বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে লাগামহীন হোটেল-মোটেল বাণিজ্য

কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বাড়লেই হোটেল-মোটেলে শুরু হয় লাগামহীন বাণিজ্য। কে কত বেশি টাকা হাতিয়ে নিতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় নামেন ব্যবসায়ীরা। তবে এসব দেখার কেউ নেই। হোটেল ভাড়া নিয়ে কোন তালিকা না থাকায় অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে করে ঠকছেন কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকরা।এ কারণে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজারে চলতি পর্যটন মৌসুম শুরু হয় বিশ্ব পর্যটন দিবসকে ঘিরে। গত ৩ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত সাত দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভ্যালের সমাপ্তি ঘটে। মেলা উপলক্ষে হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়। তবে মেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটনের ভরা মৌসুমে আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো গলাকাটা বাণিজ্য শুরু করেছে।

আবাসিক হোটেলগুলোতে রুম ভাড়ার তালিকা টানানোর নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ হোটেল তা মানছে না। তারকা মানের হোটেলের পাশাপাশি নিম্নমানের হোটেলগুলোও রুমের ভাড়া বাড়িয়েছে যেনতেনভাবে। হোটেল-মোটেল জোনের অধিকাংশ হোটেল পাঁচ শ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যের রুমের ভাড়া বাড়িয়ে চার-পাঁচ হাজার টাকা এবং দু-তিন হাজার টাকার রুম ভাড়া সাত-আট হাজার টাকা করেছে।

শুধু তাই নয়, বাধ্যতামূলকভাবে দু রাতের জন্য নিতে হচ্ছে রুম ভাড়া।

রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে আসা ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘টানা ছুটি কাটাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। অনেক দিনের পরিকল্পনা ছিল কক্সবাজার সৈকত ঘুরে বেড়ানোর। তবে হোটেল ভাড়া বেশি হওয়ায় চিন্তায় পড়ে গেছি।’

পর্যটক আনোয়ার হালিম জানান, ‘আমরা ঢাকা থেকে কয়েকজন বন্ধু কক্সবাজার এসেছি। এখানে এসে শহরের গণপূর্ত ভবনের পাশে গড়ে ওঠা গ্রিন কক্স এবং কক্স হিলটপ হোটেলে প্রতি রুম সাড়ে আট হাজার টাকা করে চাইছে। আমরা সবাই ছাত্র, এত টাকা আমাদের নেই। ফলে রুম না নিয়ে চলে যাই অন্য হোটেলে। সেখানে সীমিত মূল্যে রুম নিয়েছি (চার হাজার টাকা) এক রাতের জন্য। রুমের গুণগতমান তেমন ভালো না’।

অভিসার নামের একটি আবাসিক হোটেলের দু হাজার টাকার কক্ষের ভাড়া উঠেছে সাত-আট হাজার টাকা। পর্যটকদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে হোটেলটির এক্সিকিউটিভ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি একটি কক্ষের একদাম ছয় হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান।

ছাড়ের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ সময় কোনো ছাড় নেই’।

হোটেল অভিসারের ম্যানেজার লিটন পাল বলেন, ‘আমাদের হোটেলে রুমের ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২ হাজার ২৫০ টাকা। এখানে অতিরিক্ত দাম নেয়ার কোনো মানে হয় না। আমরা পর্যটক বান্ধব। আর এক রাতের জন্য রুম বুকিং নেয়া হয় না বিষয়টিও সঠিক নয়। তবে সামনে শুক্রবার থাকায় ক্ষতি এড়াতে দুই রাতের জন্য রুম প্রয়োজন এমন পর্যটককে প্রাধান্য দিয়েছি আমরা।’

এসব হোটেল-মোটেলের মতো কক্সবাজারে আরো বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় এমন গলা কাটা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ‘হোটেল রুমের ভাড়া অতিরিক্ত না নেয়ার জন্য আগে থেকে বলা আছে। হোটেল অভিসারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। কোনো ধরনের রুমের দাম তারা বেশি চেয়েছে তা দেখার পর পরবর্তী মন্তব্যসহ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘যারা অতিরিক্ত দামে হোটেল রুমের ভাড়া নিয়ে পর্যটন খাতকে প্রশ্ন বিদ্ধ করছে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

