রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পায়ের জ্বালাপোড়া রোধে করণীয়

পায়ের জ্বালাপোড়া রোধে করণীয়

অনেকেরই পায়ের তলায় জ্বালা পোড়া অনুভুত হয়। এর ফলে ঘুম কম হওয়া, শরীরে অস্বস্তি বোধ হয়। মাঝেমধ্যে সমস্যা এতটাই তীব্র হয় যে সহ্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস এই সমস্যার মূল কারণ বলে মনে করা হয়। এই ব্যথা হালকা এবং কখনও মারাত্মক হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি বার্নিং ফিট সিনড্রোম হিসাবে পরিচিত।

পায়ে এই জ্বলন্ত সংবেদনটি রাতে আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। কখনও কখনও পায়ের পিছনে, গোড়ালি এবং পায়ের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের জ্বলুনি শুরু হয়।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খেলে, পানি কম খেলে বা কড়া ওষুধ খেলে এই সমস্যা হতে পারে। অনেকসময় ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে বার্নিং ফিট সিনড্রোমের সমস্যা নিরাময় করা যায়।

যেমন-

ঠান্ডা পানি ব্যবহার : রাতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। পা জ্বালা অনুভুত হলে তাতে ঠান্ডা পানি দিন, বা কোনও কাপড় ভিজিয়ে জড়িয়ে রাখুন। এতে স্বস্তি মিলবে। কারণ এই জ্বলুনি এবং ব্যথা রাতেই বেশি বাড়ে। ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে এপসোম লবণ দিয়ে কিছুক্ষণ রাখলে ব্যথা এবং জ্বলুনি কমবে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার পরেই ক্রিম বা অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার : জ্বলন্ত পায়ের সিনড্রোম থেকে মুক্তি দেয় অ্যাপল সিডার ভিনেগার। কয়েক শতাব্দী ধরে পায়ের সাথে সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে অ্যাপলে সিডার ভিনেগার ব্যবহার করা হচ্ছে। পায়ের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে পা ধুয়ে এই ভিনেগার লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

হলুদ : হলুদ এমন একটি মসলা বা ওষুধ যা প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পাওয়া যায়। এটি কয়েক শতাব্দী ধরে রান্না এবং ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বার্নিং ফিট সিনড্রোম থেকেও স্বস্তি দিতে পারে। এজন্য নারকেল তেলের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে পায়ে লাগাতে পারেন। এতে ব্যথা কমবে এবং পায়ের জ্বালা কমে যাবে।

ম্যাসাজে আরাম : শরীরের যে কোনও অংশে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটে। অন্যদিকে, যদি পায়ের মধ্যে জ্বলন্ত সংবেদন থাকে তবে ম্যাসাজও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পায়ের জ্বালাপোড়া রোধে করণীয়

প্রকাশিত সময় : ১২:১৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১

অনেকেরই পায়ের তলায় জ্বালা পোড়া অনুভুত হয়। এর ফলে ঘুম কম হওয়া, শরীরে অস্বস্তি বোধ হয়। মাঝেমধ্যে সমস্যা এতটাই তীব্র হয় যে সহ্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস এই সমস্যার মূল কারণ বলে মনে করা হয়। এই ব্যথা হালকা এবং কখনও মারাত্মক হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি বার্নিং ফিট সিনড্রোম হিসাবে পরিচিত।

পায়ে এই জ্বলন্ত সংবেদনটি রাতে আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। কখনও কখনও পায়ের পিছনে, গোড়ালি এবং পায়ের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের জ্বলুনি শুরু হয়।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খেলে, পানি কম খেলে বা কড়া ওষুধ খেলে এই সমস্যা হতে পারে। অনেকসময় ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে বার্নিং ফিট সিনড্রোমের সমস্যা নিরাময় করা যায়।

যেমন-

ঠান্ডা পানি ব্যবহার : রাতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। পা জ্বালা অনুভুত হলে তাতে ঠান্ডা পানি দিন, বা কোনও কাপড় ভিজিয়ে জড়িয়ে রাখুন। এতে স্বস্তি মিলবে। কারণ এই জ্বলুনি এবং ব্যথা রাতেই বেশি বাড়ে। ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে এপসোম লবণ দিয়ে কিছুক্ষণ রাখলে ব্যথা এবং জ্বলুনি কমবে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার পরেই ক্রিম বা অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার : জ্বলন্ত পায়ের সিনড্রোম থেকে মুক্তি দেয় অ্যাপল সিডার ভিনেগার। কয়েক শতাব্দী ধরে পায়ের সাথে সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে অ্যাপলে সিডার ভিনেগার ব্যবহার করা হচ্ছে। পায়ের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে পা ধুয়ে এই ভিনেগার লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

হলুদ : হলুদ এমন একটি মসলা বা ওষুধ যা প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পাওয়া যায়। এটি কয়েক শতাব্দী ধরে রান্না এবং ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বার্নিং ফিট সিনড্রোম থেকেও স্বস্তি দিতে পারে। এজন্য নারকেল তেলের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে পায়ে লাগাতে পারেন। এতে ব্যথা কমবে এবং পায়ের জ্বালা কমে যাবে।

ম্যাসাজে আরাম : শরীরের যে কোনও অংশে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটে। অন্যদিকে, যদি পায়ের মধ্যে জ্বলন্ত সংবেদন থাকে তবে ম্যাসাজও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।