শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন

শীতের পাতা ঝরার রুক্ষ্মতা মুছে সবুজ পেলবতায় সাজতে তৈরী হচ্ছে প্রকৃতি। বিবর্ণ প্রকৃতিতে জেগে উঠেছে নতুন প্রাণ। শুরু হচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রঙে, মানুষকে করে জীর্ণতা সরিয়ে নতুন শুরুর প্রেরণা। তাই কবির ভাষায় বলতে হয়- ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’।

বসন্ত কচিপাতায় আনে নতুন রঙ, আলোর নাচন। সাথে মানব মনেও হয়তো। তাই তো সবুজ পত্রপল্লবের আবডালে লুকিয়ে বসন্তের দূত কোকিল শোনায় মদির কুহুকুহু ডাক। আর এই ডাকে ব্যাকুল হয় বিরহী মন।
সাহিত্যে প্রেম আর মিলনের ঋতু বলেও বসন্ত সুপরিচিত। বসন্তের শুরুর দিনে রাঙা মনের সৌন্দর্য ফুটে উঠে পোশাকেও, থাকে ফাগুনের আগুন ঝরানো রং। বসন্তের বাতাস যেমন প্রকৃতিকে জাগিয়ে তোলে নতুনভাবে। বসন্তের আগমনী গানে পুরো বাংলাদেশ যেন আটপৌরের আগল ভেঙে বসন্তের আহ্বানে জেগে ওঠে। তরুণীদের পরনে শোভা পায় বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোঁপায় বাসন্তী ফুল। গালে বসন্তের মনকাড়া আল্পনা। তরুণদের বসনেও বাসন্তী ছোঁয়া। বাদ যায় না শিশু কিংবা বয়োবৃদ্ধরাও। সবার মন তাই গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠে ‘আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে/এত বাঁশি বাজে/ এত পাখি গায়…।’

তবে বসন্ত শুধু বাঙালি জীবনে কেবল আনন্দের নয়। ফাগুনের শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রং মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর শহীদদের কথা। ফুল-ফাগুনের এই বসন্তেই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার। যাঁদের রক্তে আমরা পেয়েছিলাম প্রাণের ভাষা বাংলা।

আর ভাষা শহীদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করে নতুনের আবাহনে তারুণ্য মেতে ওঠে বসন্ত উৎসবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে সেই তারুণ্যের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ, রমনা বটমূল, ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে রাজধানীজুড়ে; শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে নিভৃত পল্লীর ধুলোমাখা পথেও। আর এত আয়োজন আর উপলক্ষের মাঝে গাঁয়ের সবুজ বনের আড়াল থেকে একটি কোকিল বুঝি সুরে সুরে মনে করিয়ে দেয় প্রিয়জনের কথাই। যানজট আর ব্যস্ত জীবনের নানা জটে থাকা নগরীর মানুষের কানেও কালেভদ্রে কোকিল শুনিয়ে দেয় বসন্ত এসে গেছে। তাই তো বসন্ত হয়ে ওঠে ভালোবাসার ঋতু; প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার ঋতু।

এবারের বসন্ত এসেছে এমন সময়ে যখন দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। এতে দেশের মানুষের মধ্যে এমনিতেই আনন্দ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় এবার দেশে বসন্ত বরণের অনুষ্ঠানর আয়োজনেও থাকবে নানা মাত্রিকতা। তারুণ্য মেতে ওঠবে বসন্ত উৎসবে। এবারের পহেলা ফাল্গুন আরেকটা কারণে ব্যতিক্রম। তা হলো-এবার ভ্যালেন্টাইন দিবস এবং পহেলা ফাল্গুণ একই দিনে উদযাপন হতে যাচ্ছে। এদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে সেই তারুণ্যের সুবাস ছড়িয়ে পড়বে শাহবাগ, রমনা বটমূলসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। দিনটিকে আরো উপভোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন গ্রহণ করেছে নানা কর্মসূচি। সব কুসংস্কার পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিতে এবং বসন্তের উপস্থিতিতে বরণ করে নিতে ‘বসন্ত বরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও থাকবে ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন

