শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৫ বিলিয়ন ডলার, তলানিতে ঠেকেছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যা তাদের মোট মজুদের বড় অংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (জ্যাসম-ইআর) ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ক্রয় পরিমাণের প্রায় ১০ গুণ।

পেন্টাগন-এর অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম (প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর) ব্যবহার হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি। পাশাপাশি ১ হাজারের বেশি প্রিসিশন স্ট্রাইক ও ATACMS (এটিএসিএমএস) ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহৃত হয়েছে।

৩৮ দিনের এই যুদ্ধে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন, যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত আক্রমণের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুতে একাধিকবার আঘাত করা হয়।

যুদ্ধের মোট ব্যয় নিয়ে হোয়াইট হাউজ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জ্যাক রিড সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান উৎপাদন হারে ব্যবহৃত অস্ত্র পুনরায় মজুদ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের মজুদ যুদ্ধের আগেই সীমিত ছিল এবং এখন তা আরও কমে গেছে। কৌশলগত এবং আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন কেন্দ্র (সিএসআইএস)-এর মতে, এই অতিরিক্ত ব্যবহার বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলি লিভিট দাবি করেছেন, এসব প্রতিবেদন “ভিত্তিহীন” এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপ ও এশিয়াতেও পড়েছে। ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতেও পরিবর্তন এসেছে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মেরিন ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরও সাউথ কোরিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় মোতায়েন ছিল।

ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান স্যামুয়ের পাপেরো, সিনেটে বলেছেন—অস্ত্রভান্ডারের একটি সীমা রয়েছে। সেই সীমা যুক্তরাষ্ট্র অতিক্রম করেছে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৫ বিলিয়ন ডলার, তলানিতে ঠেকেছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ

প্রকাশিত সময় : ০২:২৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যা তাদের মোট মজুদের বড় অংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (জ্যাসম-ইআর) ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ক্রয় পরিমাণের প্রায় ১০ গুণ।

পেন্টাগন-এর অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম (প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর) ব্যবহার হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি। পাশাপাশি ১ হাজারের বেশি প্রিসিশন স্ট্রাইক ও ATACMS (এটিএসিএমএস) ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহৃত হয়েছে।

৩৮ দিনের এই যুদ্ধে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন, যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত আক্রমণের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুতে একাধিকবার আঘাত করা হয়।

যুদ্ধের মোট ব্যয় নিয়ে হোয়াইট হাউজ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জ্যাক রিড সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান উৎপাদন হারে ব্যবহৃত অস্ত্র পুনরায় মজুদ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের মজুদ যুদ্ধের আগেই সীমিত ছিল এবং এখন তা আরও কমে গেছে। কৌশলগত এবং আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন কেন্দ্র (সিএসআইএস)-এর মতে, এই অতিরিক্ত ব্যবহার বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলি লিভিট দাবি করেছেন, এসব প্রতিবেদন “ভিত্তিহীন” এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপ ও এশিয়াতেও পড়েছে। ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতেও পরিবর্তন এসেছে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মেরিন ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরও সাউথ কোরিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় মোতায়েন ছিল।

ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান স্যামুয়ের পাপেরো, সিনেটে বলেছেন—অস্ত্রভান্ডারের একটি সীমা রয়েছে। সেই সীমা যুক্তরাষ্ট্র অতিক্রম করেছে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।