সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষ আমার চোখের দিকে নয়, ব্রণের দিকেই তাকাত’

ভারতীয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এ সীতার চরিত্রে তার অভিনয় নিয়ে দর্শকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

একদিকে অনেকেই তার অভিনয় দক্ষতা ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, পৌরাণিক চরিত্র সীতার সঙ্গে তার চেহারার মিল নেই।
এই বিতর্কের মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সাই পল্লবীর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি ব্রণ, গায়ের রং, সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা এবং নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প তুলে ধরেছিলেন।

সীতা চরিত্রে সাই পল্লবীকে ঘিরে বিতর্ক

‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সাই পল্লবীকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে।

অনেক দর্শকের মতে, সাই পল্লবীর সরল ব্যক্তিত্ব, মেকআপনির্ভর নয় এমন উপস্থিতি এবং শক্তিশালী অভিনয় তাকে সীতার চরিত্রের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।
তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, হিন্দু ধর্মগ্রন্থে সীতার যে সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে, তার সঙ্গে সাই পল্লবীর চেহারা পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন লিখেছেন, ‘এটি সাই পল্লবীর সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য নয়। তিনি প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ড মানতে বাধ্য নন।

কিন্তু ধর্মগ্রন্থে মা সীতার যে রূপের বর্ণনা রয়েছে, তার সঙ্গে তিনি মেলে না বলেই অনেকের আপত্তি।’
অন্যদিকে বহু দর্শক পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অভিনয় দক্ষতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

‘ব্রণ নিয়ে ঘর থেকেও বের হতে চাইতাম না’

এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাই পল্লবীর দ্য হিন্দুকে দেওয়া একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার।

সেখানে অভিনেত্রী জানান, চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি দীর্ঘদিন ব্রণ ও রোসেসিয়া সমস্যায় ভুগেছেন। নিজের চেহারা নিয়ে এতটাই অস্বস্তিতে থাকতেন যে, বাড়ির বাইরে যেতে পর্যন্ত চাইতেন না।

তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেমাম ছবির আগে আমি শত শত ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করেছি। মুখে প্রচুর ব্রণ ছিল। নিজেকে নিয়ে খুব কষ্ট পেতাম। বাড়ি থেকে বের হতেও ইচ্ছা করত না। মনে হতো, মানুষ আমার চোখের দিকে নয়, শুধু ব্রণের দিকেই তাকায় এবং সেটাই নিয়ে কথা বলে।’

‘প্রেমাম’ বদলে দিয়েছিল জীবন

সাই পল্লবীর মতে, ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া মালয়ালম সুপারহিট চলচ্চিত্র ‘প্রেমাম’ তার জীবনই বদলে দেয়।

তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে ঠিক যেমন ছিলাম, সেভাবেই গ্রহণ করেছে। তখনই বুঝেছি, আসল সৌন্দর্য আত্মবিশ্বাসের মধ্যেই রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, দর্শকদের এই ভালোবাসা তাকে নিজের মতো করে বাঁচার সাহস দিয়েছে এবং একই ধরনের অনিরাপত্তায় ভোগা তরুণ-তরুণীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

কেন ‘প্রেমাম’ দিয়েই শুরু করেছিলেন ক্যারিয়ার

একই সাক্ষাৎকারে সাই পল্লবী জানান, তিনি প্রথমে তামিল সিনেমায় নয়, মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘প্রেমাম’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তার ভাষায়, আমার সব বন্ধুই তামিল। আমি জোর করলেও তারা ‘প্রেমাম’ দেখত না। তাই ছবিটি সফল না হলেও কেউ জানত না।

তবে মুক্তির পর ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং সাই পল্লবী রাতারাতি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।

২ কোটি রুপির বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন

সাই পল্লবী বরাবরই গায়ের রং নিয়ে বৈষম্য এবং অবাস্তব সৌন্দর্যের ধারণার বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ২ কোটি রুপির একটি ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অন্যের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করি না। কিন্তু যদি আমার কোনো সিদ্ধান্ত অনেক মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে সেখানে আমাকে অবস্থান নিতে হবে। আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি, যাদের গায়ের রঙের কারণে সবসময় ছোট করা হয়েছে।’

সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা

রামায়ণে সীতার চরিত্রে সাই পল্লবীর অভিনয় নিয়ে বিতর্ক চললেও তার পুরোনো এই বক্তব্য নতুন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকের মতে, নিজের ত্বক, গায়ের রং ও অসম্পূর্ণতাকে গ্রহণ করার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।

অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ এখনও মনে করছেন, সীতার চরিত্রে কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে নির্মাতারা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। ফলে ছবিটি মুক্তির আগেই সাই পল্লবীকে ঘিরে আলোচনা ও বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিতর্ক আরও উস্কে দিতে পারে আর্জেন্টিনার নতুন জার্সি

