শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের এজেন্ট আজিজ ও উৎপল গ্রেপ্তার

আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানীধান আরামিট গ্রুপের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। তাদের মধ্যে একজন জাবেদের সম্পদ বিভিন্ন দেশে পাচারে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। অন্যজন দেশীয় সম্পদ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকা থেতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান।

গ্রেপ্তার দুইজন হলেন- শিল্পগোষ্ঠী আরামিট পিএলসির এজিএম ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. আবদুল আজিজ ও আরামিটি পিএলসির এজিএম (একাউন্টস) উৎপল পাল।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাদের চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালতে উপস্থাপন করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আব্দুল আজিজ দুদকের এজাহারভুক্ত আসামি ও আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল নতুন করে মামলায় অন্তুর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশের সম্পদ অর্জন ও দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী উৎপল পাল। তিনি জাবেদের দেশ থেকে দুবাই ও দুবাই থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ উৎপল পালকে মাস্টারমাইন্ড হিসাবে দেখছে দুদক টিম। যদিও তিনি আরামিট পিএলসির কর্মচারী, কিন্তু তার (সাইফুজ্জামান চৌধুরী) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (বিদেশে সম্পদ তৈরি, দেখাশোনার কাজ) হিসেবে কাজ করেছেন। তার কাছ থেকে জব্দ করা ২টি ল্যাপটপ ও ২টি মোবাইল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা ফরেনসিক করার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দেশের সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসাবে কাজ করতেন আব্দুল আজিজ।

এদিকে অর্ধডজন মামলার আসামি সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়োনা জারির জন্য আবেদন করেছে দুদকে। যা এখন প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।

গত ২৪ জুলাই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং স্ত্রী ও ভাইবোনসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে ১২৪ কোটি টাকা আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক। চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান। মামলায় ইউসিবিএল ব্যাংক ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের এজেন্ট আজিজ ও উৎপল গ্রেপ্তার

প্রকাশিত সময় : ০৬:০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানীধান আরামিট গ্রুপের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। তাদের মধ্যে একজন জাবেদের সম্পদ বিভিন্ন দেশে পাচারে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। অন্যজন দেশীয় সম্পদ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকা থেতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান।

গ্রেপ্তার দুইজন হলেন- শিল্পগোষ্ঠী আরামিট পিএলসির এজিএম ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. আবদুল আজিজ ও আরামিটি পিএলসির এজিএম (একাউন্টস) উৎপল পাল।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাদের চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালতে উপস্থাপন করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আব্দুল আজিজ দুদকের এজাহারভুক্ত আসামি ও আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল নতুন করে মামলায় অন্তুর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশের সম্পদ অর্জন ও দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী উৎপল পাল। তিনি জাবেদের দেশ থেকে দুবাই ও দুবাই থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ উৎপল পালকে মাস্টারমাইন্ড হিসাবে দেখছে দুদক টিম। যদিও তিনি আরামিট পিএলসির কর্মচারী, কিন্তু তার (সাইফুজ্জামান চৌধুরী) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (বিদেশে সম্পদ তৈরি, দেখাশোনার কাজ) হিসেবে কাজ করেছেন। তার কাছ থেকে জব্দ করা ২টি ল্যাপটপ ও ২টি মোবাইল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা ফরেনসিক করার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দেশের সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসাবে কাজ করতেন আব্দুল আজিজ।

এদিকে অর্ধডজন মামলার আসামি সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়োনা জারির জন্য আবেদন করেছে দুদকে। যা এখন প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।

গত ২৪ জুলাই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং স্ত্রী ও ভাইবোনসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে ১২৪ কোটি টাকা আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক। চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান। মামলায় ইউসিবিএল ব্যাংক ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।