রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। গত তিন দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি রংপুর থেকে ঢাকায় আসছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে
গত শুক্রবার আদনানের মা রংপুর মহানগরের কোতোয়ালি থানায় তাঁর ছেলের নিখোঁজ থাকার বিষয়ে জিডি করেন। এতে বলা হয়, ঢাকার সম্ভাব্য সব স্থান, আত্মীয়স্বজন ও আদনানের বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশ্য ওই জিডিতে আদনানের নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলেও গাড়িচালক ও দুই সঙ্গীর বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে আজ রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার বলেন, আদনান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় জিডি হয়েছে। সীমান্তের থানাসহ জিডির বিষয়ে সব থানাকে অবগত করা হয়েছে। জিডির বিষয়ে তদন্ত চলছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিখোঁজ হবার সময় তার সাথে গাড়িচালকসহ আরো তিনজন সহকর্মী ছিলেন। সেই তিনজন সহকর্মী এবং গাড়িটিরও কোন খোঁজ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করছেন আদনানের পরিবার।
এদিকে আদনানের খোঁজ না পেয়ে তাঁর পরিবার উদ্বিগ্ন।
আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার জানান, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
তিনি বলেন, ‘রাত ২টা ৩৭ মিনিটে তার (মি. আদনান) সাথে শেষ কথা হয়, তিনি তখন বলেছেন কাছাকাছি চলে আসছেন। উনি তখন গাবতলী ছিলেন। এরপর রাত তিনটা থেকে তার ফোন বন্ধ পাই, এখনো পর্যন্ত নম্বর বন্ধই পাচ্ছি।’
তিনি বলেছেন, নিখোঁজ হবার সময় তার সাথে গাড়িচালকসহ আরো তিনজন সহকর্মী ছিলেন।
সেই তিনজন সহকর্মী এবং গাড়িটিরও কোন খোঁজ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করছেন মি. আদনানের পরিবার।
তিনি বলেছেন স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার বিকালেই পুলিশের কাছে শরণাপন্ন হন তারা। কিন্তু রোববার বিকাল পর্যন্ত গাবতলী সংলগ্ন দারুসসালাম থানা কিংবা মিরপুর থানা কেউই মামলা গ্রহণ করেনি।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ স্বীকার করেছেন যে কোন সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেননি তারা।
এ ব্যাপারে ওসি তোফায়েল বলেন, ‘উনি (আদনান) কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন সেই লোকেশনটা তো আমরা নিশ্চিত না। উনি গাবতলী থেকে নিখোঁজ হইছে, সেটা তো আমরা জানি না। সেক্ষেত্রে যেখান থেকে উনি রওনা হয়েছেন, সেই রংপুর অথবা উনার ঢাকায় যেখানে বাসা, সেখানে জিডি হতে পারে বা মামলা হতে পারে। এখন পুলিশ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এজন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গাবতলী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আদনানকে বা তার গাড়ীকে দেখা যায়নি। বাংলাদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের জন্য পুলিশের আলাদা কোনো বিভাগ নেই।-খোলা কাগজ

দৈনিক দেশ নিউজ বিডি ডটকম ডেস্ক 

























