শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণ: ফেল থেকে পাস ৪,৫৮৫, নতুন জিপিএ-৫ ৩,০৭৯ জন

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর ও গ্রেড পরিবর্তনের ফলে আরও অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফলেও পরিবর্তন এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে।

এবার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করতে পারায় মোট আবেদনের সংখ্যা পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় বেশি হয়েছে।

সব মিলিয়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি লিখিত এবং ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি ব্যবহারিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আওতায় আসে।

এবারের পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায়ও ছিল বড় পরিবর্তন। আগের নিয়মে মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না, নম্বর কোনো ঘরে তোলা হয়নি কি না বা কোনো প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়নের বাইরে রয়ে গেছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো। এবার এসব যাচাইয়ের পাশাপাশি আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত ও ব্যবহারিক মিলিয়ে ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। কুমিল্লা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, যশোর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডেও বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও ছিল উল্লেখযোগ্য আবেদন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর এবার প্রকাশ হলো কাঙ্ক্ষিত পুনঃনিরীক্ষণের ফল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণ: ফেল থেকে পাস ৪,৫৮৫, নতুন জিপিএ-৫ ৩,০৭৯ জন

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর ও গ্রেড পরিবর্তনের ফলে আরও অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফলেও পরিবর্তন এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে।

এবার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করতে পারায় মোট আবেদনের সংখ্যা পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় বেশি হয়েছে।

সব মিলিয়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি লিখিত এবং ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি ব্যবহারিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আওতায় আসে।

এবারের পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায়ও ছিল বড় পরিবর্তন। আগের নিয়মে মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না, নম্বর কোনো ঘরে তোলা হয়নি কি না বা কোনো প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়নের বাইরে রয়ে গেছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো। এবার এসব যাচাইয়ের পাশাপাশি আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত ও ব্যবহারিক মিলিয়ে ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। কুমিল্লা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, যশোর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডেও বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও ছিল উল্লেখযোগ্য আবেদন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর এবার প্রকাশ হলো কাঙ্ক্ষিত পুনঃনিরীক্ষণের ফল।