প্রকাশিত সময় :
০৬:১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
৭
আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার বড় পরিবর্তন আসছে। প্রথমবারের মতো দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ১৪টি অভিন্ন বিষয়ে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশ্নপত্রের মান ও কঠিনতার পার্থক্যজনিত বৈষম্য কমিয়ে মূল্যায়নে সমতা আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতদিন বিভিন্ন বোর্ড আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আয়োজন করত, ফলে প্রশ্নের মান ও কঠিনতা নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক তৈরি হতো। নতুন ব্যবস্থায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত অভিন্ন বিষয়ে একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেবে। তবে সিলেবাসের ভিন্নতার কারণে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবার এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন থেকে ঢাকাসহ সব শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেবে। একইভাবে আলিম পরীক্ষার্থীরাও সাধারণ বোর্ডের সঙ্গে মিল থাকা বিষয়গুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অংশ নেবে।
শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বোর্ডভেদে প্রশ্নের সহজ–কঠিনতার পার্থক্য দূর করতে এবার একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। একই দেশে এসএসসি ও এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আলাদা প্রশ্নে হওয়া উচিত নয়।”
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আইসিটি, বিজ্ঞানসহ মোট ১৪টি সাধারণ বিষয়ে তাদের সিলেবাস সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে। তাই এসব বিষয়ে এবার একই প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে।
মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়ন আরও সমন্বিত ও সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, তাদের কারিকুলাম সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় তারা আপাতত এই ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে না। ভবিষ্যতে সিলেবাস সমন্বয় হলে তারা অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় আসতে পারে।
এদিকে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা আবহাওয়ার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে—৯টি সাধারণ, ১টি মাদ্রাসা এবং ১টি কারিগরি বোর্ড।
এবারের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে, যা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ২৪ জুন শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে।