শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩০ কেজি গাঁজাসহ আটক যুবক, মামলায় উল্লেখ ৭ কেজি!

নাটোরের বড়াইগ্রামে অন্তত ৩০ কেজি গাঁজাসহ যুবককে আটকের পর মাত্র ৭ কেজি গাঁজা জব্দ দেখিয়ে মামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার সায়েম হোসেন (৩৪) নামের ওই কাভার্ডভ্যান চালককে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ছাতিয়ানগাছা মোল্লাপাড়া মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সায়েম লালমনিরহাট জেলার সিংগাদার গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাতিয়ানগাছা মোল্লাপাড়া মোড়ে একটি নীল রঙের কাভার্ডভ্যান থেকে দুজন লোক একটি বস্তা নামাচ্ছিলেন। এলাকাবাসী চোর সন্দেহে ধাওয়া দিলে তারা বস্তা ফেলে পালিয়ে যান। তবে কাভার্ডভ্যানের চালককে আটক করে গ্রামবাসী।

পরে পুলিশে খবর দিলে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ কেজি গাঁজা ও কাভার্ডভ্যান জব্দ এবং ওই চালককে আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী আসাদুল ইসলাম জানান, পুলিশের সামনেই বস্তাটি খোলা হয়। এ সময় কালো বস্তার ভেতরে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৩টি প্যাকেট বোঝাই গাঁজা ছিল, যার ওজন কমপক্ষে ৩০ কেজি হবে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দিতে চাইলে এবং কাভার্ডভ্যানে আরো গাঁজা আছে কি না দেখতে চাইলে এসআই আব্দুর রাজ্জাক এলাকাবাসীর ওপর চড়াও হন।
ছাতিয়ানগাছা গ্রামের নজরুল ইসলাম ও মুস্তাক জানান, আমরা দুই হাত দিয়ে বস্তা তুলে পরিমাপ করেছি, সেখানে কোন ভাবেই ৩০ কেজির কম হবে না। এ সময় আমরা দাঁড়িপাল্লা এনে মাপতে চাইলে ওই উপ-পরিদর্শক মাপতেও দেননি। এখন শুনছি মাত্র ৭ কেজি গাঁজা জব্দ দেখিয়ে অজ্ঞাত দুইজনসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় খুবই বিস্মিত হয়েছি

উদ্ধার করা গাঁজার পরিমাণ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের ব্যাপারে জানতে উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাকের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, গতরাতে কর্তব্যরত অফিসার ৭ কেজি গাঁজাসহ একজনকে থানায় সোপর্দ করেছেন। পরে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তিসহ তিনজনের নামে মামলা করা হয়েছে। গাঁজার পরিমাণ কমবেশি হলে সেটা ওই কর্মকর্তা বলতে পারবেন।

আর আগে গত ২৯ আগস্ট উপজেলার রাজাপুর থেকে ৫ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করে এলাকাবাসী । পরে একটি চক্র পুলিশে সোপর্দ করেন মাত্র ৫০ গ্রাম গাঁজা দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৩০ কেজি গাঁজাসহ আটক যুবক, মামলায় উল্লেখ ৭ কেজি!

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নাটোরের বড়াইগ্রামে অন্তত ৩০ কেজি গাঁজাসহ যুবককে আটকের পর মাত্র ৭ কেজি গাঁজা জব্দ দেখিয়ে মামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার সায়েম হোসেন (৩৪) নামের ওই কাভার্ডভ্যান চালককে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ছাতিয়ানগাছা মোল্লাপাড়া মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সায়েম লালমনিরহাট জেলার সিংগাদার গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাতিয়ানগাছা মোল্লাপাড়া মোড়ে একটি নীল রঙের কাভার্ডভ্যান থেকে দুজন লোক একটি বস্তা নামাচ্ছিলেন। এলাকাবাসী চোর সন্দেহে ধাওয়া দিলে তারা বস্তা ফেলে পালিয়ে যান। তবে কাভার্ডভ্যানের চালককে আটক করে গ্রামবাসী।

পরে পুলিশে খবর দিলে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ কেজি গাঁজা ও কাভার্ডভ্যান জব্দ এবং ওই চালককে আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী আসাদুল ইসলাম জানান, পুলিশের সামনেই বস্তাটি খোলা হয়। এ সময় কালো বস্তার ভেতরে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৩টি প্যাকেট বোঝাই গাঁজা ছিল, যার ওজন কমপক্ষে ৩০ কেজি হবে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দিতে চাইলে এবং কাভার্ডভ্যানে আরো গাঁজা আছে কি না দেখতে চাইলে এসআই আব্দুর রাজ্জাক এলাকাবাসীর ওপর চড়াও হন।
ছাতিয়ানগাছা গ্রামের নজরুল ইসলাম ও মুস্তাক জানান, আমরা দুই হাত দিয়ে বস্তা তুলে পরিমাপ করেছি, সেখানে কোন ভাবেই ৩০ কেজির কম হবে না। এ সময় আমরা দাঁড়িপাল্লা এনে মাপতে চাইলে ওই উপ-পরিদর্শক মাপতেও দেননি। এখন শুনছি মাত্র ৭ কেজি গাঁজা জব্দ দেখিয়ে অজ্ঞাত দুইজনসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় খুবই বিস্মিত হয়েছি

উদ্ধার করা গাঁজার পরিমাণ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের ব্যাপারে জানতে উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাকের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, গতরাতে কর্তব্যরত অফিসার ৭ কেজি গাঁজাসহ একজনকে থানায় সোপর্দ করেছেন। পরে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তিসহ তিনজনের নামে মামলা করা হয়েছে। গাঁজার পরিমাণ কমবেশি হলে সেটা ওই কর্মকর্তা বলতে পারবেন।

আর আগে গত ২৯ আগস্ট উপজেলার রাজাপুর থেকে ৫ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করে এলাকাবাসী । পরে একটি চক্র পুলিশে সোপর্দ করেন মাত্র ৫০ গ্রাম গাঁজা দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।