শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুয়েট শিক্ষার্থীকে বাসে হয়রানির অভিযোগ, ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কর্মচারী বরখাস্ত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক নারী শিক্ষার্থীকে বাসযাত্রায় হয়রানির অভিযোগে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের গাইড মো. দেলোয়ারকে (২৭) চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাজশাহীর মতিহার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার টেকনিক্যাল মোড় থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের একটি বাসে ওঠেন ওই রুয়েট শিক্ষার্থী। যাত্রাপথে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে বাসের গাইড দেলোয়ার তাকে বারবার আপত্তিকরভাবে লক্ষ্য করেন এবং কয়েক দফায় ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে ওই কর্মচারী তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রাজশাহীতে পৌঁছানোর পরও ওই গাইড শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিভিন্ন আপত্তিকর বার্তা ও মন্তব্য পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের একটি দল রাজশাহীর শিরোইল বাস কাউন্টারে গিয়ে ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানায়। অভিযোগকারীদের দাবি, কাউন্টারে উপস্থিত একজন সহকারী পরিচালক ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিযোগকারীরা। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর দেলোয়ার ও ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত মো. দেলোয়ার হোসেন রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার ভূবননগর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে। এদিকে, অভিযোগের পর ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত গাইডকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, সড়কপথে যাত্রীদের সঙ্গে এ ধরনের হয়রানির ঘটনা নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে মোবাইল নম্বর কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়েও পরিবহন কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অন্য নারী যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে বিষয়টি চেপে না রেখে পরিবার, সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা উচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

রুয়েট শিক্ষার্থীকে বাসে হয়রানির অভিযোগ, ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কর্মচারী বরখাস্ত

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক নারী শিক্ষার্থীকে বাসযাত্রায় হয়রানির অভিযোগে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের গাইড মো. দেলোয়ারকে (২৭) চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাজশাহীর মতিহার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার টেকনিক্যাল মোড় থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের একটি বাসে ওঠেন ওই রুয়েট শিক্ষার্থী। যাত্রাপথে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে বাসের গাইড দেলোয়ার তাকে বারবার আপত্তিকরভাবে লক্ষ্য করেন এবং কয়েক দফায় ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে ওই কর্মচারী তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রাজশাহীতে পৌঁছানোর পরও ওই গাইড শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিভিন্ন আপত্তিকর বার্তা ও মন্তব্য পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের একটি দল রাজশাহীর শিরোইল বাস কাউন্টারে গিয়ে ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানায়। অভিযোগকারীদের দাবি, কাউন্টারে উপস্থিত একজন সহকারী পরিচালক ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিযোগকারীরা। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর দেলোয়ার ও ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত মো. দেলোয়ার হোসেন রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার ভূবননগর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে। এদিকে, অভিযোগের পর ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত গাইডকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, সড়কপথে যাত্রীদের সঙ্গে এ ধরনের হয়রানির ঘটনা নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে মোবাইল নম্বর কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়েও পরিবহন কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অন্য নারী যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে বিষয়টি চেপে না রেখে পরিবার, সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা উচিত।