সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব ব্রান্ডের গাড়ি তৈরির একাধিক উদ্যোগ

অটোমোবাইল শিল্পে বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের হাতছানি। বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে দেশীয় গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠাগুলোও। অনেক যন্ত্রাংশই এখন দেশে তৈরি হচ্ছে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্রান্ডের গাড়ি উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা।

মানুষের আয় বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। বাড়ছে গাড়ির চাহিদা। ২০০৫ সালে দেশে নিবন্ধিত প্রাইভেট কারের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার। যা এখন ৪৫ লাখ।

বাংলাদেশ জাপানি পুরনো গাড়ির একচেটিয়া বাজার। তবে নতুন গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ নতুন গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। যার মধ্যে দেশে সংযোজিত গাড়িও রয়েছে। আর এটাই স্বপ্ন দেখাচ্ছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান হোসেন গ্রুপ ইতিমধ্যেই ‘বাংলা কার’ ব্র্যান্ডের নতুন গাড়ি তৈরি করেছে। কয়েকটি দেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে বানানো হয় এই গাড়ি।

হোসেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, আমরা এনবিআর ও কাস্টমসের সাথে কথা বলেছি যে, এটা কিভাবে এক্সপোর্ট করা যায়। কমছে কম ৫ হাজার উৎপাদন করলে কোম্পানিটি সাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবে।

মালয়েশিয়ান প্রোটন ব্রান্ডের গাড়ির সংযোজন করছে আরেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান পিএইচপি অটোমোবাইলস। কিছু যন্ত্রাংশ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করছে।

পিএইচপি অটোমোবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভেজ আক্তার চৌধুরী বলেন, একটা দেশে যখন পাল্টিপল ব্রান্ড হয় তখনই কিন্তু ওই দেশে ফ্লাইসটা বেশি হয়। আমাদের বাংলাদেশে আরও ইন্ডাস্ট্রি হওয়া উচিত।

স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ফেয়ার টেকনোলজিস হুন্দাই গাড়ির উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনে জমি নিয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে।

অটোমোবাইল খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান ইফাদ অটোস গড়ে তুলেছে সংযোজনের বড় কারখানা। বাস ও পণ্যবাহী গাড়ির অনেক যন্ত্রাংশই তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইফাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ টিপু বলেন, আমাদের ইচ্ছা আছে লোকালের ৫০ শতাংশ যন্ত্রাংশ আমরা তৈরি করবো। আপাতত ২২ শতাংশ পর্যন্ত আমরা চলে গেছি।

ভারতীয় কোম্পানি টাটার সঙ্গে যৌথভাবে অটোমোবাইল কারখানা করছে নিটল-নিলয় গ্রুপ। এছাড়া রানার, এসিআই, র‌্যাংকস, ওয়ালটন, এনার্জিপ্যাক, আফতাব অটো ও উত্তরা মটরসসহ আরও কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে সংযোজন কারখানা।

ভবিষ্যতে নিজস্ব ব্রান্ডের গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখছে দেশীয় উদ্যোক্তারা।

যে কয়েকটি খাতের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে অটোমোবাইল খাত এর মধ্যে অন্যতম। এ খাতের উদ্যোক্তরা ইতিমধ্যে যন্ত্রাংশ আমদানি করে এখানে সংযোজনের মাধ্যমে গাড়ি উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে সম্প্রতি স্বপ্ন দেখছেন এ দেশেই উৎপাদিত যন্ত্রাংশ দিয়ে গাড়ী উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করার। এর ফলে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান হবে অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক অর্থও অর্জন সম্ভব হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন নীতিগত সহায়তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

নিজস্ব ব্রান্ডের গাড়ি তৈরির একাধিক উদ্যোগ

প্রকাশিত সময় : ১২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১

অটোমোবাইল শিল্পে বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের হাতছানি। বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে দেশীয় গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠাগুলোও। অনেক যন্ত্রাংশই এখন দেশে তৈরি হচ্ছে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্রান্ডের গাড়ি উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা।

মানুষের আয় বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। বাড়ছে গাড়ির চাহিদা। ২০০৫ সালে দেশে নিবন্ধিত প্রাইভেট কারের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার। যা এখন ৪৫ লাখ।

বাংলাদেশ জাপানি পুরনো গাড়ির একচেটিয়া বাজার। তবে নতুন গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ নতুন গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। যার মধ্যে দেশে সংযোজিত গাড়িও রয়েছে। আর এটাই স্বপ্ন দেখাচ্ছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান হোসেন গ্রুপ ইতিমধ্যেই ‘বাংলা কার’ ব্র্যান্ডের নতুন গাড়ি তৈরি করেছে। কয়েকটি দেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে বানানো হয় এই গাড়ি।

হোসেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, আমরা এনবিআর ও কাস্টমসের সাথে কথা বলেছি যে, এটা কিভাবে এক্সপোর্ট করা যায়। কমছে কম ৫ হাজার উৎপাদন করলে কোম্পানিটি সাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবে।

মালয়েশিয়ান প্রোটন ব্রান্ডের গাড়ির সংযোজন করছে আরেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান পিএইচপি অটোমোবাইলস। কিছু যন্ত্রাংশ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করছে।

পিএইচপি অটোমোবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভেজ আক্তার চৌধুরী বলেন, একটা দেশে যখন পাল্টিপল ব্রান্ড হয় তখনই কিন্তু ওই দেশে ফ্লাইসটা বেশি হয়। আমাদের বাংলাদেশে আরও ইন্ডাস্ট্রি হওয়া উচিত।

স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ফেয়ার টেকনোলজিস হুন্দাই গাড়ির উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনে জমি নিয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে।

অটোমোবাইল খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান ইফাদ অটোস গড়ে তুলেছে সংযোজনের বড় কারখানা। বাস ও পণ্যবাহী গাড়ির অনেক যন্ত্রাংশই তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইফাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ টিপু বলেন, আমাদের ইচ্ছা আছে লোকালের ৫০ শতাংশ যন্ত্রাংশ আমরা তৈরি করবো। আপাতত ২২ শতাংশ পর্যন্ত আমরা চলে গেছি।

ভারতীয় কোম্পানি টাটার সঙ্গে যৌথভাবে অটোমোবাইল কারখানা করছে নিটল-নিলয় গ্রুপ। এছাড়া রানার, এসিআই, র‌্যাংকস, ওয়ালটন, এনার্জিপ্যাক, আফতাব অটো ও উত্তরা মটরসসহ আরও কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে সংযোজন কারখানা।

ভবিষ্যতে নিজস্ব ব্রান্ডের গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখছে দেশীয় উদ্যোক্তারা।

যে কয়েকটি খাতের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে অটোমোবাইল খাত এর মধ্যে অন্যতম। এ খাতের উদ্যোক্তরা ইতিমধ্যে যন্ত্রাংশ আমদানি করে এখানে সংযোজনের মাধ্যমে গাড়ি উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে সম্প্রতি স্বপ্ন দেখছেন এ দেশেই উৎপাদিত যন্ত্রাংশ দিয়ে গাড়ী উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করার। এর ফলে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান হবে অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক অর্থও অর্জন সম্ভব হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন নীতিগত সহায়তা।