শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রবাসী আয়ে বড় ধাক্কা

করোনা পরিস্থিতি উন্নতির পর বিদেশে কর্মী যাওয়া বাড়লেও প্রবাসী আয়ে তার প্রভাব পড়েনি। এমনকি ঈদের আগের মাসেও হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স। সব মিলে সদ্য বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০০ কোটি (২১ বিলিয়ন) ডলারের কিছু বেশি। এটি তার আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহামারী করোনার পর এক প্রকার হুন্ডির ফাঁদে পড়েছে রেমিট্যান্স। এর ফলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। এমনকি নগদ সহায়তা বাড়ানোর পরও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পতন থামানো যায়নি। মূলত ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজারে রেট বেশি হওয়ায় প্রবাসীদের অনেকেই হুন্ডি পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ উৎসাহিত করতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এতদিন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ১০২ টাকা পেতেন। এখন পাচ্ছেন ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে এখন এক ডলার রেমিট্যান্সের বিপরীতে ব্যাংক ৯৩ থেকে ৯৪ টাকা দিচ্ছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা। সব মিলিয়ে ৯৫ থেকে ৯৬ টাকা পাওয়া যায়; কিন্তু খোলাবাজারে ডলার ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে ভিন্ন পথে রেমিট্যান্স এলে বেশি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল তা ছিল আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম)। অর্থাৎ যেসব অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে আসত, ওই অর্থবছরে করোনার কারণে বিশ্বে যাতায়াত বন্ধ থাকায় ওই অর্থটা ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। করোনার পরিস্থিতি উন্নতির পর আবার যাতায়াত শুরু হওয়ায় সেই অর্থ এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে আর আসছে না। আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে- এখন কার্ব মার্কেটের সঙ্গে ব্যাংকের মানি এক্সচেঞ্জ রেটের ব্যবধান অনেক বেশি। তাই যে কোনো মূল্যেই হোক কার্ব মার্কেটের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের রেট সমন্বয় করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সর্বশেষ জুন মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি ডলার ও আগের মাসের চেয়ে ৫ কোটি ডলার কম। শুধু জুন মাসই নয়, গেল অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে এক প্রকার ভাটা চলে আসছিল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গেল অর্থবছরের পুরো (জুলাই-জুন) সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এটি ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

মহামারী করোনার মধ্যেই অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা ছিল তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫১ লাখ ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ১৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রবাসী আয়ে বড় ধাক্কা

প্রকাশিত সময় : ১০:০৯:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২

করোনা পরিস্থিতি উন্নতির পর বিদেশে কর্মী যাওয়া বাড়লেও প্রবাসী আয়ে তার প্রভাব পড়েনি। এমনকি ঈদের আগের মাসেও হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স। সব মিলে সদ্য বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০০ কোটি (২১ বিলিয়ন) ডলারের কিছু বেশি। এটি তার আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহামারী করোনার পর এক প্রকার হুন্ডির ফাঁদে পড়েছে রেমিট্যান্স। এর ফলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। এমনকি নগদ সহায়তা বাড়ানোর পরও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পতন থামানো যায়নি। মূলত ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজারে রেট বেশি হওয়ায় প্রবাসীদের অনেকেই হুন্ডি পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ উৎসাহিত করতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এতদিন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ১০২ টাকা পেতেন। এখন পাচ্ছেন ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে এখন এক ডলার রেমিট্যান্সের বিপরীতে ব্যাংক ৯৩ থেকে ৯৪ টাকা দিচ্ছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা। সব মিলিয়ে ৯৫ থেকে ৯৬ টাকা পাওয়া যায়; কিন্তু খোলাবাজারে ডলার ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে ভিন্ন পথে রেমিট্যান্স এলে বেশি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল তা ছিল আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম)। অর্থাৎ যেসব অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে আসত, ওই অর্থবছরে করোনার কারণে বিশ্বে যাতায়াত বন্ধ থাকায় ওই অর্থটা ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। করোনার পরিস্থিতি উন্নতির পর আবার যাতায়াত শুরু হওয়ায় সেই অর্থ এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে আর আসছে না। আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে- এখন কার্ব মার্কেটের সঙ্গে ব্যাংকের মানি এক্সচেঞ্জ রেটের ব্যবধান অনেক বেশি। তাই যে কোনো মূল্যেই হোক কার্ব মার্কেটের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের রেট সমন্বয় করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সর্বশেষ জুন মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি ডলার ও আগের মাসের চেয়ে ৫ কোটি ডলার কম। শুধু জুন মাসই নয়, গেল অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে এক প্রকার ভাটা চলে আসছিল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গেল অর্থবছরের পুরো (জুলাই-জুন) সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এটি ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

মহামারী করোনার মধ্যেই অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা ছিল তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫১ লাখ ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ১৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে