শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বস্তি ফেরেনি নিত্যপণ্যের বাজারে, মাছ-মাংসের দাম চড়া

ঈদের আমেজ শেষ হলেও রাজধানীর বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার, বিশেষ করে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ও রায়েরবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

মাংসের বাজারেও একই চিত্র। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ব্রয়লার মুরগির দাম দাঁড়িয়েছে ১৯৫ টাকায়। যদিও এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে ছিল, তবুও বর্তমান দামকে অনেকেই এখনও বেশি বলেই মনে করছেন। অন্যদিকে সোনালি জাতের মুরগি কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩৪০ টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মাছের বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির দামে রয়েছে বড় ধরনের ভিন্নতা। পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে শুরু করে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং কই-শিং জাতের মাছ ৪০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। এক ক্রেতা বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও এখনও আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য তা স্বস্তির নয়। সোনালি মুরগি এখন প্রায় বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

আরেকজন ক্রেতার মতে, “ঈদের সময় দাম বেড়েছিল, আশা ছিল ঈদের পর কমবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহণ ব্যয়, সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের ওপর চাপ বজায় রয়েছে। ফলে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন তারা।

কাঁচা বাজারগুলোতে দেখা যায়, সবজির বাজারে নেই স্বস্তি। ঈদের আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে, পটোল ১০০ টাকায়, মরিচ ১০০–১২০, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ১০০–১২০ টাকায়, উচ্ছে ১০০, বরবটি ১০০, লেবু প্রতি হালি ৫০–৬০, টমেটো ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে করলা ১৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া শিম ৫০–৭০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া প্রতিটি ৬০–৭০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় এবং গাজর ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

স্বস্তি ফেরেনি নিত্যপণ্যের বাজারে, মাছ-মাংসের দাম চড়া

প্রকাশিত সময় : ০৯:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের আমেজ শেষ হলেও রাজধানীর বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার, বিশেষ করে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ও রায়েরবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

মাংসের বাজারেও একই চিত্র। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ব্রয়লার মুরগির দাম দাঁড়িয়েছে ১৯৫ টাকায়। যদিও এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে ছিল, তবুও বর্তমান দামকে অনেকেই এখনও বেশি বলেই মনে করছেন। অন্যদিকে সোনালি জাতের মুরগি কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩৪০ টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মাছের বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির দামে রয়েছে বড় ধরনের ভিন্নতা। পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে শুরু করে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং কই-শিং জাতের মাছ ৪০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। এক ক্রেতা বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও এখনও আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য তা স্বস্তির নয়। সোনালি মুরগি এখন প্রায় বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

আরেকজন ক্রেতার মতে, “ঈদের সময় দাম বেড়েছিল, আশা ছিল ঈদের পর কমবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহণ ব্যয়, সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের ওপর চাপ বজায় রয়েছে। ফলে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন তারা।

কাঁচা বাজারগুলোতে দেখা যায়, সবজির বাজারে নেই স্বস্তি। ঈদের আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে, পটোল ১০০ টাকায়, মরিচ ১০০–১২০, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ১০০–১২০ টাকায়, উচ্ছে ১০০, বরবটি ১০০, লেবু প্রতি হালি ৫০–৬০, টমেটো ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে করলা ১৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া শিম ৫০–৭০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া প্রতিটি ৬০–৭০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় এবং গাজর ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।