বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থানায় গিয়ে ওসির চেয়ারে বসলেন এমপি, ভিডিও ভাইরাল

ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) চেয়ারে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে জামায়াত জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বসে আছেন এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ওসির চেয়ারে বসার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল ফুলপুর থানার ওসি ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে প্যারেড থাকায় সকাল সোয়া ৭টায় ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহ চলে যান ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ। পরে হঠাৎ সকাল ১০টায় থানায় উপস্থিত হন এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ। পরে তিনি ওসির চেয়ারের পাশে চেয়ার ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও ওসির চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং থানায় উপস্থিত থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ মতবিনিময় করে চলে যান। এ ঘটনার পরপরই ওসির চেয়ারে সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বসার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় ওঠে নেটিজেনদের মধ্যে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওসির চেয়ারে সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বসে আছেন। তার পাশেই বসে ছিলেন থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা। এসময় এমপি সাহেবকে ওসির চেয়ারে বসে সামনে দাঁড়িয়ে অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি নামক একটি পেজ থেকে এই ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়- ফুলপুরে ওসির চেয়ারে এমপির বসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। কামরুল ইসলাম খান নামের আরেক আইডিতে ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ফুলপুরে ওসির চেয়ারে এমপির বসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। একজন ওসির চেয়ারের পাশে আরেকটি চেয়ার থাকে সেটা এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। তারাকান্দা লাইভ নামে আরেকটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়-এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ওসির চেয়ারে বসে পুলিশকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন এমন একটি ভিডিও ভাইরাল। ফুলপুর থানার এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন, ওই দিন পুলিশ লাইনে আমার মাস্টার প্যারেড ছিল। যে কারণে সকাল সোয়া ৭টায় আমি পুলিশ লাইনের উদ্দেশে রওনা হই। ওই দিন সংসদ সদস্য থানায় আসার কোনো রুটিন ছিল না বা আমাকে আগে থেকে কিছু জানাননি তিনি। এমপি সাহেবের গাড়ি থানা প্রাঙ্গণে ঢোকার পর তাকে জানানো হয়, ওসি থানায় নেই। তারপরেও তিনি থানায় ঢোকেন।

তিনি আরও বলেন, আমার কক্ষে ঢুকে প্রথমে আমার চেয়ারে বসতে ইতস্তত বোধ করেন এমপি সাহেব। কিন্তু উনার সঙ্গে আসা লোকজন এমপি সাহেবকে আমার চেয়ারে বসতে বলেন। পরে তিনি চেয়ারে বসে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে যান। ওসির চেয়ারে এমপি বসতে পারেন কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওসির চেয়ার ওসি ব্যতিত আর কেউ বসতে পারেন না।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, ওই দিন আমি থানা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। থানায় গিয়ে দেখি ওসি সাহেব থানায় নেই। পরে আমি চলে আসতে চাইলে থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা আমাকে জোড় করে ওসির চেয়ারে বসান। পরে আমি কিছুক্ষণ বসে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চলে আসি। তবে, ওসির চেয়ারে বসা কোনো অপরাধ নয় বলেও জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

থানায় গিয়ে ওসির চেয়ারে বসলেন এমপি, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত সময় : ০৭:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) চেয়ারে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে জামায়াত জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বসে আছেন এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ওসির চেয়ারে বসার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল ফুলপুর থানার ওসি ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে প্যারেড থাকায় সকাল সোয়া ৭টায় ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহ চলে যান ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ। পরে হঠাৎ সকাল ১০টায় থানায় উপস্থিত হন এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ। পরে তিনি ওসির চেয়ারের পাশে চেয়ার ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও ওসির চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং থানায় উপস্থিত থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ মতবিনিময় করে চলে যান। এ ঘটনার পরপরই ওসির চেয়ারে সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বসার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় ওঠে নেটিজেনদের মধ্যে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওসির চেয়ারে সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বসে আছেন। তার পাশেই বসে ছিলেন থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা। এসময় এমপি সাহেবকে ওসির চেয়ারে বসে সামনে দাঁড়িয়ে অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি নামক একটি পেজ থেকে এই ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়- ফুলপুরে ওসির চেয়ারে এমপির বসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। কামরুল ইসলাম খান নামের আরেক আইডিতে ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ফুলপুরে ওসির চেয়ারে এমপির বসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। একজন ওসির চেয়ারের পাশে আরেকটি চেয়ার থাকে সেটা এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। তারাকান্দা লাইভ নামে আরেকটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়-এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ওসির চেয়ারে বসে পুলিশকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন এমন একটি ভিডিও ভাইরাল। ফুলপুর থানার এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন, ওই দিন পুলিশ লাইনে আমার মাস্টার প্যারেড ছিল। যে কারণে সকাল সোয়া ৭টায় আমি পুলিশ লাইনের উদ্দেশে রওনা হই। ওই দিন সংসদ সদস্য থানায় আসার কোনো রুটিন ছিল না বা আমাকে আগে থেকে কিছু জানাননি তিনি। এমপি সাহেবের গাড়ি থানা প্রাঙ্গণে ঢোকার পর তাকে জানানো হয়, ওসি থানায় নেই। তারপরেও তিনি থানায় ঢোকেন।

তিনি আরও বলেন, আমার কক্ষে ঢুকে প্রথমে আমার চেয়ারে বসতে ইতস্তত বোধ করেন এমপি সাহেব। কিন্তু উনার সঙ্গে আসা লোকজন এমপি সাহেবকে আমার চেয়ারে বসতে বলেন। পরে তিনি চেয়ারে বসে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে যান। ওসির চেয়ারে এমপি বসতে পারেন কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওসির চেয়ার ওসি ব্যতিত আর কেউ বসতে পারেন না।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, ওই দিন আমি থানা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। থানায় গিয়ে দেখি ওসি সাহেব থানায় নেই। পরে আমি চলে আসতে চাইলে থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা আমাকে জোড় করে ওসির চেয়ারে বসান। পরে আমি কিছুক্ষণ বসে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চলে আসি। তবে, ওসির চেয়ারে বসা কোনো অপরাধ নয় বলেও জানান তিনি।