বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশে মৃত্যু: ঝলমলে জীবনের আড়ালে অভিনেত্রীর ব্যথার গল্প

মাত্র ৩০ বছর বয়সে থমকে গেছে ভারতীয় অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহির জীবন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেত্রী। তার মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনের শোকের ছায়া নেমেছে।

আপাতদৃষ্টিতে শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের জীবন ভীষণ ঝলমলে। কিন্তু আড়ালে থাকে বিচিত্র গল্প; যা কখনো কাঁদায়, কখনো ভাবায়। অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কার ঝলমলে জীবনের আড়ালেও ছিল ব্যথা ও সংগ্রামের গল্প। তার মৃত্যুর পর অজানা সেই গল্পই সামনে এসেছে।

দিব্যাঙ্কা

দিব্যাঙ্কার পরিচিতদের বরাত দিয়ে একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “মৃত্যুর ১৫–২০ দিন আগেও দিব্যাঙ্কা তার ঘনিষ্ঠ একজনের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন। কাজ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাও করছিলেন। সম্ভাব্য প্রজেক্ট নিয়ে বাড়ির লোকজনের সঙ্গেও নিয়মিত কথা বলতেন তিনি।”

দিব্যাঙ্কা

সম্প্রতি দিব্যাঙ্কার সঙ্গে কাজ করেন হরিয়ানভির শিল্পী বিন্দার দানোদা। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, দিব্যাঙ্কা তার পেশাগত জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। নিজের কাজের প্রতি নিবেদিত থাকলেও মাঝে মাঝে কাজ ও অর্থসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলতেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে উত্তর প্রদেশের নিজ বাড়িতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন দিব্যাঙ্কা। ঘরে তিনি একাই ছিলেন। সম্ভবত, তখনই তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দিব্যাঙ্কাকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

দিব্যাঙ্কা

দিব্যাঙ্কার ভাই হিমাংশু বলেন, “দিব্যাঙ্কা ফ্লোরে পড়ে গিয়ে মাথায় গভীর আঘাত পান। আমার ছোট ভাই দীপাংশু যখন তার কাছে পৌঁছায়, ততক্ষণে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

১৯৯৬ সালের ১৯ নভেম্বর, উত্ত প্রদেশের বুলান্দশহরে জন্মগ্রহণ করেন দিব্যাঙ্কা। তার পরিবার বসবাস করেন গাজিয়াবাদে। চৌধুরী চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সিকিমের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর গুরুগ্রাম থেকে বি.এড ডিগ্রি নেন।

দিব্যাঙ্কার বাবা গজেন্দ্র একজন পরিবহন ব্যবসায়ী, মা অনিতা গৃহিণী। দিব্যাঙ্কার দুই ভাইয়ের নাম হিমাংশু, দীপাংশু ও বোন জসমীত।

দিব্যাঙ্কা

দিব্যাঙ্কা আঞ্চলিক বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। গায়ক মাসুম শর্মার সঙ্গে একাধিক গানে অভিনয় করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উপস্থিতি জোরালো ছিল। ইনস্টাগ্রামে এ অভিনেত্রীর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ত্রিশে মৃত্যু: ঝলমলে জীবনের আড়ালে অভিনেত্রীর ব্যথার গল্প

প্রকাশিত সময় : ০৯:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মাত্র ৩০ বছর বয়সে থমকে গেছে ভারতীয় অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহির জীবন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেত্রী। তার মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনের শোকের ছায়া নেমেছে।

আপাতদৃষ্টিতে শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের জীবন ভীষণ ঝলমলে। কিন্তু আড়ালে থাকে বিচিত্র গল্প; যা কখনো কাঁদায়, কখনো ভাবায়। অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কার ঝলমলে জীবনের আড়ালেও ছিল ব্যথা ও সংগ্রামের গল্প। তার মৃত্যুর পর অজানা সেই গল্পই সামনে এসেছে।

দিব্যাঙ্কা

দিব্যাঙ্কার পরিচিতদের বরাত দিয়ে একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “মৃত্যুর ১৫–২০ দিন আগেও দিব্যাঙ্কা তার ঘনিষ্ঠ একজনের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন। কাজ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাও করছিলেন। সম্ভাব্য প্রজেক্ট নিয়ে বাড়ির লোকজনের সঙ্গেও নিয়মিত কথা বলতেন তিনি।”

দিব্যাঙ্কা

সম্প্রতি দিব্যাঙ্কার সঙ্গে কাজ করেন হরিয়ানভির শিল্পী বিন্দার দানোদা। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, দিব্যাঙ্কা তার পেশাগত জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। নিজের কাজের প্রতি নিবেদিত থাকলেও মাঝে মাঝে কাজ ও অর্থসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলতেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে উত্তর প্রদেশের নিজ বাড়িতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন দিব্যাঙ্কা। ঘরে তিনি একাই ছিলেন। সম্ভবত, তখনই তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দিব্যাঙ্কাকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

দিব্যাঙ্কা

দিব্যাঙ্কার ভাই হিমাংশু বলেন, “দিব্যাঙ্কা ফ্লোরে পড়ে গিয়ে মাথায় গভীর আঘাত পান। আমার ছোট ভাই দীপাংশু যখন তার কাছে পৌঁছায়, ততক্ষণে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

১৯৯৬ সালের ১৯ নভেম্বর, উত্ত প্রদেশের বুলান্দশহরে জন্মগ্রহণ করেন দিব্যাঙ্কা। তার পরিবার বসবাস করেন গাজিয়াবাদে। চৌধুরী চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সিকিমের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর গুরুগ্রাম থেকে বি.এড ডিগ্রি নেন।

দিব্যাঙ্কার বাবা গজেন্দ্র একজন পরিবহন ব্যবসায়ী, মা অনিতা গৃহিণী। দিব্যাঙ্কার দুই ভাইয়ের নাম হিমাংশু, দীপাংশু ও বোন জসমীত।

দিব্যাঙ্কা

দিব্যাঙ্কা আঞ্চলিক বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। গায়ক মাসুম শর্মার সঙ্গে একাধিক গানে অভিনয় করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উপস্থিতি জোরালো ছিল। ইনস্টাগ্রামে এ অভিনেত্রীর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।