মানুষ আমার চোখের দিকে নয়, ব্রণের দিকেই তাকাত’

প্রকাশিত সময় : ০৪:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতীয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এ সীতার চরিত্রে তার অভিনয় নিয়ে দর্শকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

একদিকে অনেকেই তার অভিনয় দক্ষতা ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, পৌরাণিক চরিত্র সীতার সঙ্গে তার চেহারার মিল নেই।
এই বিতর্কের মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সাই পল্লবীর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি ব্রণ, গায়ের রং, সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা এবং নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প তুলে ধরেছিলেন।

সীতা চরিত্রে সাই পল্লবীকে ঘিরে বিতর্ক

‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সাই পল্লবীকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে।

অনেক দর্শকের মতে, সাই পল্লবীর সরল ব্যক্তিত্ব, মেকআপনির্ভর নয় এমন উপস্থিতি এবং শক্তিশালী অভিনয় তাকে সীতার চরিত্রের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।
তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, হিন্দু ধর্মগ্রন্থে সীতার যে সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে, তার সঙ্গে সাই পল্লবীর চেহারা পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন লিখেছেন, ‘এটি সাই পল্লবীর সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য নয়। তিনি প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ড মানতে বাধ্য নন।

কিন্তু ধর্মগ্রন্থে মা সীতার যে রূপের বর্ণনা রয়েছে, তার সঙ্গে তিনি মেলে না বলেই অনেকের আপত্তি।’
অন্যদিকে বহু দর্শক পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অভিনয় দক্ষতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

‘ব্রণ নিয়ে ঘর থেকেও বের হতে চাইতাম না’

এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাই পল্লবীর দ্য হিন্দুকে দেওয়া একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার।

সেখানে অভিনেত্রী জানান, চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি দীর্ঘদিন ব্রণ ও রোসেসিয়া সমস্যায় ভুগেছেন। নিজের চেহারা নিয়ে এতটাই অস্বস্তিতে থাকতেন যে, বাড়ির বাইরে যেতে পর্যন্ত চাইতেন না।

তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেমাম ছবির আগে আমি শত শত ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করেছি। মুখে প্রচুর ব্রণ ছিল। নিজেকে নিয়ে খুব কষ্ট পেতাম। বাড়ি থেকে বের হতেও ইচ্ছা করত না। মনে হতো, মানুষ আমার চোখের দিকে নয়, শুধু ব্রণের দিকেই তাকায় এবং সেটাই নিয়ে কথা বলে।’

‘প্রেমাম’ বদলে দিয়েছিল জীবন

সাই পল্লবীর মতে, ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া মালয়ালম সুপারহিট চলচ্চিত্র ‘প্রেমাম’ তার জীবনই বদলে দেয়।

তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে ঠিক যেমন ছিলাম, সেভাবেই গ্রহণ করেছে। তখনই বুঝেছি, আসল সৌন্দর্য আত্মবিশ্বাসের মধ্যেই রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, দর্শকদের এই ভালোবাসা তাকে নিজের মতো করে বাঁচার সাহস দিয়েছে এবং একই ধরনের অনিরাপত্তায় ভোগা তরুণ-তরুণীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

কেন ‘প্রেমাম’ দিয়েই শুরু করেছিলেন ক্যারিয়ার

একই সাক্ষাৎকারে সাই পল্লবী জানান, তিনি প্রথমে তামিল সিনেমায় নয়, মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘প্রেমাম’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তার ভাষায়, আমার সব বন্ধুই তামিল। আমি জোর করলেও তারা ‘প্রেমাম’ দেখত না। তাই ছবিটি সফল না হলেও কেউ জানত না।

তবে মুক্তির পর ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং সাই পল্লবী রাতারাতি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।

২ কোটি রুপির বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন

সাই পল্লবী বরাবরই গায়ের রং নিয়ে বৈষম্য এবং অবাস্তব সৌন্দর্যের ধারণার বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ২ কোটি রুপির একটি ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অন্যের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করি না। কিন্তু যদি আমার কোনো সিদ্ধান্ত অনেক মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে সেখানে আমাকে অবস্থান নিতে হবে। আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি, যাদের গায়ের রঙের কারণে সবসময় ছোট করা হয়েছে।’

সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা

রামায়ণে সীতার চরিত্রে সাই পল্লবীর অভিনয় নিয়ে বিতর্ক চললেও তার পুরোনো এই বক্তব্য নতুন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকের মতে, নিজের ত্বক, গায়ের রং ও অসম্পূর্ণতাকে গ্রহণ করার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।

অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ এখনও মনে করছেন, সীতার চরিত্রে কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে নির্মাতারা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। ফলে ছবিটি মুক্তির আগেই সাই পল্লবীকে ঘিরে আলোচনা ও বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।