বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অচিরেই গণভোট অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার নতুন বছরের হালখাতা খুলেছে। আমার বিবেচনায় এই বকেয়া হচ্ছে জুলাই সনদ। প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে হালখাতা খুলে যেভাবে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়, সেভাবে জাতীয় জীবনের সব বকেয়া পরিশোধ করতে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলিতে এনসিপির পয়লা বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশ। নতুন দেশের জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে।’ এ সময় শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে স্মরণ করেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নববর্ষের এই দিনে, পয়লা বৈশাখে হালখাতা খোলা হয়, যেখানে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়। আমরা চাই, জাতীয় জীবনে আমাদের যত বকেয়া রয়েছে, সেই বকেয়া যাতে পরিশোধ করা হয়। সেই বকেয়া হচ্ছে জুলাই সনদ।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে, সবকিছুই হয়েছে। সরকার গঠিত হয়েছে, বিরোধী দল হয়েছে। কিন্তু জনগণ সংস্কারটা পায়নি। ফলে সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে। নতুন সরকার নতুনভাবে কার্যক্রম করছে। ফলে জনগণের বাকি রয়ে গেছে রক্তের দেনা, রক্তের ঋণ।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার, এই যে নতুন বছর শুরু হচ্ছে, এই নতুন বছরে আমরা সেই বকেয়া পরিশোধ করবো। জুলাই সনদকে যারা নানাভাবে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অশ্রদ্ধা করছে, গণভোটের রায় মানতে চাইছে না, আমরা তাদের বলতে চাই, অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করবো, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুনভাবে সেগুলোকে বিল হিসেবে এনে আইনে পরিণত করা হবে।’

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে সেগুলোকে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও এ সময় অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘একইভাবে পয়লা বৈশাখসহ অনেকগুলো উৎসবকেও দলীয়করণ করা হয়েছিল। এখন সেই উৎসবগুলোকে আমরা নাগরিক উৎসব হিসেবে উদযাপন করার চেষ্টা করছি। সংস্কারের লড়াইয়ের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক মুক্তির লড়াইও চলমান থাকবে।’

এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম প্রমুখ নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন৷

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

অচিরেই গণভোট অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত সময় : ১০:০৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার নতুন বছরের হালখাতা খুলেছে। আমার বিবেচনায় এই বকেয়া হচ্ছে জুলাই সনদ। প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে হালখাতা খুলে যেভাবে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়, সেভাবে জাতীয় জীবনের সব বকেয়া পরিশোধ করতে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলিতে এনসিপির পয়লা বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশ। নতুন দেশের জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে।’ এ সময় শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে স্মরণ করেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নববর্ষের এই দিনে, পয়লা বৈশাখে হালখাতা খোলা হয়, যেখানে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়। আমরা চাই, জাতীয় জীবনে আমাদের যত বকেয়া রয়েছে, সেই বকেয়া যাতে পরিশোধ করা হয়। সেই বকেয়া হচ্ছে জুলাই সনদ।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে, সবকিছুই হয়েছে। সরকার গঠিত হয়েছে, বিরোধী দল হয়েছে। কিন্তু জনগণ সংস্কারটা পায়নি। ফলে সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে। নতুন সরকার নতুনভাবে কার্যক্রম করছে। ফলে জনগণের বাকি রয়ে গেছে রক্তের দেনা, রক্তের ঋণ।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার, এই যে নতুন বছর শুরু হচ্ছে, এই নতুন বছরে আমরা সেই বকেয়া পরিশোধ করবো। জুলাই সনদকে যারা নানাভাবে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অশ্রদ্ধা করছে, গণভোটের রায় মানতে চাইছে না, আমরা তাদের বলতে চাই, অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করবো, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুনভাবে সেগুলোকে বিল হিসেবে এনে আইনে পরিণত করা হবে।’

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে সেগুলোকে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও এ সময় অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘একইভাবে পয়লা বৈশাখসহ অনেকগুলো উৎসবকেও দলীয়করণ করা হয়েছিল। এখন সেই উৎসবগুলোকে আমরা নাগরিক উৎসব হিসেবে উদযাপন করার চেষ্টা করছি। সংস্কারের লড়াইয়ের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক মুক্তির লড়াইও চলমান থাকবে।’

এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম প্রমুখ নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন৷