মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো নারীই ‘ট্রফি’ হতে চায় না: প্রীতি জিনতা

আইপিএল চলাকালীন মাঠে প্রীতি জিনতার উপস্থিতি বরাবরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দলের জয়-পরাজয়ের সঙ্গে তার আবেগও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তবে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যক্তি তাকে পাঞ্জাব কিংসের ‘ট্রফি’ বলে কটাক্ষ করেন, যা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ওই মন্তব্যের জবাবে প্রীতি বলেন, এমন তুলনা আপাতদৃষ্টিতে প্রশংসা মনে হলেও তা আসলে নারীদের অবমূল্যায়ন করে।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো নারীই ‘ট্রফি’ হতে চান না—ট্রফি কেনা যায়, কিন্তু নারী নয়। ট্রফি কাঁচের আলমারিতে সাজিয়ে রাখা হয়, অথচ নারীর জায়গা সেখানে নয়; বরং তার প্রাপ্য স্থান মানুষের জীবন ও হৃদয়ে।

নারীর সম্মান নিয়ে তার এই বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই তার অবস্থানকে সমর্থন জানান। অনেকের মতে, তিনি কেবল একজন অভিনেত্রীই নন, বরং সমাজ সচেতন একজন দৃঢ় ব্যক্তিত্ব হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরেছেন।

একই আলোচনায় নিজের কাজ নিয়েও কথা বলেন প্রীতি। তিনি জানান, ‘লাহোর ১৯৪৭’ ছবিটি নিয়ে তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। পিরিয়ড ড্রামায় কাজ করার ইচ্ছা তার দীর্ঘদিনের, আর রাজ কুমার সন্তোষীর মতো পরিচালকের সঙ্গে এবং সানি দেওলের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা।

এছাড়া ভাইব নামের আরেকটি ছবির কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যা হালকা মেজাজের ও বিনোদনধর্মী। গম্ভীর গল্পের ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর পর এই ছবিতে কাজ করে তিনি আলাদা আনন্দ পেয়েছেন বলেও জানান।

ব্যস্ত ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝেও নারীর মর্যাদা নিয়ে তার এমন দৃঢ় অবস্থান বিনোদন জগতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার মতে, নারীকে বস্তু হিসেবে নয়, সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন করাই প্রকৃত প্রজ্ঞার পরিচয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

কোনো নারীই ‘ট্রফি’ হতে চায় না: প্রীতি জিনতা

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আইপিএল চলাকালীন মাঠে প্রীতি জিনতার উপস্থিতি বরাবরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দলের জয়-পরাজয়ের সঙ্গে তার আবেগও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তবে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যক্তি তাকে পাঞ্জাব কিংসের ‘ট্রফি’ বলে কটাক্ষ করেন, যা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ওই মন্তব্যের জবাবে প্রীতি বলেন, এমন তুলনা আপাতদৃষ্টিতে প্রশংসা মনে হলেও তা আসলে নারীদের অবমূল্যায়ন করে।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো নারীই ‘ট্রফি’ হতে চান না—ট্রফি কেনা যায়, কিন্তু নারী নয়। ট্রফি কাঁচের আলমারিতে সাজিয়ে রাখা হয়, অথচ নারীর জায়গা সেখানে নয়; বরং তার প্রাপ্য স্থান মানুষের জীবন ও হৃদয়ে।

নারীর সম্মান নিয়ে তার এই বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই তার অবস্থানকে সমর্থন জানান। অনেকের মতে, তিনি কেবল একজন অভিনেত্রীই নন, বরং সমাজ সচেতন একজন দৃঢ় ব্যক্তিত্ব হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরেছেন।

একই আলোচনায় নিজের কাজ নিয়েও কথা বলেন প্রীতি। তিনি জানান, ‘লাহোর ১৯৪৭’ ছবিটি নিয়ে তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। পিরিয়ড ড্রামায় কাজ করার ইচ্ছা তার দীর্ঘদিনের, আর রাজ কুমার সন্তোষীর মতো পরিচালকের সঙ্গে এবং সানি দেওলের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা।

এছাড়া ভাইব নামের আরেকটি ছবির কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যা হালকা মেজাজের ও বিনোদনধর্মী। গম্ভীর গল্পের ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর পর এই ছবিতে কাজ করে তিনি আলাদা আনন্দ পেয়েছেন বলেও জানান।

ব্যস্ত ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝেও নারীর মর্যাদা নিয়ে তার এমন দৃঢ় অবস্থান বিনোদন জগতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার মতে, নারীকে বস্তু হিসেবে নয়, সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন করাই প্রকৃত প্রজ্ঞার পরিচয়।