শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যৌন নিপীড়নের দায়ে রাবির সহযোগী অধ্যাপককে স্থায়ী বরখাস্ত

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে এখন স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বরখাস্তের নিয়ম অনুযায়ী তিনি পেনশন বা অন্য কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৪৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে এখন স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বরখাস্তের নিয়ম অনুযায়ী তিনি পেনশন বা অন্য কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের অনুসন্ধানে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জুর নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল আলিম, অধ্যাপক শাহীন জোহরা, অধ্যাপক সালমা আক্তার ও অধ্যাপক পিটার। এছাড়া আইন বিভাগের ছয়টি ব্যাচ থেকে একজন করে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ জন শিক্ষার্থীকে কমিটিতে যুক্ত করা হয়।

তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে। এর ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অ্যাক্টের ৫৫ (৩) ধারা অনুযায়ী আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশের আলোকে সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পতনের পর সাদিকুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা আন্দোলন করেন। অভিযোগ যাচাইয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সত্যতা পাওয়ায় ওই বছরের ১ অক্টোবর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যৌন নিপীড়নের দায়ে রাবির সহযোগী অধ্যাপককে স্থায়ী বরখাস্ত

প্রকাশিত সময় : ০৪:২১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে এখন স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বরখাস্তের নিয়ম অনুযায়ী তিনি পেনশন বা অন্য কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৪৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে এখন স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বরখাস্তের নিয়ম অনুযায়ী তিনি পেনশন বা অন্য কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের অনুসন্ধানে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জুর নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল আলিম, অধ্যাপক শাহীন জোহরা, অধ্যাপক সালমা আক্তার ও অধ্যাপক পিটার। এছাড়া আইন বিভাগের ছয়টি ব্যাচ থেকে একজন করে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ জন শিক্ষার্থীকে কমিটিতে যুক্ত করা হয়।

তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে। এর ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অ্যাক্টের ৫৫ (৩) ধারা অনুযায়ী আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশের আলোকে সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পতনের পর সাদিকুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা আন্দোলন করেন। অভিযোগ যাচাইয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সত্যতা পাওয়ায় ওই বছরের ১ অক্টোবর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।