নিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড একজন নারীর স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে হঠাৎ করে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। কখনো এটি স্বাভাবিক কারণে হতে পারে, আবার কখনো শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কারণ বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাসিক বন্ধ হওয়ার বিষয়টি বয়স, শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন এবং হরমোনের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। বিয়ের পর বা সন্তান ধারণের বয়সে হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হলে প্রথমেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। তবে গর্ভধারণ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ হতে পারে।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ নির্ণয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন মাসিক না হলে নিজে থেকে হরমোনের ওষুধ বা ঘরোয়া চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়; বরং চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ জেনে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। যাদের নিয়মিত মাসিক হতো এবং হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে, বিশেষ করে যদি অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক হয়ে থাকে, তাহলে প্রথমেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা উচিত, কারণ অনেক সময় গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ হিসেবেই পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা শরীরের হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে, যার ফলে মাসিক দেরি হওয়া বা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ কমানো জরুরি। হঠাৎ অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া বা দ্রুত ওজন কমে যাওয়া মাসিক চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে, এজন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক ওজন ধরে রাখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), থাইরয়েড সমস্যা বা অন্যান্য হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতার কারণেও পিরিয়ড বন্ধ হতে পারে, এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট বা অতিরিক্ত ব্যায়াম শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির ঘাটতি তৈরি করে, যা মাসিক চক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার সন্তান জন্মের পর, বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের অনেকেরই কয়েক মাস মাসিক না-ও হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক; তবে দীর্ঘদিন মাসিক না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, তিন মাস বা তার বেশি সময় পিরিয়ড না হলে, বারবার মাসিক অনিয়মিত হলে, তীব্র পেটব্যথা বা অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে, অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত লোম গজানো বা ব্রণের সমস্যা দেখা দিলে কিংবা গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সবশেষে বলা যায়, পিরিয়ড বন্ধ হওয়া সব সময় বড় কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়, তবে শরীরের পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে কারণ খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























