শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে এল ১ হাজার ৩৪৩ টন পেঁয়াজ

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর)। ঘোষণাটির পর পরই বাংলাদেশের বাজারে এক লাফে পেয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় দিগুণ। এমন অবস্থার মধ্যেই শনিবার (৯ ডিসেম্বর) ভারত থেকে দেশের দুটি স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৪৬টি ট্রাকে ওই পেঁয়াজ আনা হয়।জানা যায়, আগের এলসি করা ৭৪৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ২৬টি ট্রাকে দেশে আনা হয়। দেশে আসা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৮০০ ডলারে ক্রয় করা হয়।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মাইক্রোন নুর মোহাম্মদ রুবেল জানান, ভারতের অনলাইন করা আরও বেশ কিছু ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে।

প্যানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো আমরা হাতে পায়নি। তবে দুপুর থেকে ভারতের ওপারে মহদিপুর থেকে বেশ কয়েকটি পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতের মহদিপুর সিএন্ডএফ এবং একাধিক রপ্তানিকারকরা জানিয়েছে, শনিবার এবং রবিবার পর্যন্ত ৮০০ ডলারে এলসি করা টেন্ডারের পেঁয়াজের ট্রাক আসবে।’

এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের খবরের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭০-৮০ টাকা বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় পেঁয়াজের প্রতি কেজি ৯৫-১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শনিবার সেই পেঁয়াজ ১৭০-১৭৫ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকার স্থলে ১৭০-১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মধ্যবাজারের গোডাউনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ গুদামজাত করে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এসব পেঁয়াজের খোঁজ-খবর বা নজরদারির ব্যবস্থা নিলে হয়তো সেসব পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে দিতে পারেন আমদানিকারকরা।এর আগে, গতকাল শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ২০টি ট্রাকে মোট ৬০০ টন পেঁয়াজ দেশে আনা হয়।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু বলেন, গত বৃহস্পতিবার যেসব ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক ছিল, সেগুলো শনিবার শনিবার দেশে প্রবেশ করেছে। রবিবার থেকে আর কোনো পেঁয়াজ দেশে আসবে না।

কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু আরও বলেন, এই মুহূর্তে বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম বাড়াচ্ছেন।

ভারত রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। শনিবার জেলার সুলতানপুর বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। একই বাজারে গতকাল শুক্রবার প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। অনুরুপ দেশি পেঁয়াজ ছিল প্রতি কেজি ১০০ টাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারত থেকে এল ১ হাজার ৩৪৩ টন পেঁয়াজ

প্রকাশিত সময় : ০৩:০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর)। ঘোষণাটির পর পরই বাংলাদেশের বাজারে এক লাফে পেয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় দিগুণ। এমন অবস্থার মধ্যেই শনিবার (৯ ডিসেম্বর) ভারত থেকে দেশের দুটি স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৪৬টি ট্রাকে ওই পেঁয়াজ আনা হয়।জানা যায়, আগের এলসি করা ৭৪৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ২৬টি ট্রাকে দেশে আনা হয়। দেশে আসা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৮০০ ডলারে ক্রয় করা হয়।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মাইক্রোন নুর মোহাম্মদ রুবেল জানান, ভারতের অনলাইন করা আরও বেশ কিছু ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে।

প্যানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো আমরা হাতে পায়নি। তবে দুপুর থেকে ভারতের ওপারে মহদিপুর থেকে বেশ কয়েকটি পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতের মহদিপুর সিএন্ডএফ এবং একাধিক রপ্তানিকারকরা জানিয়েছে, শনিবার এবং রবিবার পর্যন্ত ৮০০ ডলারে এলসি করা টেন্ডারের পেঁয়াজের ট্রাক আসবে।’

এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের খবরের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭০-৮০ টাকা বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় পেঁয়াজের প্রতি কেজি ৯৫-১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শনিবার সেই পেঁয়াজ ১৭০-১৭৫ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকার স্থলে ১৭০-১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মধ্যবাজারের গোডাউনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ গুদামজাত করে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এসব পেঁয়াজের খোঁজ-খবর বা নজরদারির ব্যবস্থা নিলে হয়তো সেসব পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে দিতে পারেন আমদানিকারকরা।এর আগে, গতকাল শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ২০টি ট্রাকে মোট ৬০০ টন পেঁয়াজ দেশে আনা হয়।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু বলেন, গত বৃহস্পতিবার যেসব ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক ছিল, সেগুলো শনিবার শনিবার দেশে প্রবেশ করেছে। রবিবার থেকে আর কোনো পেঁয়াজ দেশে আসবে না।

কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু আরও বলেন, এই মুহূর্তে বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম বাড়াচ্ছেন।

ভারত রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। শনিবার জেলার সুলতানপুর বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। একই বাজারে গতকাল শুক্রবার প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। অনুরুপ দেশি পেঁয়াজ ছিল প্রতি কেজি ১০০ টাকা।