শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের ভাবনায় পাকিস্তান

বিশ্ব ক্রিকেট অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে-এমন এক সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত গ্রুপ ম্যাচটি কৌশলগতভাবে না খেলার (ফরফিট) চিন্তাভাবনা চলছে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনটিই জানিয়েছে এনডিটিভি।

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী দেশটির শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করাই পিসিবির প্রধান উদ্দেশ্য নয়। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বোর্ড।

ভারতের বিপক্ষে এমন ম্যাচ না খেললে পাকিস্তান বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইসিসি কিংবা সম্প্রচারকারীদের কাছ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা এড়াতে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে পিসিবি।

এই কৌশলের মূল ভিত্তি হলো-ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত আর সরকারের নির্দেশের মধ্যে আইনি পার্থক্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্তকে পিসিবির সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং সরকারের সরাসরি নির্দেশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রমাণিত হলে কোনো বোর্ডকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়। তবে পিসিবির ধারণা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সরকারি নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তারা ‘ফোর্স মাজর’ (অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতি) যুক্তি তুলে ধরতে পারবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাকভি প্রধানমন্ত্রী শরিফকে ‘বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশে যে বিকল্পগুলো নেওয়া যেতে পারে, তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব’ সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন-কে উদ্ধৃত করে একটি সূত্র জানায়,‘পুরো টুর্নামেন্ট বর্জন করা শীর্ষ অগ্রাধিকার নয়। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচটি পাকিস্তান ফরফিট করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পিসিবির হাতে যথেষ্ট শক্ত ভিত্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে আইসিসির কোনো শাস্তি বা জরিমানা এড়ানো সম্ভব।’

প্রতিবেদন আরও যোগ করে, ‘পাকিস্তান বলতে পারে তারা ভারতের বিপক্ষে না খেলার ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশ মেনে চলছে। সেক্ষেত্রে আইসিসি পিসিবির ওপর কোনো আর্থিক জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে না।’

এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক চরমভাবে শীতল। গত বছরই দুই দেশ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল এবং কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি হয়।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি টুর্নামেন্টের বৈশ্বিক স্পনসরশিপ ও সম্প্রচার আয়ের একটি বড় অংশ এনে দেয় বলে ধারণা করা হয়। এই নির্দিষ্ট ম্যাচটিকেই লক্ষ্য করে পিসিবি আইসিসির সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় আঘাত হানতে চাইছে। তবে এমন সিদ্ধান্তের পরিণতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও পিসিবির বিশ্বাস-তারা নিষেধাজ্ঞা ও আইনি ঝুঁকি এড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছে, তবুও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত বাস্তবে বাস্তবায়ন করা সরকার ও বোর্ডের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের ভাবনায় পাকিস্তান

প্রকাশিত সময় : ০৬:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব ক্রিকেট অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে-এমন এক সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত গ্রুপ ম্যাচটি কৌশলগতভাবে না খেলার (ফরফিট) চিন্তাভাবনা চলছে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনটিই জানিয়েছে এনডিটিভি।

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী দেশটির শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করাই পিসিবির প্রধান উদ্দেশ্য নয়। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বোর্ড।

ভারতের বিপক্ষে এমন ম্যাচ না খেললে পাকিস্তান বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইসিসি কিংবা সম্প্রচারকারীদের কাছ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা এড়াতে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে পিসিবি।

এই কৌশলের মূল ভিত্তি হলো-ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত আর সরকারের নির্দেশের মধ্যে আইনি পার্থক্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্তকে পিসিবির সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং সরকারের সরাসরি নির্দেশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রমাণিত হলে কোনো বোর্ডকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়। তবে পিসিবির ধারণা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সরকারি নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তারা ‘ফোর্স মাজর’ (অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতি) যুক্তি তুলে ধরতে পারবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাকভি প্রধানমন্ত্রী শরিফকে ‘বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশে যে বিকল্পগুলো নেওয়া যেতে পারে, তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব’ সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন-কে উদ্ধৃত করে একটি সূত্র জানায়,‘পুরো টুর্নামেন্ট বর্জন করা শীর্ষ অগ্রাধিকার নয়। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচটি পাকিস্তান ফরফিট করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পিসিবির হাতে যথেষ্ট শক্ত ভিত্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে আইসিসির কোনো শাস্তি বা জরিমানা এড়ানো সম্ভব।’

প্রতিবেদন আরও যোগ করে, ‘পাকিস্তান বলতে পারে তারা ভারতের বিপক্ষে না খেলার ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশ মেনে চলছে। সেক্ষেত্রে আইসিসি পিসিবির ওপর কোনো আর্থিক জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে না।’

এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক চরমভাবে শীতল। গত বছরই দুই দেশ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল এবং কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি হয়।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি টুর্নামেন্টের বৈশ্বিক স্পনসরশিপ ও সম্প্রচার আয়ের একটি বড় অংশ এনে দেয় বলে ধারণা করা হয়। এই নির্দিষ্ট ম্যাচটিকেই লক্ষ্য করে পিসিবি আইসিসির সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় আঘাত হানতে চাইছে। তবে এমন সিদ্ধান্তের পরিণতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও পিসিবির বিশ্বাস-তারা নিষেধাজ্ঞা ও আইনি ঝুঁকি এড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছে, তবুও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত বাস্তবে বাস্তবায়ন করা সরকার ও বোর্ডের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল হতে পারে।