প্রকাশিত সময় :
০৬:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
২৪
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের দেহাবশেষ সমাহিত করতে চলতি মাসেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করবে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।খবর বার্তা সংস্থা কোরিয়া হেরাল্ড’র।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়তে হাজার হাজার সৈন্যের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সিউলের হিসাব অনুযায়ী, এ যুদ্ধে প্রায় ২ হাজার উত্তর কোরিয়ান সৈন্য নিহত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানি পাচ্ছে। যা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ এড়াতে সহায়তা করছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘কেসিএনএ’ শুক্রবার জানায়, নিহত সৈন্যদের সম্মান জানাতে উত্তর কোরিয়ায় একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর কাজ ইতোমধ্যে ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।কেসিএনএ জানায়, এপ্রিলের মাঝামাঝি সেখানে শহিদদের সমাহিত করার জন্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হবে।
এতে বলা হয়, কুরস্ক মুক্তির জন্য পরিচালিত অভিযানের সমাপ্তির প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে এ আয়োজন করা হচ্ছে।
কেসিএনএ আরও জানায়, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি প্রদর্শনী, ভাস্কর্য ও প্রতীকী স্মারকগুলোর বিন্যাসসহ প্রকল্পের চূড়ান্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং এর প্রশংসা করেন।কিম জাদুঘরটিকে একটি স্মৃতিসৌধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিহত সৈন্যদের ‘মহান সাহসিকতা’র প্রশংসা করে এটিকে ‘দেশপ্রেম শিক্ষা কেন্দ্র’ হিসেবে অভিহিত করেন।
উত্তর কোরিয়া গত বছরের এপ্রিল থেকে রাশিয়ার যুদ্ধে সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে তাদের সৈন্যদের নিহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে। এরপর থেকে কিম বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন।
গত বছর এমনই এক অনুষ্ঠানে কেসিএনএ-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, আবেগাপ্লুত কিম এক ফিরে আসা সৈন্যকে আলিঙ্গন করছেন। তিনি নিহত সৈন্যদের প্রতিকৃতির সামনে কৃতজ্ঞতা জানান এবং ছবির পাশে পদক ও ফুল রাখেন।
গত জুলাইয়ের শুরুতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আরেক ছবিতে দেখা যায়, কিম জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।সূত্র: কোরিয়া হেরাল্ড