শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দামের বাড়িতে আগুন

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বোদা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাতখামার এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, গতকাল রাতে সাদ্দাম হোসেনের বাড়ির পাশের একটি খড় ও খড়ি রাখার ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার মূল বাড়িতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সাদ্দাম হোসেনের গ্রামের বাড়ির প্রাচীর সংলগ্ন একটি খড় ও খড়ি রাখার ঘরে অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। টিনশেডের ঘরটিতে খড় ও খড়ি রাখা ছিল। মধ্যরাতে ওই ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

সাদ্দাম হোসেনের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মধ্যরাতে কে বা কারা আমাদের খড়ের ঘরে আগুন দেয়। প্রতিবেশীরা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ওই খড়ের ঘরে ১০ বিঘা জমির খড় রাখা ছিল। আমার স্বামী ৩ বছর ধরে বিছানায় পড়ে রয়েছেন। গত ৫ আগস্টে পুড়ে যাওয়া ঘরের কয়েকটি রুম আমরা সংস্কার করে বসবাস করছি। খড়ের ঘরটি আমাদের ঘর থেকে দূরে ছিল। তবে আমরা এখন খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা চাই প্রশাসন এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে কারা আগুন দিয়েছে তা খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করুক।’

বোদা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর রায়হান ইসলাম বলেন, ‘সাদ্দাম হোসেনের বাড়ির সংলগ্ন তাদের খড় ও খড়ি রাখার ঘরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ১ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে হিসেব করেছি। তবে আগুনের সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে, সাদ্দামের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ফেইসবুক পেজে শেয়ার করে আবারও আগুন দিয়েছে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবে জীবন রক্ষা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীদের দাবি এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দামের বাড়িতে আগুন

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বোদা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাতখামার এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, গতকাল রাতে সাদ্দাম হোসেনের বাড়ির পাশের একটি খড় ও খড়ি রাখার ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার মূল বাড়িতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সাদ্দাম হোসেনের গ্রামের বাড়ির প্রাচীর সংলগ্ন একটি খড় ও খড়ি রাখার ঘরে অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। টিনশেডের ঘরটিতে খড় ও খড়ি রাখা ছিল। মধ্যরাতে ওই ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

সাদ্দাম হোসেনের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মধ্যরাতে কে বা কারা আমাদের খড়ের ঘরে আগুন দেয়। প্রতিবেশীরা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ওই খড়ের ঘরে ১০ বিঘা জমির খড় রাখা ছিল। আমার স্বামী ৩ বছর ধরে বিছানায় পড়ে রয়েছেন। গত ৫ আগস্টে পুড়ে যাওয়া ঘরের কয়েকটি রুম আমরা সংস্কার করে বসবাস করছি। খড়ের ঘরটি আমাদের ঘর থেকে দূরে ছিল। তবে আমরা এখন খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা চাই প্রশাসন এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে কারা আগুন দিয়েছে তা খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করুক।’

বোদা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর রায়হান ইসলাম বলেন, ‘সাদ্দাম হোসেনের বাড়ির সংলগ্ন তাদের খড় ও খড়ি রাখার ঘরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ১ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে হিসেব করেছি। তবে আগুনের সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে, সাদ্দামের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ফেইসবুক পেজে শেয়ার করে আবারও আগুন দিয়েছে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবে জীবন রক্ষা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীদের দাবি এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে।