মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শহীদজায়া মুশতারী শফী মারা গেছেন

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক, সাহিত্যিক, নারীনেত্রী, উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি ও শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

বেগম মুশতারী শফী ছিলেন বাংলা একাডেমি ফেলো এবং বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত। চট্টগ্রামে নারী অধিকার আদায় ও ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্র সৈনিক ও সংগঠক।

মরহুমের মেয়ে রুমানা শফী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোমবার বিকেল সোয়া ৫টায় মারা যান আম্মা। তাকে চট্টগ্রামে দাফন করা হবে। তবে কয়টায় জানাজা এবং দাফন করা হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’

কিডনি, রক্তে ইনফেকশনসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় তাকে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত ২ ডিসেম্বর ঢাকায় সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৭ এপ্রিল বেগম মুশতারীর স্বামী চিকিৎসক মোহাম্মদ শফী ও ছোট ভাই এহসানুল হক আনসারীকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন বেগম মুশতারী। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকার জন্য ২০১৬ সালে শহীদজায়া মুশতারী শফীকে ফেলোশিপ দেয় বাংলা একাডেমি। ২০২০ সালে পেয়েছেন বেগম রোকেয়া পদক।

‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী’, ‘চিঠি’, ‘জাহানারা ইমামকে’ এবং ‘স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন’ মুশতারী শফীর উল্লেখযোগ্য রচনা।

১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে ‘বান্ধবী’ নামে মাসিক সাময়িকী প্রকাশ করেছিলেন মুশতারী শফী। বাংলাদেশে নারীদের জন্য প্রকাশিত দ্বিতীয় সাময়িকী বলা হয় ‘বান্ধবী’কে। বান্ধবী সংঘ প্রচারের সময় মেয়েদের প্রেস নামে একটি ব্যতিক্রমী মুদ্রণ সংস্থাও গড়ে তুলেছিলেন লড়াকু এই নারী।

মুশতারী শফীর জন্ম ১৯৩৮ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শহীদজায়া মুশতারী শফী মারা গেছেন

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২১

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক, সাহিত্যিক, নারীনেত্রী, উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি ও শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

বেগম মুশতারী শফী ছিলেন বাংলা একাডেমি ফেলো এবং বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত। চট্টগ্রামে নারী অধিকার আদায় ও ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্র সৈনিক ও সংগঠক।

মরহুমের মেয়ে রুমানা শফী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোমবার বিকেল সোয়া ৫টায় মারা যান আম্মা। তাকে চট্টগ্রামে দাফন করা হবে। তবে কয়টায় জানাজা এবং দাফন করা হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’

কিডনি, রক্তে ইনফেকশনসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় তাকে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত ২ ডিসেম্বর ঢাকায় সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৭ এপ্রিল বেগম মুশতারীর স্বামী চিকিৎসক মোহাম্মদ শফী ও ছোট ভাই এহসানুল হক আনসারীকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন বেগম মুশতারী। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকার জন্য ২০১৬ সালে শহীদজায়া মুশতারী শফীকে ফেলোশিপ দেয় বাংলা একাডেমি। ২০২০ সালে পেয়েছেন বেগম রোকেয়া পদক।

‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী’, ‘চিঠি’, ‘জাহানারা ইমামকে’ এবং ‘স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন’ মুশতারী শফীর উল্লেখযোগ্য রচনা।

১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে ‘বান্ধবী’ নামে মাসিক সাময়িকী প্রকাশ করেছিলেন মুশতারী শফী। বাংলাদেশে নারীদের জন্য প্রকাশিত দ্বিতীয় সাময়িকী বলা হয় ‘বান্ধবী’কে। বান্ধবী সংঘ প্রচারের সময় মেয়েদের প্রেস নামে একটি ব্যতিক্রমী মুদ্রণ সংস্থাও গড়ে তুলেছিলেন লড়াকু এই নারী।

মুশতারী শফীর জন্ম ১৯৩৮ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে।