বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, আমাকে দিল্লি সফরের বিষয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা সময়টা দেখছি, কখন আমার জন্য এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দৃশ্যমান হয়। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা চাচ্ছি প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর ভারত হবে। হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার আমার সঙ্গে মূলত সৌজন্য সাক্ষাত করতে এসেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার এ প্রথম কোনো রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। আমাদের মধ্যে নানা বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কানেকটিভিটি ইস্যু, সীমান্ত হাট, বাণিজ্য সম্প্রচারণ ও বিশেষত ভারতীয় রুপি ও বাংলাদেশি টাকার বিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্যকে আরো সম্প্রচারণ নিয়ে কথা হয়েছে। রুপি ও টাকার বিনিময় এরইমধ্যে শুরু হয়েছে আর অল্পকিছু বাণিজ্যও হয়েছে। এটিকে আরো কীভাবে সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় করা যায়, সবার কাছে পরিচিত করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে। সেটি হলে ডলার কিংবা অন্য মুদ্রার ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা কমে যাবে, ভারতেরও কমবে। দু-দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর ব্যবহার করে ভারতের পণ্য উত্তর-পূর্ব প্রদেশগুলোতে নিয়ে যাওয়া একটি দীর্ঘদিনের ইস্যু। বহুদিনের পুরোনো এই ইস্যু নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখন কিছুটা হচ্ছে, এটিকে আরও সম্প্রসারিত করতে আমাদের অবকাঠামো নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নীতিগতকাঠামো নিয়েও কথা বলেছি। ছোটোখাটো কিছু বিষয় আছে, সেগুলো হয়ে গেলেই চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে রামগড় ও আখাউড়া দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু হবে।

কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (এসইপি) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ এ বিষয়ে সেভাবে আলোচনা হয়নি। তবে আমাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী কোনো বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। দেশে অগ্নিসন্ত্রাস চালানো হয়েছে। পাঁচ জানুয়ারি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে ট্রেনের ভেতরে একটি পরিবারকে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য মানুষও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এগুলো করা হয়েছে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য। এসব বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৫:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪

প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, আমাকে দিল্লি সফরের বিষয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা সময়টা দেখছি, কখন আমার জন্য এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দৃশ্যমান হয়। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা চাচ্ছি প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর ভারত হবে। হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার আমার সঙ্গে মূলত সৌজন্য সাক্ষাত করতে এসেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার এ প্রথম কোনো রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। আমাদের মধ্যে নানা বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কানেকটিভিটি ইস্যু, সীমান্ত হাট, বাণিজ্য সম্প্রচারণ ও বিশেষত ভারতীয় রুপি ও বাংলাদেশি টাকার বিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্যকে আরো সম্প্রচারণ নিয়ে কথা হয়েছে। রুপি ও টাকার বিনিময় এরইমধ্যে শুরু হয়েছে আর অল্পকিছু বাণিজ্যও হয়েছে। এটিকে আরো কীভাবে সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় করা যায়, সবার কাছে পরিচিত করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে। সেটি হলে ডলার কিংবা অন্য মুদ্রার ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা কমে যাবে, ভারতেরও কমবে। দু-দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর ব্যবহার করে ভারতের পণ্য উত্তর-পূর্ব প্রদেশগুলোতে নিয়ে যাওয়া একটি দীর্ঘদিনের ইস্যু। বহুদিনের পুরোনো এই ইস্যু নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখন কিছুটা হচ্ছে, এটিকে আরও সম্প্রসারিত করতে আমাদের অবকাঠামো নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নীতিগতকাঠামো নিয়েও কথা বলেছি। ছোটোখাটো কিছু বিষয় আছে, সেগুলো হয়ে গেলেই চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে রামগড় ও আখাউড়া দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু হবে।

কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (এসইপি) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ এ বিষয়ে সেভাবে আলোচনা হয়নি। তবে আমাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী কোনো বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। দেশে অগ্নিসন্ত্রাস চালানো হয়েছে। পাঁচ জানুয়ারি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে ট্রেনের ভেতরে একটি পরিবারকে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য মানুষও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এগুলো করা হয়েছে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য। এসব বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।