বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তৌহিদী জনতাকে হুমকি দেইনি, সতর্ক করেছি: মাহফুজ আলম

তৌহিদী জনতা’ নামে যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও আক্রমণ চালাচ্ছে তাদের হুমকি নয়, বরং সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, “তৌহিদী জনতা নামে আপনারা যারা নিজেদের পরিচয় দেন, তাদের আমি হুমকি দিইনি, সতর্ক করেছি। কেন করেছি? গত পনের বছর নিপীড়ন সহ্য করে এবং অভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখে সকল নাগরিকদের মতই আপনারা একটি জাতীয় সম্ভাবনা হাজির করেছেন। কিন্তু মব সংস্কৃতির কারণে তা ভুলন্ঠিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনাদেরকেই এ সম্ভাবনা রক্ষা করতে হবে।”

তৌহিদী জনতা’র ওপর কোনো ঘৃণা নেই জানিয়ে তিনি তিনি লিখেছেন, “আমার আপনাদের প্রতি ঘৃণা নেই, বরং বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের মতই আপনাদের প্রতি দরদ আছে। আলেমদের প্রতি সম্মান আছে। আমি নিজে বিশ্বাসী মুসলিম হিসাবে তৌহিদবাদী, কিন্তু কেউ তৌহিদের নামে উগ্রতা দেখালে সেটার আসন্ন পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করাও সহনাগরিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসাবে আমার কর্তব্য মনে করেছি।”

‘বাংলাদেশে এখন স্থিতিশীলতা দরকার’ উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “বিপ্লবী জনতা আর খণ্ড খণ্ড মব আলাদা জিনিস। লক্ষ্যহীন, উদ্দেশ্যবিহীন এ মব সংস্কৃতির কারণে উপকৃত হচ্ছে আমাদের শত্রুরা। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমাদের কঠোর হতে হবে।”

“এ কঠোরতার হুশিয়ারি অপরাধীদের জন্য, যারা তৌহিদের কথা বলে নিপীড়ন করছে, নৈরাজ্য করছে। কিন্তু, আগে যেভাবে ইসলামফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাধারণ মুসলিমদের নিপীড়ন করা হত, যার শিকার আমিও হয়েছি—তা কোনোমতেই আর পুনরাবৃত্ত হবে না।”

 

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ‘তৌহিদী জনতা’ সম্পর্কে  নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মাহফুজ আলম

“আলেম উলেমা, মাদ্রাসার ছাত্ররা গত ১৫ বছর নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, এবারের অভ্যুত্থানেও রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু যে স্বাধীনতা এত রক্তাক্ত, সে স্বাধীনতা রক্ষায় প্রজ্ঞা না দেখালে যে জুলুম নেমে আসবে—এ সতর্কতা উচ্চারণ যদি ভুল হয়, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আমি জালিম বা মজলুম—দুইটা হওয়া থেকেই আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।”

“পুনশ্চ: ব্যক্তি আক্রমণ, ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে আক্রমণ বা সন্দেহ তৈরি, পরিবারের সদস্যদের হুমকি বা বেইজ্জতি ইত্যাদি কাজগুলো নবীজির অনুসারী হিসাবে সবার পরিত্যাগ করা উচিত। চলুন, বিভাজন আর ঘৃণা বাদ দিয়ে রাষ্ট্রকে সবার করে গড়ে তুলি। পরস্পর সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্কই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।”

এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলায় ভারতে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বই বিক্রি ঘিরে হট্টগোলের পরিপ্রেক্ষিতে ‘তৌহিদী জনতা’র উদ্দেশ্যে শেষ অনুরোধ জানিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, এখন থেকে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টি করা হলে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তৌহিদী জনতাকে হুমকি দেইনি, সতর্ক করেছি: মাহফুজ আলম

প্রকাশিত সময় : ১১:২০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

তৌহিদী জনতা’ নামে যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও আক্রমণ চালাচ্ছে তাদের হুমকি নয়, বরং সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, “তৌহিদী জনতা নামে আপনারা যারা নিজেদের পরিচয় দেন, তাদের আমি হুমকি দিইনি, সতর্ক করেছি। কেন করেছি? গত পনের বছর নিপীড়ন সহ্য করে এবং অভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখে সকল নাগরিকদের মতই আপনারা একটি জাতীয় সম্ভাবনা হাজির করেছেন। কিন্তু মব সংস্কৃতির কারণে তা ভুলন্ঠিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনাদেরকেই এ সম্ভাবনা রক্ষা করতে হবে।”

তৌহিদী জনতা’র ওপর কোনো ঘৃণা নেই জানিয়ে তিনি তিনি লিখেছেন, “আমার আপনাদের প্রতি ঘৃণা নেই, বরং বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের মতই আপনাদের প্রতি দরদ আছে। আলেমদের প্রতি সম্মান আছে। আমি নিজে বিশ্বাসী মুসলিম হিসাবে তৌহিদবাদী, কিন্তু কেউ তৌহিদের নামে উগ্রতা দেখালে সেটার আসন্ন পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করাও সহনাগরিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসাবে আমার কর্তব্য মনে করেছি।”

‘বাংলাদেশে এখন স্থিতিশীলতা দরকার’ উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “বিপ্লবী জনতা আর খণ্ড খণ্ড মব আলাদা জিনিস। লক্ষ্যহীন, উদ্দেশ্যবিহীন এ মব সংস্কৃতির কারণে উপকৃত হচ্ছে আমাদের শত্রুরা। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমাদের কঠোর হতে হবে।”

“এ কঠোরতার হুশিয়ারি অপরাধীদের জন্য, যারা তৌহিদের কথা বলে নিপীড়ন করছে, নৈরাজ্য করছে। কিন্তু, আগে যেভাবে ইসলামফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাধারণ মুসলিমদের নিপীড়ন করা হত, যার শিকার আমিও হয়েছি—তা কোনোমতেই আর পুনরাবৃত্ত হবে না।”

 

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ‘তৌহিদী জনতা’ সম্পর্কে  নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মাহফুজ আলম

“আলেম উলেমা, মাদ্রাসার ছাত্ররা গত ১৫ বছর নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, এবারের অভ্যুত্থানেও রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু যে স্বাধীনতা এত রক্তাক্ত, সে স্বাধীনতা রক্ষায় প্রজ্ঞা না দেখালে যে জুলুম নেমে আসবে—এ সতর্কতা উচ্চারণ যদি ভুল হয়, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আমি জালিম বা মজলুম—দুইটা হওয়া থেকেই আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।”

“পুনশ্চ: ব্যক্তি আক্রমণ, ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে আক্রমণ বা সন্দেহ তৈরি, পরিবারের সদস্যদের হুমকি বা বেইজ্জতি ইত্যাদি কাজগুলো নবীজির অনুসারী হিসাবে সবার পরিত্যাগ করা উচিত। চলুন, বিভাজন আর ঘৃণা বাদ দিয়ে রাষ্ট্রকে সবার করে গড়ে তুলি। পরস্পর সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্কই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।”

এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলায় ভারতে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বই বিক্রি ঘিরে হট্টগোলের পরিপ্রেক্ষিতে ‘তৌহিদী জনতা’র উদ্দেশ্যে শেষ অনুরোধ জানিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, এখন থেকে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টি করা হলে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে।