শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ২২ সেনাসহ ২৫৫ জন নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিন ধরে চলমান ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। সন্ত্রাসী হামলা ও পরে নিরাপত্তা অভিযানকালে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন’ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একযোগে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায়। এতে ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর পরপরই প্রদেশজুড়ে সেনা অভিযান শুরু হয়।

সপ্তাহান্তে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায়।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত তিন দিনে ‘জঙ্গিদের’ হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। এই অভিযানে প্রথম ধাপে ৯২ জন পাকিস্তান সরকারের ভাষায় ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গি’ নিহত হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল।

দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
আইএসপিআর আরো জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অটল সাহস ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে জঙ্গিদের অপচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করেছে। তবে তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য সেদিনই নিহত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ২২ সেনাসহ ২৫৫ জন নিহত

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিন ধরে চলমান ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। সন্ত্রাসী হামলা ও পরে নিরাপত্তা অভিযানকালে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন’ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একযোগে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায়। এতে ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর পরপরই প্রদেশজুড়ে সেনা অভিযান শুরু হয়।

সপ্তাহান্তে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায়।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত তিন দিনে ‘জঙ্গিদের’ হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। এই অভিযানে প্রথম ধাপে ৯২ জন পাকিস্তান সরকারের ভাষায় ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গি’ নিহত হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল।

দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
আইএসপিআর আরো জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অটল সাহস ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে জঙ্গিদের অপচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করেছে। তবে তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য সেদিনই নিহত হন।