রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফেরত আনার দাবি বাবার

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে নিহত মাদারীপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু সংবাদে মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চান তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

সরেজমিনে বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা জহির উদ্দিন আকনের কন্যা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য আমার মেয়ে বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে যায়। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। পরে আমরা তার মৃত্যুর খবর পাই। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। শিগগিরই তার মরদেহ দেশে ফেরত আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

নিহতের চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘সে বেঁচে থাকলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করলেও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন। তার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং বড় ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার। ছোটোবেলা থেকেই বৃষ্টি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

শনিবার ২৫ এপ্রিল) সকালে পরিবারের সদস্যরা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এরপর থেকেই গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমে। সবাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোকাহত।

নিহতের চাচাতো বোন তুলি আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টি খুবই মেধাবী ও ভদ্র মেয়ে ছিল। সকালে তার বড় ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট দেখে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। এর আগে থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। কীভাবে তাকে হত্যা করা হলো, আমরা কিছুই জানি না। আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’

আরেক চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, ‘এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার, শাস্তি এবং বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব জানান, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। এ ঘটনায় মূলত দূতাবাস কাজ করবে। পরিবার কোনো সহায়তা চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফেরত আনার দাবি বাবার

প্রকাশিত সময় : ০৬:১৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে নিহত মাদারীপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু সংবাদে মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চান তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

সরেজমিনে বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা জহির উদ্দিন আকনের কন্যা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য আমার মেয়ে বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে যায়। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। পরে আমরা তার মৃত্যুর খবর পাই। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। শিগগিরই তার মরদেহ দেশে ফেরত আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

নিহতের চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘সে বেঁচে থাকলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করলেও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন। তার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং বড় ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার। ছোটোবেলা থেকেই বৃষ্টি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

শনিবার ২৫ এপ্রিল) সকালে পরিবারের সদস্যরা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এরপর থেকেই গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমে। সবাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোকাহত।

নিহতের চাচাতো বোন তুলি আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টি খুবই মেধাবী ও ভদ্র মেয়ে ছিল। সকালে তার বড় ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট দেখে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। এর আগে থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। কীভাবে তাকে হত্যা করা হলো, আমরা কিছুই জানি না। আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’

আরেক চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, ‘এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার, শাস্তি এবং বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব জানান, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। এ ঘটনায় মূলত দূতাবাস কাজ করবে। পরিবার কোনো সহায়তা চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দেওয়া হবে।