শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে শর্তে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টায় পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

মূলত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজানে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে রবিবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন কর্মচারীরা। তবে বিকেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এই টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সরকারের এমন আশ্বাসে আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কর্মচারীদের ওপর হওয়া বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণে রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান ছিল সংগ্রাম পরিষদের।

পরবর্তীতে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে তারা কর্মসূচি স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, আন্দোলনরত কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক বদলি এবং সাময়িক বরখাস্তের মতো পাঁচটি প্রধান সমস্যার সমাধান না হলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় আন্দোলন শুরু করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যে শর্তে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত

প্রকাশিত সময় : ০৩:৪১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টায় পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

মূলত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজানে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে রবিবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন কর্মচারীরা। তবে বিকেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এই টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সরকারের এমন আশ্বাসে আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কর্মচারীদের ওপর হওয়া বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণে রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান ছিল সংগ্রাম পরিষদের।

পরবর্তীতে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে তারা কর্মসূচি স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, আন্দোলনরত কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক বদলি এবং সাময়িক বরখাস্তের মতো পাঁচটি প্রধান সমস্যার সমাধান না হলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় আন্দোলন শুরু করা হবে।