শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

কুষ্টিয়ার চাঞ্চল্যকর সদর সাব-রেজিস্টার নুর মহম্মদ হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১র বিচারক তাজুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কুমারখালী উপজেলার গট্টিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে দলিল নকল নবিস সাইদুল ইসলাম (৩৭), বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে আসামি ছাইদুলের ব্যবসা পার্টনার মো. মশিউল আলম ওরফে বাবুল ওরফে বাবলু (৪০) খোকসা উপজেলার মঠপাড়া গ্রামের ইন্তাজ আলী সেখের ছেলে নিহত সাব-রেজিস্টারের অফিস পিয়ন ফারুক হোসেন (৩৮) ও কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া ওরফে গোলাম সরোয়ারের ছেলে নাইট গার্ড কামাল হোসেন (৪০)।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন- বানিয়াপাড়া গ্রামের মো. আফাজ উদ্দিনের ছেলে ভাস্কর্য নির্মাণ শ্রমিক মো. মনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু।

আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, ৮ অক্টোবর ২০১৮ রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের বাবুর আলী গেট নামক এলাকার বাসিন্দা হানিফ আলীর চারতলা ভবনের ৩য় তলায় ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ হাত-পা বাঁধা গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাড়ামৌলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত মজিবর রহমান শাহর ছেলে কামরুজ্জামান শাহ বাদী হয়ে ৯ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডু ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করেন আদালতে।

চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য হিসেবে বিশেষ একটি মহলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিনিময়ে এবং চাপের মুখে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে উঠে  আসে।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, পুলিশের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে দীর্ঘ সাক্ষ্য শুনানিতে ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার দায়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশসহ অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তরে কর্মরতরা দপ্তর বহির্ভূত প্রভাবশালী মহলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা হাসিল করতে স্বয়ং নিজের সহকর্মীকে হত্যাকাণ্ডে প্রবৃত্ত হয়েছেন এটা খুব দুঃখজনক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত সময় : ০৩:১৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

কুষ্টিয়ার চাঞ্চল্যকর সদর সাব-রেজিস্টার নুর মহম্মদ হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১র বিচারক তাজুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কুমারখালী উপজেলার গট্টিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে দলিল নকল নবিস সাইদুল ইসলাম (৩৭), বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে আসামি ছাইদুলের ব্যবসা পার্টনার মো. মশিউল আলম ওরফে বাবুল ওরফে বাবলু (৪০) খোকসা উপজেলার মঠপাড়া গ্রামের ইন্তাজ আলী সেখের ছেলে নিহত সাব-রেজিস্টারের অফিস পিয়ন ফারুক হোসেন (৩৮) ও কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া ওরফে গোলাম সরোয়ারের ছেলে নাইট গার্ড কামাল হোসেন (৪০)।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন- বানিয়াপাড়া গ্রামের মো. আফাজ উদ্দিনের ছেলে ভাস্কর্য নির্মাণ শ্রমিক মো. মনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু।

আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, ৮ অক্টোবর ২০১৮ রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের বাবুর আলী গেট নামক এলাকার বাসিন্দা হানিফ আলীর চারতলা ভবনের ৩য় তলায় ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ হাত-পা বাঁধা গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাড়ামৌলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত মজিবর রহমান শাহর ছেলে কামরুজ্জামান শাহ বাদী হয়ে ৯ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডু ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করেন আদালতে।

চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য হিসেবে বিশেষ একটি মহলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিনিময়ে এবং চাপের মুখে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে উঠে  আসে।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, পুলিশের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে দীর্ঘ সাক্ষ্য শুনানিতে ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার দায়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশসহ অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তরে কর্মরতরা দপ্তর বহির্ভূত প্রভাবশালী মহলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা হাসিল করতে স্বয়ং নিজের সহকর্মীকে হত্যাকাণ্ডে প্রবৃত্ত হয়েছেন এটা খুব দুঃখজনক।