সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনীলের ৮৮তম জন্মদিন আজ

কবি ও কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৮৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ফরিদপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে জন্ম হলেও তিনি বড় হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পড়াশুনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক

‘কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি/ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল/শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে/তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো কিন্তু সেই বোষ্টুমী/আর এলো না/পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।’

‘কেউ কথা রাখেনি’- শিরোনামের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতাটি আজ চলায় বলায় জীবনে মননে অনেকের জন্যই উপমা।

সুনীল ছিলেন একদিকে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার আবার অন্যদিকে সম্পাদক ও সাংবাদিক। কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন।

তবে তার প্রথম ভালবাসাই ছিল কবিতা। গল্প, কবিতা, উপন্যাস নিয়ে তার বইয়ের সংখ্যা দু’শরও বেশি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’ দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে শুরু করে ১৯৬৫ সালে। বাংলা আধুনিক কবিতার পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’ এর অন্যতম জনক তিনিই।

১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’, ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’। পরিণত বয়সে এসে লিখেছেন ‘সেই সময়’, ‘প্রথম আলো’ অথবা ‘পূর্ব পশ্চিম’ এর মতো মডার্ন ক্ল্যাসিক। আবার ‘নীললোহিত’ ছদ্মনামে পায়জামা পরা ভবঘুরে বেকার চরিত্র সুনীলের এক ব্যতিক্রম সৃষ্টি।

তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই ‘আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি’, ‘যুগলবন্দী’ , ‘হঠাৎ নীরার জন্য’, ‘রাত্রির রঁদেভূ’, ‘শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা’, ‘অর্ধেক জীবন’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘অর্জুন’, ‘ভানু ও রাণু’, ‘মনের মানুষ’ ইত্যাদি। শিশুসাহিত্যে তিনি ‘কাকাবাবু-সন্তু’ নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বেশ কিছু গল্প-উপন্যাসের কাহিনী চলচ্চিত্র হয়েছে। এর মধ্যে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ এবং ‘প্রতিদ্বন্দ্বী উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া কাকাবাবু চরিত্রের দু`টি কাহিনী ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’ এবং ‘কাকাবাবু হেরে গেলেন’ চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। ‘হঠাৎ নীরার জন্য’ও চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে।

২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর সুনীল মারা যান। সৃষ্টির জন্যই তিনি আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সুনীলের ৮৮তম জন্মদিন আজ

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

কবি ও কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৮৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ফরিদপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে জন্ম হলেও তিনি বড় হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পড়াশুনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক

‘কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি/ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল/শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে/তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো কিন্তু সেই বোষ্টুমী/আর এলো না/পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।’

‘কেউ কথা রাখেনি’- শিরোনামের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতাটি আজ চলায় বলায় জীবনে মননে অনেকের জন্যই উপমা।

সুনীল ছিলেন একদিকে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার আবার অন্যদিকে সম্পাদক ও সাংবাদিক। কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন।

তবে তার প্রথম ভালবাসাই ছিল কবিতা। গল্প, কবিতা, উপন্যাস নিয়ে তার বইয়ের সংখ্যা দু’শরও বেশি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’ দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে শুরু করে ১৯৬৫ সালে। বাংলা আধুনিক কবিতার পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’ এর অন্যতম জনক তিনিই।

১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’, ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’। পরিণত বয়সে এসে লিখেছেন ‘সেই সময়’, ‘প্রথম আলো’ অথবা ‘পূর্ব পশ্চিম’ এর মতো মডার্ন ক্ল্যাসিক। আবার ‘নীললোহিত’ ছদ্মনামে পায়জামা পরা ভবঘুরে বেকার চরিত্র সুনীলের এক ব্যতিক্রম সৃষ্টি।

তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই ‘আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি’, ‘যুগলবন্দী’ , ‘হঠাৎ নীরার জন্য’, ‘রাত্রির রঁদেভূ’, ‘শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা’, ‘অর্ধেক জীবন’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘অর্জুন’, ‘ভানু ও রাণু’, ‘মনের মানুষ’ ইত্যাদি। শিশুসাহিত্যে তিনি ‘কাকাবাবু-সন্তু’ নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বেশ কিছু গল্প-উপন্যাসের কাহিনী চলচ্চিত্র হয়েছে। এর মধ্যে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ এবং ‘প্রতিদ্বন্দ্বী উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া কাকাবাবু চরিত্রের দু`টি কাহিনী ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’ এবং ‘কাকাবাবু হেরে গেলেন’ চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। ‘হঠাৎ নীরার জন্য’ও চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে।

২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর সুনীল মারা যান। সৃষ্টির জন্যই তিনি আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন।