বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতুতে খরচ কম হয়েছে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা

বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান কিছুক্ষণ পরই অনুষ্ঠিত হবে। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে হবে এ অনুষ্ঠান। নেওয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দের ৩২ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে। মূল সেতুর ১৩ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা খরচে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৫২৬ কোটি টাকা। তবে নদী শাসনে বেশি লেগেছে প্রায় ১৭১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি জানান। শফিকুল ইসলাম বলেন, নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমাদের কাজটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা সরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় আমরা সেতুর কাজ শেষ করতে পেরেছি। মানুষকে একটি সুন্দর সেতু তৈরি করে দিতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের সর্বশেষ বরাদ্দ থেকে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে। আমরা ওই টাকা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেব। তিনি বলেন, এটি অনেক বড় একটি প্রকল্প। আমাদের কিছু ক্লেইম ছিল। নদীশাসন ও কারিগরি কিছু কাজ বাকি ছিল। বড় কাঠামো তৈরির পর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড থাকে। এ সময়ে অবকাঠামোর ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে (যেমন কোথাও রং উঠে গেছে, কোথাও কিছুটা কাজ বাকি থেকে গেছে ইত্যাদি) তা সংশোধন করা হয়। ঠিকাদারদেরও বেশ কিছু ক্লেইম ছিল। এ কারণে বারবার আমাদের মিটিং করতে হয়েছে। অর্থাৎ সব কাজ এ সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে, গত ৩০ জুনই সম্পন্ন হয়েছে। ২৩ বছর আগে ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকারে ফিরে ২০০৯ সাল থেকে আবার পুরোদমে কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরের বছর ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মার বুকে চলন্ত ফেরিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরে জাইকা, আইডিবি ও এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়। কিন্তু ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করে। ২৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে কাজ চলমান রাখেন এবং ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর স্বপ্ন জয়ের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

পদ্মা সেতুতে খরচ কম হয়েছে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা

প্রকাশিত সময় : ১০:২৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান কিছুক্ষণ পরই অনুষ্ঠিত হবে। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে হবে এ অনুষ্ঠান। নেওয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দের ৩২ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে। মূল সেতুর ১৩ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা খরচে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৫২৬ কোটি টাকা। তবে নদী শাসনে বেশি লেগেছে প্রায় ১৭১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি জানান। শফিকুল ইসলাম বলেন, নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমাদের কাজটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা সরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় আমরা সেতুর কাজ শেষ করতে পেরেছি। মানুষকে একটি সুন্দর সেতু তৈরি করে দিতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের সর্বশেষ বরাদ্দ থেকে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে। আমরা ওই টাকা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেব। তিনি বলেন, এটি অনেক বড় একটি প্রকল্প। আমাদের কিছু ক্লেইম ছিল। নদীশাসন ও কারিগরি কিছু কাজ বাকি ছিল। বড় কাঠামো তৈরির পর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড থাকে। এ সময়ে অবকাঠামোর ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে (যেমন কোথাও রং উঠে গেছে, কোথাও কিছুটা কাজ বাকি থেকে গেছে ইত্যাদি) তা সংশোধন করা হয়। ঠিকাদারদেরও বেশ কিছু ক্লেইম ছিল। এ কারণে বারবার আমাদের মিটিং করতে হয়েছে। অর্থাৎ সব কাজ এ সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে, গত ৩০ জুনই সম্পন্ন হয়েছে। ২৩ বছর আগে ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকারে ফিরে ২০০৯ সাল থেকে আবার পুরোদমে কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরের বছর ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মার বুকে চলন্ত ফেরিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরে জাইকা, আইডিবি ও এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়। কিন্তু ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করে। ২৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে কাজ চলমান রাখেন এবং ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর স্বপ্ন জয়ের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।