নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যারাই ব্যবহার করছেন সবার পকেটে কোনো না কোনোভাবে উঠেছে নগদ-এর সুবিধা। নগদ ব্যবহারকারীরা সরাসরি লাভের অঙ্ক গুনতে পেরেছেন। এমন কি অন্য এমএফএস ব্যবহারকারীরাও নগদ-এর প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুফল পেয়েছেন।
গত এক বছরের হিসাব ধরলেও নগদ-এর গ্রাহকদের পকেটে লাভ উঠেছে হাজার কোটি টাকার ওপরে। অঙ্কটি হতে পারে ১ হাজার ৭ কোটি টাকা। অক্টোবর ২০২০ থেকে শেষ হওয়া আগস্ট পর্যন্ত সময়ে নগদ-এর গ্রাহকেরা কম খরচে ক্যাশ-আউট, চার্জ ফ্রি সেন্ড মানি ও বিল পে করে একদিকে যেমন নিজেদের সাশ্রয় করেছেন, অন্যদিকে আবার সঞ্চয় থেকে অতিরিক্ত মুনাফা পেয়েছেন, পেয়েছেন কেনাকাটায় সাশ্রয় সুবিধা।
এছাড়া ঘরে বসে নিঝর্ঞ্ঝাট অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো খরচ না হওয়া- সব মিলে নগদ তার সাড়ে পাঁচ কোটি গ্রাহকের জন্যে হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি এমন একটি হিসাব মিলেছে অপারেটরটির কাছ থেকে।
এক বছর আগে দেশের সর্বনিম্ন ক্যাশ-আউট রেট চালু করে ডাক বিভাগের নগদ। এক হাজার টাকা ক্যাশ-আউট করতে ‘২০ টাকা খরচ’ প্রায় বিধিবদ্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবস্থাকে ধাক্কা দিয়ে খরচটাকে ৯ টাকা ৯৯ পয়সায় নামিয়ে আনে ডাক বিভাগের সেবাটি। ভ্যাটসহ যা দাঁড়ায় ১১ টাকা ৪৯ পয়সায়। সেখানে অন্য এমএফএসগুলো প্রতি হাজারে ক্যাশ-আউট চার্জ সাড়ে ১৮ টাকা চার্জ নিচ্ছে। যদিও বাজারে প্রচলিত আছে হাজারে ২০ টাকায় ক্যাশ-আউট। ফলে অতিরিক্ত দেড় টাকাও গ্রাহকের পকেট থেকে বেরিয়ে যায়। তবে অফিসিয়াল রেট ধরলেও প্রতি হাজারে গ্রাহকের সাশ্রয় ৭ টাকা। তাতে এক বছরে নগদের গ্রাহকদের অন্তত ২৭৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
কম খরচের কারণে নগদের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কুমিল্লার ময়নামতি ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, আগে ক্যাশ-আউট চার্জ নিয়ে সবাই একটা অত্যাচারের মধ্যে ছিল। নগদ গ্রাহকদের সেখান থেকে মুক্তি দিয়েছে।
তিনি বলেন, নগদ আসার পর তার দোকানে আগের থেকে লেনদেন বেড়েছে। অন্যরা যেখানে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পিটুপি) সেন্ড মানিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত খরচ নেয়, সেখানে নগদ শুরু থেকেই অ্যাপে সেন্ড মানি ফ্রি রেখেছে। এই খাতে গত এক বছরে জনপ্রিয় এ অপারেটরটি গ্রাহকের অন্তত ৫২ কোটি টাকা বাঁচিয়েছে।
গ্রাহকের জীবন সহজ করতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট, পানি বিলসহ সব ধরনের বিল পেমেন্ট চার্জ ফ্রি করছে নগদ। অন্য এমএফএসগুলোও যেখানে মোট বিলের ওপর দেড় থেকে দুই শতাংশ হারে বা বিলপ্রতি ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত চার্জ নিচ্ছিল সেই প্রথা ভেঙে দেয় নগদ। এখানে গ্রাহকের সাশ্রয় ২৮ থেকে ৩০ কোটি টাকা।
নগদ প্রতিযোগিতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, অন্যরাও বাধ্য হয়ে এখন বিল পেমেন্টে চার্জ ফ্রি করছে। এটিও সামগ্রিকভাবে এমএফএস গ্রাহকদের আর্থিক সাশ্রয়।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান সমকালকে বলেন, এমএফএস বর্তমানে আপামর জনসাধারণের সেবায় পরিণত হয়েছে। সব পর্যায়ের মানুষ এ সেবা নিচ্ছেন। ফলে এর সার্ভিস চার্জ যৌক্তিক হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এ ধরনের সেবার সার্ভিস চার্জ নির্ধারণের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ভূমিকা নিতে হবে।
নগদ বলছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট বা কেনাকাটায়ও তারা গ্রাহক সাশ্রয় নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো নগদ গ্রাহক যেকোনো জায়গা থেকে ওয়ালেটের মাধ্যমে পণ্য কিনতে পারেন। দেশে এখন ২২ হাজারের ওপর মার্চেন্টে নগদের মাধ্যমে কেনাকাটা করা যায়। এখানেও নগদ ব্যবহার করে গ্রাহকের সাশ্রয় ২০৪ কোটি টাকার বেশি।
ব্যাংক বা অন্য যে কোনো এমএফএসের মধ্যে সঞ্চয়ে সবচেয়ে বেশি মুনাফা দেয় নগদ। সাড়ে ৬ শতাংশ হারে গ্রাহকরা অন্য যে কারও চেয়ে আড়াই থেকে তিন শতাংশ বেশি মুনাফা পাচ্ছেন। এই অতিরিক্ত মুনাফা থেকে নগদ গ্রাহকরা এক বছরে ১৪ কোটি টাকার বেশি আয় পেয়েছেন, যা তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেছে।
নগদের সবচেয়ে বড় সাশ্রয় হয়েছে অ্যাকাউন্ট খোলার সহজতম পদ্ধতি চালু করে। আগে অ্যাকাউন্ট খুলতে ৪ থেকে ৮ পাতার ফরম পূরণ করাকে ‘ইতিহাস’ করে অপারেটরটি মানুষের অর্থ ও মূল্যবান সময় নষ্ট করার থেকে বাঁচিয়েছে। প্রথমে দেশে ই-কেওয়াইসি চালু করা এবং পরে যে কোনো মোবাইল ফোন থেকে *১৬৭# ডায়াল করে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারা গ্রাহককে দিয়েছে বাড়তি স্বস্তি। ফলে গ্রাহকের আর কষ্ট করে ছবি তোলা, জাতীয় পরিচয়পত্র কপি করা এবং যাতায়াত খরচ করতে হচ্ছে না। সব মিলে এখানে সাশ্রয় ৪৩২ কোটি টাকা পেরিয়ে যাবে।
হিসাবগুলো টাকার অঙ্কে থাকলেও নগদ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলছেন, টাকার অঙ্কে লাভের চেয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং মানুষের জীবনকে সহজ করার চিন্তাই তাদের বেশি ছিল। ‘আমরা সবসময় সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছি, তাদের জীবন সহজ করতে চেয়েছি। আশা করি সেখানে খানিকটা হলেও অবদান আমরা রাখতে পেরেছি,’ বলছিলেন মিশুক।
সামনের দিনে আরও উদ্ভাবন নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নত সেবাদানের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি।

দৈনিক দেশ নিউজ বিডি ডটকম ডেস্ক 

























