শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। রয়টার্স, সিবিএস নিউজ, দ্য গার্ডিয়ানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে নিহত বেড়ে এরই মধ্যে ৫৩৮ জনে পৌঁছেছে। এত বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হওয়া প্রসঙ্গে রোববার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এমন হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।

ইরান সীমা লঙ্ঘন করেছে কি না- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জবাবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা ট্রাম্প বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, তারা (ইরান) সেটা শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সামরিক বাহিনীও নজর রাখছে। আমরা খুব কঠিন কয়েকটি বিকল্প বিবেচনায় রাখছি। আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান গতকাল যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটনের হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা হামলা চালানো হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ইরানে নিহত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী।

তবে রয়টার্স নিহত মানুষের সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। ইরান সরকারিভাবে হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর মধ্যেই জানিয়েছেন, ‘দাঙ্গাবাজদের’ সমাজ অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ‘প্রতিবাদ জনগণের অধিকার’ বলেন তিনি। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘জনগণের এটা বিশ্বাস করা উচিত যে আমরা (সরকার) ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরান। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

চলমান এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন। ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। গত শনিবারও ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইরানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। রয়টার্স, সিবিএস নিউজ, দ্য গার্ডিয়ানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে নিহত বেড়ে এরই মধ্যে ৫৩৮ জনে পৌঁছেছে। এত বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হওয়া প্রসঙ্গে রোববার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এমন হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।

ইরান সীমা লঙ্ঘন করেছে কি না- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জবাবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা ট্রাম্প বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, তারা (ইরান) সেটা শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সামরিক বাহিনীও নজর রাখছে। আমরা খুব কঠিন কয়েকটি বিকল্প বিবেচনায় রাখছি। আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান গতকাল যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটনের হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা হামলা চালানো হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ইরানে নিহত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী।

তবে রয়টার্স নিহত মানুষের সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। ইরান সরকারিভাবে হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর মধ্যেই জানিয়েছেন, ‘দাঙ্গাবাজদের’ সমাজ অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ‘প্রতিবাদ জনগণের অধিকার’ বলেন তিনি। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘জনগণের এটা বিশ্বাস করা উচিত যে আমরা (সরকার) ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরান। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

চলমান এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন। ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। গত শনিবারও ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।