দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যার ১৪ জন। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় এসব মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২, বগুড়ায় ১ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, নাটোরে ১ জন, পঞ্চগড়ে ১ চা শ্রমিক ও জামালপুরে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া, সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাংগা ও ফুলছড়িতে বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিশু ফুয়াদ, তার চাচাতো ভাই শিশু রাফি, সাদুল্লাপুর উপজেলার আলী আকবর। অন্যজনের নাম জানা যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাংগা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডল বলেন, রোববার দুপুরে দক্ষিণ ধোপাডাংডার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুজা চৌধুরীর বাড়ির বারান্দায় খেলা করছিল সুজা চৌধুরীর শিশু পুত্র ফুয়াদ ও মুজাহিদের শিশুসন্তান রাফি। দুপুরে বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হলে বারান্দায় অবস্থানরত ফুয়াদ ও তার চাচাতো ভাই রাফি গুরুতর আহত হয়। পরিবারের লোকজন দুজনকে নিয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে মাঠে কাজ করা মানুষজন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। এ সময় কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকা অনেকেই বজ্রপাতের শিকার হন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের বিকেলে উপজেলার কোষাডাঙ্গীপাড়া ও নিয়ামতপুর এলাকায় বজ্রাঘাতে নারী-পুরুষসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার দুপুরে ফসলি মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। অপরদিকে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭) বিকেলে নিজ জমির ফসল দেখতে যান। এসময় বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) ও রায়গঞ্জ উপজেলা ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিক চাঁন গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে কৃষক হাসান আলী (২৪)।
জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে এক কৃষক ও গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার কড়ইচড়া গ্রামের মর্জিনা বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার রাজীবের স্ত্রী। আরেকজন সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার কৃষক হাসমত আলী (৪৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
নাটোরের সিংড়ায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে সম্রাট (২৬) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত সম্রাট সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে।
বগুড়ার গাবতলীতে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম সুমন (৩৫)। তিনি মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 






