প্রকাশিত সময় : ১১:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শীতের পাতা ঝরার রুক্ষ্মতা মুছে সবুজ পেলবতায় সাজতে তৈরী হচ্ছে প্রকৃতি। বিবর্ণ প্রকৃতিতে জেগে উঠেছে নতুন প্রাণ। শুরু হচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রঙে, মানুষকে করে জীর্ণতা সরিয়ে নতুন শুরুর প্রেরণা। তাই কবির ভাষায় বলতে হয়- ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’।

বসন্ত কচিপাতায় আনে নতুন রঙ, আলোর নাচন। সাথে মানব মনেও হয়তো। তাই তো সবুজ পত্রপল্লবের আবডালে লুকিয়ে বসন্তের দূত কোকিল শোনায় মদির কুহুকুহু ডাক। আর এই ডাকে ব্যাকুল হয় বিরহী মন।
সাহিত্যে প্রেম আর মিলনের ঋতু বলেও বসন্ত সুপরিচিত। বসন্তের শুরুর দিনে রাঙা মনের সৌন্দর্য ফুটে উঠে পোশাকেও, থাকে ফাগুনের আগুন ঝরানো রং। বসন্তের বাতাস যেমন প্রকৃতিকে জাগিয়ে তোলে নতুনভাবে। বসন্তের আগমনী গানে পুরো বাংলাদেশ যেন আটপৌরের আগল ভেঙে বসন্তের আহ্বানে জেগে ওঠে। তরুণীদের পরনে শোভা পায় বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোঁপায় বাসন্তী ফুল। গালে বসন্তের মনকাড়া আল্পনা। তরুণদের বসনেও বাসন্তী ছোঁয়া। বাদ যায় না শিশু কিংবা বয়োবৃদ্ধরাও। সবার মন তাই গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠে ‘আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে/এত বাঁশি বাজে/ এত পাখি গায়…।’

তবে বসন্ত শুধু বাঙালি জীবনে কেবল আনন্দের নয়। ফাগুনের শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রং মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর শহীদদের কথা। ফুল-ফাগুনের এই বসন্তেই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার। যাঁদের রক্তে আমরা পেয়েছিলাম প্রাণের ভাষা বাংলা।

আর ভাষা শহীদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করে নতুনের আবাহনে তারুণ্য মেতে ওঠে বসন্ত উৎসবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে সেই তারুণ্যের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ, রমনা বটমূল, ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে রাজধানীজুড়ে; শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে নিভৃত পল্লীর ধুলোমাখা পথেও। আর এত আয়োজন আর উপলক্ষের মাঝে গাঁয়ের সবুজ বনের আড়াল থেকে একটি কোকিল বুঝি সুরে সুরে মনে করিয়ে দেয় প্রিয়জনের কথাই। যানজট আর ব্যস্ত জীবনের নানা জটে থাকা নগরীর মানুষের কানেও কালেভদ্রে কোকিল শুনিয়ে দেয় বসন্ত এসে গেছে। তাই তো বসন্ত হয়ে ওঠে ভালোবাসার ঋতু; প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার ঋতু।

এবারের বসন্ত এসেছে এমন সময়ে যখন দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। এতে দেশের মানুষের মধ্যে এমনিতেই আনন্দ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় এবার দেশে বসন্ত বরণের অনুষ্ঠানর আয়োজনেও থাকবে নানা মাত্রিকতা। তারুণ্য মেতে ওঠবে বসন্ত উৎসবে। এবারের পহেলা ফাল্গুন আরেকটা কারণে ব্যতিক্রম। তা হলো-এবার ভ্যালেন্টাইন দিবস এবং পহেলা ফাল্গুণ একই দিনে উদযাপন হতে যাচ্ছে। এদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে সেই তারুণ্যের সুবাস ছড়িয়ে পড়বে শাহবাগ, রমনা বটমূলসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। দিনটিকে আরো উপভোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন গ্রহণ করেছে নানা কর্মসূচি। সব কুসংস্কার পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিতে এবং বসন্তের উপস্থিতিতে বরণ করে নিতে ‘বসন্ত বরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও থাকবে ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে।