বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরেছেন।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রত্যাবাসিত দলের মধ্যে ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা বেশ গুরুতর। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আইওএম-এর সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের সুচিকিৎসা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসনের আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণে অভিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের বিদায় জানান। এ সময় তিনি লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইওএম-এর সঙ্গে দূতাবাসের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, পাচারের শিকার ও বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সুরক্ষা প্রদান এবং দেশে ফেরানো সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের দেশে ফিরে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান।

দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হওয়া প্রবাসীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের চরম ঝুঁকি ও দুঃখ-দুর্দশার কথা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার করে জনসচেতনতা তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত আইওএম-এর সহযোগিতায় মোট চারটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৬৮৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে লিবিয়া থেকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

প্রকাশিত সময় : ১১:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরেছেন।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রত্যাবাসিত দলের মধ্যে ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা বেশ গুরুতর। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আইওএম-এর সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের সুচিকিৎসা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসনের আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণে অভিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের বিদায় জানান। এ সময় তিনি লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইওএম-এর সঙ্গে দূতাবাসের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, পাচারের শিকার ও বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সুরক্ষা প্রদান এবং দেশে ফেরানো সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের দেশে ফিরে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান।

দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হওয়া প্রবাসীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের চরম ঝুঁকি ও দুঃখ-দুর্দশার কথা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার করে জনসচেতনতা তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত আইওএম-এর সহযোগিতায় মোট চারটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৬৮৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে লিবিয়া থেকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।