বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের সব সমুদ্রবন্দরের ওপর ফের অবরোধ আরোপ ও এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলেপ্রতি ১.৪৬ ডলার বা ১.৭২ শতাংশ বেড়ে ৮৬.১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলে ১.১১ ডলার বা ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ৮০.৪০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। দুই পরাশক্তির এমন মারমুখী অবস্থানের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন অস্থিরতা ও সংঘাত যদি আরও তীব্র আকার ধারণ করে ও পারস্য উপসাগরের মূল জ্বালানি অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতেই তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে, যা মূলত বিশ্ববাজারের এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বৈশ্বিক দামে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের সব সমুদ্রবন্দরের ওপর ফের অবরোধ আরোপ ও এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলেপ্রতি ১.৪৬ ডলার বা ১.৭২ শতাংশ বেড়ে ৮৬.১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলে ১.১১ ডলার বা ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ৮০.৪০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। দুই পরাশক্তির এমন মারমুখী অবস্থানের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন অস্থিরতা ও সংঘাত যদি আরও তীব্র আকার ধারণ করে ও পারস্য উপসাগরের মূল জ্বালানি অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতেই তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে, যা মূলত বিশ্ববাজারের এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বৈশ্বিক দামে।

সূত্র: আল-জাজিরা