার, এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পরও তারা আত্মউপলব্ধি কিংবা অনুশোচনা না করে বিদেশে বসে আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। এর পরিণতি কী হতে পারে?”

তিনি আরও লেখেন, “গণহত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন/নিপীড়নকারী, দুর্নীতিবাজ, গণতন্ত্র হত্যাকারীদের সমর্থনকারী ব্রেনওয়াশড ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলছি—আমি আপনাদের চিনি। আমার প্রশংসা আপনাদের প্রয়োজন নেই।”

তার ফেসবুক অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও গুম-খুনের রাজনীতি সমর্থন করেন, তারা দয়া করে আমার ফেসবুক পেজ আনফলো করুন।”

প্রসঙ্গত, সোহেল তাজ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে তিনি বেশিদিন সে পদে থাকেননি এবং পরে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।