সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমানের স্টুডিওতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কে এই শাহরিয়ার?

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে ভাঙচুর এবং ওই জমিতে হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী এবং মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০) গ্রেপ্তার হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদের ইন্ধন ও হুকুমে আসামিরা অস্ত্র-শস্ত্রসহ শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোড়া, রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সালমান মুক্তাদির স্টুডিও তৈরি করেছিলেন। হামলার সময় স্টুডিওটি ভাঙচুর করা হয়।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায় বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্রেপ্তার শাহরিয়ারের বয়স ৬০ বছর। তিনি থাকেন মিরপুরের সেকশন-১২ এর ৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে।

শনিবার দিনগত রাতে দুই ট্রাকে লোকজন গিয়ে হামলা চালিয়ে স্টুডিওটি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ সালমান মুক্তাদিরের।

হামলার ঘটনার পরপরই শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে ভুক্তভোগী সালমান মুক্তাদির বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান ওই ভিডিওতে বলেন, আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে। সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিকভাবে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।

হামলার ঘটনায় ‘বিএনপির লোকজন জড়িত’ অভিযোগ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, বিএনপির লোকজন যারা, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?

ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ ওই জমিতে একটি গেট তৈরি করে অন্যদের যাতায়াত আটকে দিয়েছিল। চলাচলে সমস্যার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে যায়। আমরা ইতোমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত শাহরিয়ার মাহমুদসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সালমানের স্টুডিওতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কে এই শাহরিয়ার?

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে ভাঙচুর এবং ওই জমিতে হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী এবং মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০) গ্রেপ্তার হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদের ইন্ধন ও হুকুমে আসামিরা অস্ত্র-শস্ত্রসহ শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোড়া, রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সালমান মুক্তাদির স্টুডিও তৈরি করেছিলেন। হামলার সময় স্টুডিওটি ভাঙচুর করা হয়।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায় বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্রেপ্তার শাহরিয়ারের বয়স ৬০ বছর। তিনি থাকেন মিরপুরের সেকশন-১২ এর ৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে।

শনিবার দিনগত রাতে দুই ট্রাকে লোকজন গিয়ে হামলা চালিয়ে স্টুডিওটি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ সালমান মুক্তাদিরের।

হামলার ঘটনার পরপরই শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে ভুক্তভোগী সালমান মুক্তাদির বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান ওই ভিডিওতে বলেন, আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে। সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিকভাবে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।

হামলার ঘটনায় ‘বিএনপির লোকজন জড়িত’ অভিযোগ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, বিএনপির লোকজন যারা, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?

ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ ওই জমিতে একটি গেট তৈরি করে অন্যদের যাতায়াত আটকে দিয়েছিল। চলাচলে সমস্যার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে যায়। আমরা ইতোমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত শাহরিয়ার মাহমুদসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না।