আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বজুড়ে আজ ভালোবাসার দিন। একই সঙ্গে বাংলা পঞ্জিকায় পহেলা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম প্রহর। ঋতুর পালাবদল আর অনুভূতির উচ্ছ্বাস এক সুতোয় গাঁথা হয়ে দিনটিকে করেছে রঙিন।
শীতের রুক্ষতা পেরিয়ে প্রকৃতি যখন নতুন রঙে সেজে ওঠে, তখনই শুরু হয় ফাল্গুন। গাছে গাছে পলাশ-শিমুলের আগুনরঙা ফুল, কোকিলের ডাক, মৃদু উষ্ণতার পরশ—সব মিলিয়ে বসন্ত হয়ে ওঠে নবজাগরণের প্রতীক।
ষাটের দশক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক চর্চায় পহেলা ফাল্গুন উদযাপন নতুন মাত্রা পায়। হলুদ-বাসন্তী পোশাক, ফুলের অলংকার, গান-কবিতা আর আবৃত্তিতে বসন্ত বরণের ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।
অন্যদিকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নিয়ে রয়েছে অনেক প্রচলিত গল্প। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে সবচেয়ে প্রচলিত তথ্য, ভালোবাসা দিবসের সূত্রপাত প্রাচীন রোমে। ইতিহাসবিদদের মতে, তৃতীয় শতকে সম্রাট ক্লডিয়াসের আমলে ‘ভ্যালেনটাইন’ নামে এক খ্রিস্টান ধর্মযাজক গোপনে প্রেমিক যুগলের বিয়ে পড়াতেন। শাসকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ১৪ ফেব্রুয়ারি তার স্মরণে পালিত হতে থাকে ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় স্মরণানুষ্ঠান ছাড়িয়ে এটি হয়ে ওঠে ভালোবাসা ও স্নেহের সর্বজনীন প্রকাশের দিন।
পশ্চিমা বিশ্বে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশেও দিবসটি পরিচিতি পেতে শুরু করে। শহুরে সংস্কৃতির বিকাশ, গণমাধ্যমের প্রভাব ও বিশ্বায়নের ঢেউয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দিবসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভালোবাসা আর বসন্ত, দুটিই মূলত নবজন্মের প্রতীক। সম্পর্কের বন্ধনে উষ্ণতা, প্রকৃতির বুকে নতুন কুঁড়ির উন্মেষ, এই দুই রূপ একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে আজকের দিনটিকে করে তুলেছে আবেগ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক বর্ণিল মিলনমেলা।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