কক্সবাজারে লাগামহীন হোটেল-মোটেল বাণিজ্য

প্রকাশিত সময় : ১১:০০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অক্টোবর ২০২২

কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বাড়লেই হোটেল-মোটেলে শুরু হয় লাগামহীন বাণিজ্য। কে কত বেশি টাকা হাতিয়ে নিতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় নামেন ব্যবসায়ীরা। তবে এসব দেখার কেউ নেই। হোটেল ভাড়া নিয়ে কোন তালিকা না থাকায় অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে করে ঠকছেন কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকরা।এ কারণে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজারে চলতি পর্যটন মৌসুম শুরু হয় বিশ্ব পর্যটন দিবসকে ঘিরে। গত ৩ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত সাত দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভ্যালের সমাপ্তি ঘটে। মেলা উপলক্ষে হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়। তবে মেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটনের ভরা মৌসুমে আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো গলাকাটা বাণিজ্য শুরু করেছে।

আবাসিক হোটেলগুলোতে রুম ভাড়ার তালিকা টানানোর নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ হোটেল তা মানছে না। তারকা মানের হোটেলের পাশাপাশি নিম্নমানের হোটেলগুলোও রুমের ভাড়া বাড়িয়েছে যেনতেনভাবে। হোটেল-মোটেল জোনের অধিকাংশ হোটেল পাঁচ শ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যের রুমের ভাড়া বাড়িয়ে চার-পাঁচ হাজার টাকা এবং দু-তিন হাজার টাকার রুম ভাড়া সাত-আট হাজার টাকা করেছে।

শুধু তাই নয়, বাধ্যতামূলকভাবে দু রাতের জন্য নিতে হচ্ছে রুম ভাড়া।

রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে আসা ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘টানা ছুটি কাটাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। অনেক দিনের পরিকল্পনা ছিল কক্সবাজার সৈকত ঘুরে বেড়ানোর। তবে হোটেল ভাড়া বেশি হওয়ায় চিন্তায় পড়ে গেছি।’

পর্যটক আনোয়ার হালিম জানান, ‘আমরা ঢাকা থেকে কয়েকজন বন্ধু কক্সবাজার এসেছি। এখানে এসে শহরের গণপূর্ত ভবনের পাশে গড়ে ওঠা গ্রিন কক্স এবং কক্স হিলটপ হোটেলে প্রতি রুম সাড়ে আট হাজার টাকা করে চাইছে। আমরা সবাই ছাত্র, এত টাকা আমাদের নেই। ফলে রুম না নিয়ে চলে যাই অন্য হোটেলে। সেখানে সীমিত মূল্যে রুম নিয়েছি (চার হাজার টাকা) এক রাতের জন্য। রুমের গুণগতমান তেমন ভালো না’।

অভিসার নামের একটি আবাসিক হোটেলের দু হাজার টাকার কক্ষের ভাড়া উঠেছে সাত-আট হাজার টাকা। পর্যটকদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে হোটেলটির এক্সিকিউটিভ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি একটি কক্ষের একদাম ছয় হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান।

ছাড়ের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ সময় কোনো ছাড় নেই’।

হোটেল অভিসারের ম্যানেজার লিটন পাল বলেন, ‘আমাদের হোটেলে রুমের ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২ হাজার ২৫০ টাকা। এখানে অতিরিক্ত দাম নেয়ার কোনো মানে হয় না। আমরা পর্যটক বান্ধব। আর এক রাতের জন্য রুম বুকিং নেয়া হয় না বিষয়টিও সঠিক নয়। তবে সামনে শুক্রবার থাকায় ক্ষতি এড়াতে দুই রাতের জন্য রুম প্রয়োজন এমন পর্যটককে প্রাধান্য দিয়েছি আমরা।’

এসব হোটেল-মোটেলের মতো কক্সবাজারে আরো বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় এমন গলা কাটা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ‘হোটেল রুমের ভাড়া অতিরিক্ত না নেয়ার জন্য আগে থেকে বলা আছে। হোটেল অভিসারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। কোনো ধরনের রুমের দাম তারা বেশি চেয়েছে তা দেখার পর পরবর্তী মন্তব্যসহ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘যারা অতিরিক্ত দামে হোটেল রুমের ভাড়া নিয়ে পর্যটন খাতকে প্রশ্ন বিদ্ধ করছে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’