শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাস্কের এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করলেন সাবেক প্রেমিকা

ইলন মাস্কের সাবেক প্রেমিকা ও এক সন্তানের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার গত বুধবার তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সেন্ট ক্লেয়ারের অভিযোগ, কোম্পানির এআই চ্যাটবট গ্রোক অনুমতি ছাড়াই তাঁর আপত্তিকর কৃত্রিম ছবি (ডিপফেক) তৈরি করেছে।

নিউইয়র্কে করা এই মামলায় বলা হয়েছে, এক্সএআইয়ের পণ্য গ্রোক এমন এক জেনারেটিভ এআই চ্যাটবট, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের পোশাকহীন করে, অপমান করে এবং তাঁদের যৌন নিপীড়ন করে।

সেন্ট ক্লেয়ারের এই মামলা এমন সময়ে এল, যখন গত বুধবারই এক্সএআই নিশ্চিত করেছে, তাদের চ্যাটবটটি এখন থেকে মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে কারও নগ্ন বা আপত্তিকর ছবি তৈরি করবে না। সম্প্রতি এই চ্যাটবট ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের নগ্ন ডিপফেক ছবি তৈরি করা হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি।

২৭ বছর বয়সী লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার সেন্ট ক্লেয়ার মামলায় অভিযোগ করেন, চলতি মাসে ব্যবহারকারীদের অনুরোধে গ্রোক তাঁর অসংখ্য ‘যৌন নিপীড়নমূলক এবং অবমাননাকর’ ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি করে ছড়িয়েছে। তিনি জানান, ডিজিটাল উপায়ে তাঁর পোশাকহীন ছবি তৈরির ব্যাপারে তাঁর কোনো সম্মতি নেই; তা সত্ত্বেও এআই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মামলায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এক্সের কিছু ব্যবহারকারী সেন্ট ক্লেয়ারের ১৪ বছর বয়সের একটি ছবি খুঁজে বের করে এবং গ্রোককে সেটি ব্যবহার করে তাঁর নগ্ন ছবি তৈরির নির্দেশ দেয়। অভিযোগ অনুসারে, চ্যাটবটটি সেই নির্দেশ পালন করেছিল।

এ বিষয়ে এক্সএআইয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেন্ট ক্লেয়ার আর মাস্কের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মাস্ক জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর সন্তানের পূর্ণ অভিভাবকত্ব পেতে আইনি লড়াই করবেন।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাস্কের এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করলেন সাবেক প্রেমিকা

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইলন মাস্কের সাবেক প্রেমিকা ও এক সন্তানের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার গত বুধবার তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সেন্ট ক্লেয়ারের অভিযোগ, কোম্পানির এআই চ্যাটবট গ্রোক অনুমতি ছাড়াই তাঁর আপত্তিকর কৃত্রিম ছবি (ডিপফেক) তৈরি করেছে।

নিউইয়র্কে করা এই মামলায় বলা হয়েছে, এক্সএআইয়ের পণ্য গ্রোক এমন এক জেনারেটিভ এআই চ্যাটবট, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের পোশাকহীন করে, অপমান করে এবং তাঁদের যৌন নিপীড়ন করে।

সেন্ট ক্লেয়ারের এই মামলা এমন সময়ে এল, যখন গত বুধবারই এক্সএআই নিশ্চিত করেছে, তাদের চ্যাটবটটি এখন থেকে মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে কারও নগ্ন বা আপত্তিকর ছবি তৈরি করবে না। সম্প্রতি এই চ্যাটবট ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের নগ্ন ডিপফেক ছবি তৈরি করা হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি।

২৭ বছর বয়সী লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার সেন্ট ক্লেয়ার মামলায় অভিযোগ করেন, চলতি মাসে ব্যবহারকারীদের অনুরোধে গ্রোক তাঁর অসংখ্য ‘যৌন নিপীড়নমূলক এবং অবমাননাকর’ ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি করে ছড়িয়েছে। তিনি জানান, ডিজিটাল উপায়ে তাঁর পোশাকহীন ছবি তৈরির ব্যাপারে তাঁর কোনো সম্মতি নেই; তা সত্ত্বেও এআই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মামলায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এক্সের কিছু ব্যবহারকারী সেন্ট ক্লেয়ারের ১৪ বছর বয়সের একটি ছবি খুঁজে বের করে এবং গ্রোককে সেটি ব্যবহার করে তাঁর নগ্ন ছবি তৈরির নির্দেশ দেয়। অভিযোগ অনুসারে, চ্যাটবটটি সেই নির্দেশ পালন করেছিল।

এ বিষয়ে এক্সএআইয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেন্ট ক্লেয়ার আর মাস্কের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মাস্ক জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর সন্তানের পূর্ণ অভিভাবকত্ব পেতে আইনি লড়াই করবেন।

তথ্যসূত্র: সিএনএন