শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘একযোগে’ হামলা, ৪ পুলিশ সদস্য নিহত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহরে ‘একযোগে’ হামলা চালিয়েছে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর সঙ্গে যুক্ত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এ ঘটনায় কমপক্ষে চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে শনিবার ভোরে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় সকাল ৬টার দিকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের মাধ্যমে হামলা শুরু হয়। এরপর দুই ঘণ্টা ধরে তীব্র গুলিবর্ষণ এবং একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দালবান্দিন এবং নুহস্কির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা শনিবার ভোরে জেলাগুলোতে বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ শুনেছেন। অন্যদিকে মাস্তুং, গোয়াদার, পাসনি এবং তুরবাতেও একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আরব নিউজকে বলেন, ‘জঙ্গি’রা প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পুলিশ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বাধা দেয়।

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা সারিয়াব রোডে একটি পুলিশ মোবাইল ভ্যানে হামলা চালায়, এতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন।

পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী কোয়েটা শহরে সন্ত্রাসীদের কোনো অবস্থান নিতে দেয়নি এবং এখনো তল্লাশি ও ক্লিয়ারেন্স অভিযান চলছে।’
ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান কয়েক দশক ধরে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহের স্থান। তারা প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিদেশিদের ওপর আক্রমণ করে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অপহরণ করে। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী শহীদ রিন্দ বলেছেন, পুলিশ এবং আধাসামরিক ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) হামলাগুলি নস্যাৎ করে দিয়েছে এবং হামলাকারীদের ধাওয়া করছে।

তিনি এক্সে বলেন, ‘গত দুই দিনে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ৭০ জনেরও বেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বেলুচিস্তানের কয়েকটি স্থানে হামলার চেষ্টা করেছে, যা পুলিশ এবং এফসি কর্তৃক সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যর্থ করা হয়েছে। বর্তমানে পলাতক সন্ত্রাসীদের খোঁজে অভিযান চলছে। শীঘ্রই আরো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।’

শনিবার জারি করা এক বিবৃতিতে বিএলএ জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটি ‘অপারেশন হেরোফ ২.০’ চালু করেছে, যার মধ্যে বেলুচিস্তানের একাধিক শহরে ধারাবাহিক হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শনিবারের এসব হামলা ২০২৪ সালের আগস্টে একই গোষ্ঠীর পরিচালিত একযোগে হামলার ধারাবাহিকতা, যেখানে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন জেলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছিল।
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বেলুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যবহার করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা বেলুচিস্তানের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে পাকিস্তান রেলওয়ে শনিবার বেলুচিস্তান থেকে দেশের অন্যান্য অংশে চলাচলকারী ট্রেন পরিষেবা এক দিনের জন্য স্থগিত করেছে।

কোয়েটা ডিভিশনের রেলওয়ে কন্ট্রোলার মোহাম্মদ কাশিফ আরব নিউজকে বলেন, ‘বেলুচিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কোয়েটা–পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস এবং কোয়েটা–চামান যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।’

সূত্র : আরব নিউজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

পাকিস্তানে সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘একযোগে’ হামলা, ৪ পুলিশ সদস্য নিহত

প্রকাশিত সময় : ০৮:২৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহরে ‘একযোগে’ হামলা চালিয়েছে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর সঙ্গে যুক্ত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এ ঘটনায় কমপক্ষে চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে শনিবার ভোরে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় সকাল ৬টার দিকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের মাধ্যমে হামলা শুরু হয়। এরপর দুই ঘণ্টা ধরে তীব্র গুলিবর্ষণ এবং একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দালবান্দিন এবং নুহস্কির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা শনিবার ভোরে জেলাগুলোতে বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ শুনেছেন। অন্যদিকে মাস্তুং, গোয়াদার, পাসনি এবং তুরবাতেও একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আরব নিউজকে বলেন, ‘জঙ্গি’রা প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পুলিশ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বাধা দেয়।

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা সারিয়াব রোডে একটি পুলিশ মোবাইল ভ্যানে হামলা চালায়, এতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন।

পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী কোয়েটা শহরে সন্ত্রাসীদের কোনো অবস্থান নিতে দেয়নি এবং এখনো তল্লাশি ও ক্লিয়ারেন্স অভিযান চলছে।’
ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান কয়েক দশক ধরে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহের স্থান। তারা প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিদেশিদের ওপর আক্রমণ করে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অপহরণ করে। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী শহীদ রিন্দ বলেছেন, পুলিশ এবং আধাসামরিক ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) হামলাগুলি নস্যাৎ করে দিয়েছে এবং হামলাকারীদের ধাওয়া করছে।

তিনি এক্সে বলেন, ‘গত দুই দিনে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ৭০ জনেরও বেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বেলুচিস্তানের কয়েকটি স্থানে হামলার চেষ্টা করেছে, যা পুলিশ এবং এফসি কর্তৃক সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যর্থ করা হয়েছে। বর্তমানে পলাতক সন্ত্রাসীদের খোঁজে অভিযান চলছে। শীঘ্রই আরো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।’

শনিবার জারি করা এক বিবৃতিতে বিএলএ জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটি ‘অপারেশন হেরোফ ২.০’ চালু করেছে, যার মধ্যে বেলুচিস্তানের একাধিক শহরে ধারাবাহিক হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শনিবারের এসব হামলা ২০২৪ সালের আগস্টে একই গোষ্ঠীর পরিচালিত একযোগে হামলার ধারাবাহিকতা, যেখানে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন জেলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছিল।
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বেলুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যবহার করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা বেলুচিস্তানের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে পাকিস্তান রেলওয়ে শনিবার বেলুচিস্তান থেকে দেশের অন্যান্য অংশে চলাচলকারী ট্রেন পরিষেবা এক দিনের জন্য স্থগিত করেছে।

কোয়েটা ডিভিশনের রেলওয়ে কন্ট্রোলার মোহাম্মদ কাশিফ আরব নিউজকে বলেন, ‘বেলুচিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কোয়েটা–পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস এবং কোয়েটা–চামান যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।’

সূত্র : আরব নিউজ।