বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাতের কাছেই অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম 

কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না অনলাইন জুয়া। শত শত সাইট বন্ধ এবং অপরাধী ধরা পড়ার পরও হাত বাড়ালেই মিলছে আরও অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম। উন্মুক্ত নেট দুনিয়া আর দেশের  প্রচলিত আইনের মাঝে এর কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও নেই সংশ্লিষ্টদের হাতে। 

লোভনীয় অফারে ভরপুর এখন ফেসবুক ইউটিউবসহ নেট দুনিয়া।

এক সময়ে তাসের জুয়াকে অপরাধ বলে মনে করা হতো, তা থেকে হাউজি, লাইভ ক্যাসিনো হয়ে এখন ঘরে বসেই মিলছে জুয়ার আসর। হাতে কেবল একটা মোবাইল ফোন থাকলেই হলো।  দেশে নিষিদ্ধ বিভিন্ন ওয়েবসাইট আর অ্যাপসের মাধ্যমে দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল, ক্রিকেট ও টেনিস খেলাসহ বিভিন্ন ম্যাচকে ঘিরে চলছে অনলাইন জুয়া খেলা। মোবাইল অ্যাপ ছাড়াও ভিভিন্ন ওয়েবসাইট, ডোমেইনের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইন জুয়া খেলা যায়। ফেসবুক, ইউটিউবে ঢুকলেই মিলছে সেসব সাইট। 

১০ অক্টোবর গুগল এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ৩৩১টি অ্যাপ এবং সাইট বন্ধ করেছে বিটিআরসি। তাতে কি?

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের ডিসি মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, “এই বিষয়গুলো খুব সহজলভ্য হওয়ায় দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খোঁজখবর রাখছে।”

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভির জোহা বলেন, “বাইরের সাইটগুলো সঠিকভাবে জুয়ার পেমেন্ট করে থাকে। বাংলাদেশে কিছু প্রতিষ্ঠিত সাইট আছে তারা কিন্তু জুয়ার পেমেন্টগুলো করে না। লোকাল লোকদের বসিয়ে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের পর তারা প্রাপ্তটা পায় না। অথবা তারা হারিয়ে ফেলে।”

প্রতিনিয়ত এসবের বিরুদ্ধে কাজ করছেন গোয়েন্দারা। এরপরও ঘটছে জুয়ার বিস্তৃতি।

তানভির জোহা বলেন, “এ জাতীয় জুয়ার সাইটগুলো নির্ণয় করার জন্য ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স খুব প্রয়োজন। ”

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের ডিসি মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, “সবাই মিলে যদি ঠিকভাবে এগুতে পারি এবং কালচারাল ও ঐতিহ্যগত বিষয়গুলো যদি জোরদার করতে পারি তাহলে এই প্রবণতাগুলো কমানো সম্ভব।”

উন্নত দেশেগুলোতে অনলাইন জুয়া বৈধ। বাংলাদেশে যেসব অনলাইন সাইট সেগুলোর প্রায় সব পরিচালিত হয় বিদেশ থেকে। বাংলাদেশে থাকে ছোট বড় এজেন্ট।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাতের কাছেই অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম 

প্রকাশিত সময় : ১২:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২

কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না অনলাইন জুয়া। শত শত সাইট বন্ধ এবং অপরাধী ধরা পড়ার পরও হাত বাড়ালেই মিলছে আরও অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম। উন্মুক্ত নেট দুনিয়া আর দেশের  প্রচলিত আইনের মাঝে এর কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও নেই সংশ্লিষ্টদের হাতে। 

লোভনীয় অফারে ভরপুর এখন ফেসবুক ইউটিউবসহ নেট দুনিয়া।

এক সময়ে তাসের জুয়াকে অপরাধ বলে মনে করা হতো, তা থেকে হাউজি, লাইভ ক্যাসিনো হয়ে এখন ঘরে বসেই মিলছে জুয়ার আসর। হাতে কেবল একটা মোবাইল ফোন থাকলেই হলো।  দেশে নিষিদ্ধ বিভিন্ন ওয়েবসাইট আর অ্যাপসের মাধ্যমে দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল, ক্রিকেট ও টেনিস খেলাসহ বিভিন্ন ম্যাচকে ঘিরে চলছে অনলাইন জুয়া খেলা। মোবাইল অ্যাপ ছাড়াও ভিভিন্ন ওয়েবসাইট, ডোমেইনের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইন জুয়া খেলা যায়। ফেসবুক, ইউটিউবে ঢুকলেই মিলছে সেসব সাইট। 

১০ অক্টোবর গুগল এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ৩৩১টি অ্যাপ এবং সাইট বন্ধ করেছে বিটিআরসি। তাতে কি?

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের ডিসি মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, “এই বিষয়গুলো খুব সহজলভ্য হওয়ায় দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খোঁজখবর রাখছে।”

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভির জোহা বলেন, “বাইরের সাইটগুলো সঠিকভাবে জুয়ার পেমেন্ট করে থাকে। বাংলাদেশে কিছু প্রতিষ্ঠিত সাইট আছে তারা কিন্তু জুয়ার পেমেন্টগুলো করে না। লোকাল লোকদের বসিয়ে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের পর তারা প্রাপ্তটা পায় না। অথবা তারা হারিয়ে ফেলে।”

প্রতিনিয়ত এসবের বিরুদ্ধে কাজ করছেন গোয়েন্দারা। এরপরও ঘটছে জুয়ার বিস্তৃতি।

তানভির জোহা বলেন, “এ জাতীয় জুয়ার সাইটগুলো নির্ণয় করার জন্য ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স খুব প্রয়োজন। ”

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের ডিসি মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, “সবাই মিলে যদি ঠিকভাবে এগুতে পারি এবং কালচারাল ও ঐতিহ্যগত বিষয়গুলো যদি জোরদার করতে পারি তাহলে এই প্রবণতাগুলো কমানো সম্ভব।”

উন্নত দেশেগুলোতে অনলাইন জুয়া বৈধ। বাংলাদেশে যেসব অনলাইন সাইট সেগুলোর প্রায় সব পরিচালিত হয় বিদেশ থেকে। বাংলাদেশে থাকে ছোট বড় এজেন্ট।