শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নুসরাত বিয়ে করেননি দাবি করলেও সরকারি নথি বলছে ভিন্নকথা

পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত অভিনেত্রী ও সাংসদ নুসরাত জাহানের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে নানা শোরগোল। এর মধ্যে তার সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবরও বেরিয়েছে। তবে বুধবার নুসরাত গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, তিনি নিখিল জৈনের সঙ্গে লিভ টুগেদার করেছেন। বিয়ে করেননি। তবে সরকারি নথি বলছে ভিন্নকথা। লোকসভার ওয়েবসাইটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জয়ী তৃণমূল সাংসদদের যে তালিকা তাতে নুসরাতের নামে ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে যাবতীয় তথ্য। সেখানে স্পষ্ট লেখা নুসরাত বিবাহিত। তিনি বিয়ে করেছেন ২০১৯ সালের ১৯ জুন। স্বামীর নাম নিখিল জৈন।

সম্প্রতি জানা যায়, মা হতে চলেছেন নুসরাত। অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় কী তা নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে বিতর্ক তুঙ্গে। শুধু তাই নয়, নিখিলের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে না কেন, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চার দিক থেকে। এমনকি বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও নুসরাতের নীরবতা নিয়ে কথা বলেছিলেন নেটমাধ্যমে। লিখেছিলেন, ‘…এই যদি পরিস্থিতি হয়, তবে নিখিল আর নুসরাতের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়? অচল কোনো সম্পর্ক বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। এতে দু’পক্ষেরই অস্বস্তি।’ এরপরেই নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি নিখিলকে বিয়েই করেননি।

খুব কম অতিথি নিয়েই তুরস্কে বিয়ে হয়েছিল নুসরাত ও নিখিলের। সেই প্রসঙ্গ টেনে নুসরাত জানিয়েছেন, তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে ওই অনুষ্ঠান অবৈধ। উপরন্তু হিন্দু-মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে বিয়ে করা উচিত। যা এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি। ফলত, এটা বিয়েই নয়। বুধবার এমনই যুক্তি প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী সাংসদ। তার দাবি অনুযায়ী, যে বিয়ে আইনত সিদ্ধ নয়, তার জন্য বিবাহ বিচ্ছেদের প্রয়োজন নেই।

কিন্তু সংসদকে বিবাহিত হিসেবে পরিচয় জানিয়েছেন কেন? এবার উঠবে সেই প্রশ্ন। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী সংসদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওয়েবসাইটে পরিচয় দেয়া হয়। তবে গত লোকসভা ভোটের আগে লোকসভা নির্বাচনকে যে হলফনামা দিয়েছিলেন নুসরাত তাতে অবিবাহিতই দাবি করেছিলেন নিজেকে। কারণ, তার বিয়ের যে তারিখ লোকসভার ওয়েবসাইটে রয়েছে তা নির্বাচনের পরের। এমনকি বিয়ের জন্য কিছুটা বিলম্বে শপথ নিয়েছিলেন নুসরাত জাহান। তার সঙ্গে মিমি চক্রবর্তীও দেরিতে শপথ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নুসরাত বিয়ে করেননি দাবি করলেও সরকারি নথি বলছে ভিন্নকথা

প্রকাশিত সময় : ১০:২৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুন ২০২১

পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত অভিনেত্রী ও সাংসদ নুসরাত জাহানের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে নানা শোরগোল। এর মধ্যে তার সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবরও বেরিয়েছে। তবে বুধবার নুসরাত গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, তিনি নিখিল জৈনের সঙ্গে লিভ টুগেদার করেছেন। বিয়ে করেননি। তবে সরকারি নথি বলছে ভিন্নকথা। লোকসভার ওয়েবসাইটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জয়ী তৃণমূল সাংসদদের যে তালিকা তাতে নুসরাতের নামে ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে যাবতীয় তথ্য। সেখানে স্পষ্ট লেখা নুসরাত বিবাহিত। তিনি বিয়ে করেছেন ২০১৯ সালের ১৯ জুন। স্বামীর নাম নিখিল জৈন।

সম্প্রতি জানা যায়, মা হতে চলেছেন নুসরাত। অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় কী তা নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে বিতর্ক তুঙ্গে। শুধু তাই নয়, নিখিলের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে না কেন, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চার দিক থেকে। এমনকি বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও নুসরাতের নীরবতা নিয়ে কথা বলেছিলেন নেটমাধ্যমে। লিখেছিলেন, ‘…এই যদি পরিস্থিতি হয়, তবে নিখিল আর নুসরাতের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়? অচল কোনো সম্পর্ক বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। এতে দু’পক্ষেরই অস্বস্তি।’ এরপরেই নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি নিখিলকে বিয়েই করেননি।

খুব কম অতিথি নিয়েই তুরস্কে বিয়ে হয়েছিল নুসরাত ও নিখিলের। সেই প্রসঙ্গ টেনে নুসরাত জানিয়েছেন, তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে ওই অনুষ্ঠান অবৈধ। উপরন্তু হিন্দু-মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে বিয়ে করা উচিত। যা এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি। ফলত, এটা বিয়েই নয়। বুধবার এমনই যুক্তি প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী সাংসদ। তার দাবি অনুযায়ী, যে বিয়ে আইনত সিদ্ধ নয়, তার জন্য বিবাহ বিচ্ছেদের প্রয়োজন নেই।

কিন্তু সংসদকে বিবাহিত হিসেবে পরিচয় জানিয়েছেন কেন? এবার উঠবে সেই প্রশ্ন। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী সংসদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওয়েবসাইটে পরিচয় দেয়া হয়। তবে গত লোকসভা ভোটের আগে লোকসভা নির্বাচনকে যে হলফনামা দিয়েছিলেন নুসরাত তাতে অবিবাহিতই দাবি করেছিলেন নিজেকে। কারণ, তার বিয়ের যে তারিখ লোকসভার ওয়েবসাইটে রয়েছে তা নির্বাচনের পরের। এমনকি বিয়ের জন্য কিছুটা বিলম্বে শপথ নিয়েছিলেন নুসরাত জাহান। তার সঙ্গে মিমি চক্রবর্তীও দেরিতে শপথ নেন।