মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিপ্রেশন কাটাতে ওষুধের চেয়েও কার্যকর হতে পারে নাচ

ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন নিরাময়ে নাচ অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, জগিং, সাঁতার এবং নাচের মতো অ্যারোবিক ব্যায়ামগুলো মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তার লক্ষণ কমাতে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। এমনকি হাঁটার মতো হালকা শারীরিক পরিশ্রমও মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে সক্ষম বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

কুইন্সল্যান্ডের এই বিজ্ঞানীদের মতে, প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যায়ামকেও এখন সমান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিষণ্ণতার প্রতিকার হিসেবে সুপারিশ করা উচিত। তারা জনস্বাস্থ্য নীতিতে শারীরিক কর্মকাণ্ডকে মানসিক স্বাস্থ্যের একটি সহজলভ্য ও বিজ্ঞানসম্মত প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতির সুফল বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতায় ভোগা নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন বিষণ্ণতায় আক্রান্ত এবং পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। গবেষকরা মনে করছেন, নাচের মতো আনন্দদায়ক শারীরিক কার্যক্রম কেবল শরীর নয়, বরং মনের গভীরে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে ওষুধের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। এই আবিষ্কার মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: সামা টিভি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ডিপ্রেশন কাটাতে ওষুধের চেয়েও কার্যকর হতে পারে নাচ

প্রকাশিত সময় : ০৪:১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন নিরাময়ে নাচ অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, জগিং, সাঁতার এবং নাচের মতো অ্যারোবিক ব্যায়ামগুলো মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তার লক্ষণ কমাতে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। এমনকি হাঁটার মতো হালকা শারীরিক পরিশ্রমও মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে সক্ষম বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

কুইন্সল্যান্ডের এই বিজ্ঞানীদের মতে, প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যায়ামকেও এখন সমান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিষণ্ণতার প্রতিকার হিসেবে সুপারিশ করা উচিত। তারা জনস্বাস্থ্য নীতিতে শারীরিক কর্মকাণ্ডকে মানসিক স্বাস্থ্যের একটি সহজলভ্য ও বিজ্ঞানসম্মত প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতির সুফল বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতায় ভোগা নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন বিষণ্ণতায় আক্রান্ত এবং পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। গবেষকরা মনে করছেন, নাচের মতো আনন্দদায়ক শারীরিক কার্যক্রম কেবল শরীর নয়, বরং মনের গভীরে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে ওষুধের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। এই আবিষ্কার মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: সামা টিভি।