শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোস্তাফিজের বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন বিসিসিআইয়ে কর্মকর্তারা!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা যেন দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের এক নজিরবিহীন পরীক্ষার সূচনা করেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি পেসারকে তাদের স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেয়। যা বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ক্ষুব্ধ করে তোলে। এরই মধ্যে বিসিবি তাদের দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলংকায় আয়োজনের চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় নতুন করে জানা গেছে, মোস্তাফিজুরকে ছাড়ার সিদ্ধান্তটি নাকি বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের বা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও পরামর্শ ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএল নিলামে গত মাসে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনা মোস্তাফিজুরকে ছাড়ার সিদ্ধান্তটি বোর্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়। বিসিসিআই কিংবা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সব সদস্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এক বিসিসিআই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরাও বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো মতামত বা প্রস্তাব নেওয়া হয়নি।’

শনিবার বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিত সাইকিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সর্বত্র যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার কারণে বিসিসিআই কেকেআরকে তাদের একজন খেলোয়াড়-বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে।’

বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এই পরিস্থিতির কারণে নির্দেশনা অনুযায়ী আইপিএলের সব ম্যাচ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার/টেলিকাস্ট বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও উত্তেজনা বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনার পর বাংলাদেশে একাধিক সংখ্যালঘু হিন্দুর ওপর হামলা ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেকেআর এবং তাদের সহ-মালিক শাহরুখ খানকে লক্ষ্য করে সমালোচনা ও আক্রমণ শুরু হয়।

সব মিলিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু একটি ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়-বরং তা এখন দুই দেশের ক্রিকেট ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মোস্তাফিজের বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন বিসিসিআইয়ে কর্মকর্তারা!

প্রকাশিত সময় : ০৪:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা যেন দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের এক নজিরবিহীন পরীক্ষার সূচনা করেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি পেসারকে তাদের স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেয়। যা বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ক্ষুব্ধ করে তোলে। এরই মধ্যে বিসিবি তাদের দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলংকায় আয়োজনের চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় নতুন করে জানা গেছে, মোস্তাফিজুরকে ছাড়ার সিদ্ধান্তটি নাকি বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের বা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও পরামর্শ ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএল নিলামে গত মাসে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনা মোস্তাফিজুরকে ছাড়ার সিদ্ধান্তটি বোর্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়। বিসিসিআই কিংবা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সব সদস্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এক বিসিসিআই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরাও বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো মতামত বা প্রস্তাব নেওয়া হয়নি।’

শনিবার বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিত সাইকিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সর্বত্র যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার কারণে বিসিসিআই কেকেআরকে তাদের একজন খেলোয়াড়-বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে।’

বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এই পরিস্থিতির কারণে নির্দেশনা অনুযায়ী আইপিএলের সব ম্যাচ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার/টেলিকাস্ট বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও উত্তেজনা বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনার পর বাংলাদেশে একাধিক সংখ্যালঘু হিন্দুর ওপর হামলা ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেকেআর এবং তাদের সহ-মালিক শাহরুখ খানকে লক্ষ্য করে সমালোচনা ও আক্রমণ শুরু হয়।

সব মিলিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু একটি ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়-বরং তা এখন দুই দেশের ক্রিকেট ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।