শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই পদ একসঙ্গে সামলানোর নজির রয়েছে : খ‌লিলুর রহমান

একইসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দা‌য়িত্ব পালনের প্রশ্নে খ‌লিলুর রহমান বলেছেন, ‘এর নজির রয়েছে।’

সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফেরার পর বৃহস্প‌তিবার (৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে সাংবা‌দিক‌দের মু‌খোমু‌খি হ‌য়ে এ কথা ব‌লেন তি‌নি।

এক প্রশ্নের জবাবে খ‌লিলুর রহমান বলেন, চাকরি ছাড়ব কি না এটাই তো? না না, ছুটি নেব কি না? ভাই, এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। এর নজির রয়েছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে, হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সাহেব আমাদের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তি‌নি ব‌লেন, আমি তার একান্ত সচিব ছিলাম এবং তার সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। উনি দুই পদেই পূর্ণকালীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন। ওই সময়টা ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ। কিন্তু আজকে আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে দুটো কাজই একসঙ্গে করতে পারেন। এটা এখন খুব স্বাভাবিক।

আরেক প্রশ্নের জবা‌বে খ‌লিলুর রহমান ব‌লেন, এটা আমি আগেও পরিষ্কার করে দিয়েছি। অনেকেই বলেছেন যে, বর্তমানে যিনি রয়েছেন জার্মানির, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ওই পদ ছেড়ে তিনি কাজ করেছেন। আসলে বিষয়টা হচ্ছে, উনি গ্রিন পার্টির নেতা ছিলেন। উনার দল গ্রিন পার্টি নির্বাচনে হেরে যায়, যে কারণে তিনি আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেননি।

সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির বিজয় বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করেন খলিলুর রহমান। তি‌নি বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ়ভাবে, অবিচলভাবে ও বিরোধহীনভাবে আমাদের সমর্থন না করতেন, তাহলে ১০ বছরের এই রাস্তা ১০ সপ্তাহে আমরা অতিক্রম করতে পারতাম না। এই বিজয় আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করছি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস। সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দুই প্রার্থীকে ভোট দেন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১৯০টি। খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং সাইপ্রাসের কাকাউরিস ৯১ ভোট পেয়েছেন। ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়েছেন খলিলুর রহমান।

দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তিনি এক বছরের জন্য সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

কারামুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরলেও আইভীকে থাকতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে

দুই পদ একসঙ্গে সামলানোর নজির রয়েছে : খ‌লিলুর রহমান

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

একইসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দা‌য়িত্ব পালনের প্রশ্নে খ‌লিলুর রহমান বলেছেন, ‘এর নজির রয়েছে।’

সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফেরার পর বৃহস্প‌তিবার (৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে সাংবা‌দিক‌দের মু‌খোমু‌খি হ‌য়ে এ কথা ব‌লেন তি‌নি।

এক প্রশ্নের জবাবে খ‌লিলুর রহমান বলেন, চাকরি ছাড়ব কি না এটাই তো? না না, ছুটি নেব কি না? ভাই, এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। এর নজির রয়েছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে, হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সাহেব আমাদের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তি‌নি ব‌লেন, আমি তার একান্ত সচিব ছিলাম এবং তার সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। উনি দুই পদেই পূর্ণকালীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন। ওই সময়টা ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ। কিন্তু আজকে আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে দুটো কাজই একসঙ্গে করতে পারেন। এটা এখন খুব স্বাভাবিক।

আরেক প্রশ্নের জবা‌বে খ‌লিলুর রহমান ব‌লেন, এটা আমি আগেও পরিষ্কার করে দিয়েছি। অনেকেই বলেছেন যে, বর্তমানে যিনি রয়েছেন জার্মানির, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ওই পদ ছেড়ে তিনি কাজ করেছেন। আসলে বিষয়টা হচ্ছে, উনি গ্রিন পার্টির নেতা ছিলেন। উনার দল গ্রিন পার্টি নির্বাচনে হেরে যায়, যে কারণে তিনি আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেননি।

সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির বিজয় বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করেন খলিলুর রহমান। তি‌নি বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ়ভাবে, অবিচলভাবে ও বিরোধহীনভাবে আমাদের সমর্থন না করতেন, তাহলে ১০ বছরের এই রাস্তা ১০ সপ্তাহে আমরা অতিক্রম করতে পারতাম না। এই বিজয় আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করছি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস। সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দুই প্রার্থীকে ভোট দেন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১৯০টি। খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং সাইপ্রাসের কাকাউরিস ৯১ ভোট পেয়েছেন। ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়েছেন খলিলুর রহমান।

দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তিনি এক বছরের জন্য সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন।